ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় তদন্তে যুক্ত হয়েছে নতুন মোড়। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক অনুমান, এটি পরিকল্পনামাফিক হামলা ছিল না। গাড়িতে থাকা সন্দেহভাজন আতঙ্কে ভুল করে বিস্ফোরক সক্রিয় করে ফেলেছিল।
এই ঘটনার কয়ের ঘণ্টা আগেই ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক রাসায়নিক উদ্ধার এবং সারাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান হয়। তদন্তকারী সংস্থার একাংশ মনে করছে, দিল্লি ও ফরিদাবাদের দুই ঘটনার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক শাহিন শাহিদকে জেরা করে মিলেছে দুই ঘটনার যোগসূত্রের ইঙ্গিত।
ডাঃ শাহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই চার চিকিৎসক ফরিদাবাদের ওই কলেজের মাধ্যমেই একে অপরকে চেনেন। নিয়মিত বৈঠকে উমর নাকি দেশে বড়সড় বিস্ফোরণের পরিকল্পনার কথা বলতেন। গত দু’বছর ধরে তারা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জোগাড় করছিলেন।
কতৃপক্ষের অনুমান, এই কারণেই সন্দেহভাজনরা লুকিয়ে পড়ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্থান পরিবর্তন বা বিস্ফোরক সরানোর সময়ই গাড়ির ভিতরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে গেছে।
তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল বিস্ফোরণের আগে ডাঃ উমর মহম্মদের সঙ্গে লালকেল্লা এলাকাটি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে আরও বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। লালকেল্লা এলাকা সেই প্রস্তুতিরই অংশ ছিল। আর এ জন্যই অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল বিস্ফোরণের আগেই ডাঃ উমর মহম্মদের সঙ্গে লালকেল্লা এলাকায় রেকি (আক্রমণের আগে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করা) করেতে গিয়েছিলেন।
সূত্রের খবর, মুজাম্মিলের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে জেরা করা হয়। তদন্তে মুজাম্মিল স্বীকার করেছেন যে, শুধু প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়, দীপাবলির সময়ও কোনও ভিড়ভাট্টা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং অভিযুক্ত উমর মহম্মদ দু’জনেই ফারিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী ছিলেন। সোমবার সন্ধেয় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে যে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেই গাড়িতেই উমর ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ক্রাইম স্পতে কোনও গর্ত বা ধাতব টুকরো ছড়িয়ে ছিল না, যা সাধারণত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এছাড়া, বিস্ফোরিত হওয়া হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে তিনজন যাত্রী ছিলেন। তারা ছাড়াও আহতদের শরীরে কোনও ছিদ্র বা গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা এই ধরনের বিস্ফোরণে অস্বাভাবিক। সব মিলিয়ে এসব তথ্য থেকেই তদন্তকারীরা বলছেন, এটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ হতে পারে, ইচ্ছাকৃত বা আত্মঘাতী হামলা নয়।
লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ হওয়া গাড়িটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও উমর ঘাতক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, বিস্ফোরণের সময় কমলা রঙের আগুন দেখা গেছে যাতে মনে করা হচ্ছে সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর ফরিদাবাদ মডিউলের সূত্র প্রথম মেলে, এসময় শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে চিকিৎসক আদিলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করলে উঠে আসে শাহিন, মুজাম্মিল ও উমরের নাম। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে, দেশের বড় বড় শহরে হামলার পরিকল্পনা ছিল। সেইজন্য কয়েক মাস ধরেই বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছিল। তবে হয়তো তাড়াহুড়ো বা ভুলবশত আগেই বিস্ফোরণ ঘটে যায়, যার ফলে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
সুলতানা দিনা/