ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি শিবচরে দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রংপুরে মিনিবাসের চাকা ফেটে নিহত ১, আহত ৩৪ সালথায় মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে এলো অত্যাধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে চাচাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা গ্রেপ্তার ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল চট্টগ্রামে পিডিবি প্রকৌশলী লাঞ্ছিত
Nagad desktop

আসাদ পতনের এক বছর, সিরিয়ায় উল্লাস

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২২ পিএম
আসাদ পতনের এক বছর, সিরিয়ায় উল্লাস
গত শুক্রবার সিরিয়ার হামা শহরে আসাদ পতনের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করতে বাসিন্দারা সমবেত হয়েছেন। ছবিটি প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

আজ ৮ ডিসেম্বর। গত বছরের এই দিনে পতন ঘটে সিরিয়ার দীর্ঘ দুই যুগের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের শাসনের। তার পতনের বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে সিরিয়া। রাজধানী দামেস্কসহ সারা দেশে বইছে আনন্দের বন্যা। আসাদ শাসনের অবসান এবং সিরিয়ার মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে গত দুদিন ধরে রাজধানী দামেস্কের উমাইয়া স্কয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে বড় জমায়েত করেছে সিরিয়ানরা।

বহু বছর ধরে কঠোর পুলিশি রাষ্ট্র এবং নির্যাতন ও গুমের জন্য কুখ্যাত আসাদ সরকারের পতন সিরিয়ার বহু মানুষের জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলার মতো এক স্বস্তি এনে দিয়েছে। ১৯৭০ সালে বাশারের পিতা হাফেজ আল আসাদ ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দশকগুলোর মধ্যে এমন স্বস্তির অভিজ্ঞতা হলো জনগণের।

দশ বছর নির্বাসনে থাকার পর সৌদি আরব ও মিসর থেকে মাত্র এক সপ্তাহ আগে দামেস্কে ফিরে এসেছেন ২৪ বছর বয়সী আবু তাজ। তার কাছে দেশের এই পরিবর্তন অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি এখন জনগণের জন্য।

দামেস্কের প্রধান মিলনস্থল উমাইয়া স্কয়ারের বাইরে, উমাইয়া মসজিদের কাছে এবং মারজেহ স্কয়ারে এখন সবুজ, সাদা এবং কালো পতাকা চোখে পড়ার মতো। দেইর এজ জোর থেকে আসা ২২ বছর বয়সী ওমরান নয় বছর পর তার মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন । তিনি বলেন, আমরা সবাই খুব খুশি আল্লাহর রহমতে।

রাজধানী দামেস্কে গাড়ি র‌্যালি করে আসাদ পতনের বর্ষপূর্তিতে সিরিয়ানদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

আসাদ শাসনের পতনের পর প্রথমদিকে ইরাক বা লিবিয়ার উদাহরণের মতো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, এক বছর পর সেই পরিস্থিতিতে উন্নতি এসেছে। দেশটির আইনজীবী রাহেমা আল-তাহা বলেন, প্রথমদিকে নিরাপত্তা কম থাকলেও গত এক বছরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছুই ভালো হচ্ছে এবং প্রতি মাসে আমরা নতুন কিছু দেখছি। 

অবকাঠামো ও পরিষেবায় দ্রুত উন্নতি

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে এবং মৌলিক পরিষেবাগুলো প্রদানে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বেতন ও কর্মঘণ্টায় সংকট দূর করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ২ লাখ ৫০ হাজার সিরিয়ান পাউন্ড (প্রায় ১৫ ডলার) থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার সিরিয়ান পাউন্ডে (৬৫ ডলার) উন্নীত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবায়ও নজর দেওয়া হয়েছে। দামেস্ক, আলেপ্পো, হোমস এর মতো বড় শহরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবারাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। 

দামেস্কের বাসিন্দা ক্রিস তুমের মতে, আসাদ সরকারের অধীনে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন কার্যত অচল ছিল। তিনি বলেন, এখন আমরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গাড়ি খুঁজে পাই। গ্যাসোলিন এবং ডিজেলের সহজলভ্যতার কারণে জীবন স্বাভাবিক হয়েছে। সিরিয়া আরও ভালো জায়গায় যাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার উপলব্ধি ও নিরাপত্তার আশ্বাস

আসাদ সরকারের অধীনে সিরিয়ার জনগণের ওপর যে অন্ধকার ছায়া ফেলেছিল, সেই কুখ্যাত কারাগারগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৪ বছর পর সিরিয়ায় ফেরা জেইন আল-আবিদিন দিয়ে বলেন, অতীতে মতামত প্রকাশ করা নিষিদ্ধ ছিল। আজ আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে আমাদের কণ্ঠস্বর শোনাতে পারি। তিনি আরও যোগ করেন, ১৪ বছর পর দেশে ফিরতে পারাটাই এক বিপ্লব।

