ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা, ভাগ্নি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুর্নীতির এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্রিটিশ এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের ১০ বছরের সাজা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশে সাজা হলে এমপি পদ ছাড়ার জন্য চাপের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
গতকাল রবিবার (৩০ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে একথা জানায়।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে তার মা শেখ রেহানা (৭০), বড় ভাই রাদওয়ান (৪৫) ও ছোট বোন আজমিনার (৩৫) জন্য প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। তবে টিউলিপ সিদ্দিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ওই মামলায় টিউলিপের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। কারণ গত বৃহস্পতিবার একই ধরনের মামলায় তার খালা শেখ হাসিনা দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২১ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মামলায় যদি টিউলিপ দোষী সাব্যস্ত হন এবং কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে যুক্তরাজ্যে তাকে এমপি পদ ছাড়ার জন্য নতুন করে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এর আগে গত জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর তাকে সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়তে হয়েছিল।
গত সপ্তাহে শিরি ব্লেয়ার কেসির নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী একটি যৌথ চিঠিতে বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা ‘সাজানো ও অন্যায্য’।
চিঠিটি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিকের অনুপস্থিতিতে অযৌক্তিকভাবে বিচার করা হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করে না। সূত্র: ডেইলি মেইল