দামেস্কের আরেক বাসিন্দা মরিয়ম আল-খালিদ জানান, নিরাপত্তার পরিবেশ অতীতের তুলনায় তুলনাহীনভাবে উন্নত হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল একটি ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল এমন একটি শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করা হয়েছিল। আসাদ আমলে কোনো সুপারিশ ছাড়া এটা অসম্ভব ছিল। তিনি আরও বলেন, দেশটি সত্যিই সুস্থ হয়ে উঠছে।

২০১২ সালের পর দামেস্ক ভ্রমণ করা খালিদ আল-খাতিব বলেন, আসাদ শাসনের সময় নিরাপত্তা নিয়ে যে নিপীড়ন ছিল, তাতে মনে হতো যেন জেলে আছি। শহর ছেড়ে যাওয়া ছিল একটি স্বপ্ন। আজ সর্বত্র বিশ্বাস, সম্মান, মর্যাদা রয়েছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ডলারের দর ১৭ হাজার সিরিয়ান পাউন্ড থেকে কমে ১২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সবকিছুই ভালো হচ্ছে। সিরিয়া সেরাটা পাওয়ার যোগ্য।

যদিও মার্চে সিরিয়ার উপকূল বরাবর এবং জুলাই মাসে সুয়াইদায় কিছু সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা গিয়েছিল, যেখানে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তবে সরকার পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেছিল। সিরিয়ার জনগণ এখন আশাবাদী যে তাদের দেশ একটি মুক্ত, নিরাপদ জাতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি জনগণ নিজেই। সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

মাহফুজ/

 

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ১৮টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের দাবি, সেখানে অবস্থানরত এবং হামলার জন্য প্রস্তুত থাকা মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি সাইট এবং কুয়েতের দুটি বিমান ঘাঁটিও এই হামলার শিকার হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত এক ডজন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'চুক্তির সমঝোতায় আসতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে, এখন তাদের এর মূল্য চুকাতে হবে।'

মার্কিন হামলার পরপরই ইরান কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী সব ধরনের আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে। এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে তাৎক্ষণিকভাবে ২ ডলারেরও বেশি বেড়েছে।

কুয়েত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং জর্ডান ও বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/অমিয়/

কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন
ছবি: সংগৃহীত

কানাডা সরকার একটি নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল উত্থাপন করেছে। যার মধ্যে উল্লেখ  করা হয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম প্ল্যাটফর্মগুলো এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে পারে।

এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবটকে আরও নিরাপদ করতে একটি ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিটাল রেগুলেটর) গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এই সংস্থা এআই সেবার জন্য নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল সেফটি অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের  পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো কানাডা।
 
এক বিবৃতিতে কানাডার  আইডেন্টিটি ও কালচারবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলার বলেন, 'অনলাইন ক্ষতির পরিণতি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। শিশুদের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই তুচ্ছ বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না'।

আইনটি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ৭২ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।

মার্ক মিলার বলেন,'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এবং এআই চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নকশা করা হয়েছে। এগুলো শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়ক নয়। বরং কানাডার বহু তরুণ-তরুণী মধ্যে উদ্বেগ একাকীত্ব, বিষণ্নতা এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার উৎস হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, 'এ আইন তরুণ কানাডিয়ানদের জন্য আরও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তাদের সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করবে'।
 
বিলটি সংসদে উত্থাপনের কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করে।

তাদের অভিযোগ, হামলাকারীকে ২০২৫ সালের জুন মাসে চ্যাটজিপিটিতে উদ্বেগজনক কথোপকথনের কারণে নিষিদ্ধ করার পরও প্রতিষ্ঠানটি জানত যে সে হামলার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু পুলিশকে সতর্ক করেনি।

বিল সি-৩৪-এর প্রস্তাবে কানাডা সরকার উল্লেখ করেছে, অনলাইনে ক্ষতিকর আচরণ শুধু ব্যবহারকারীদের কর্মকাণ্ডের ফল নয়, বরং ডিজিটাল সেবাগুলোর নকশা ও পরিচালনা পদ্ধতির সঙ্গেও তা গভীরভাবে জড়িত।

অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশ ব্যবস্থা, সম্পৃক্ততাভিত্তিক ফিড, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু হওয়া (অটোপ্লে) এবং অনন্ত স্ক্রলিংয়ের মতো বৈশিষ্ট্য ক্ষতিকর কনটেন্টকে আরও ছড়িয়ে দিতে পারে, তাতে করে তরুণ ব্যবহারকারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সরকারের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনলাইনে ক্ষতির ব্যাপ্তি, গতি ও তীব্রতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল সেবাগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে পারেনি। এ প্রেক্ষাপটে বিলটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই চ্যাটবট সেবাগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের সেবায় বিদ্যমান ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে। ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বয়সোপযোগী ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নকশা বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্লক বা রিপোর্ট করার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারকারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করা হলে অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণের বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আইন কার্যকরের এক মাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো প্রায় ৫০ লাখ কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের কারিগরি এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, বিলটি আইন হিসেবে পাস হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। আইন পাস হওয়ার পর ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনে আরও প্রায় ১৮ মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।

ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অন্যদিকে গ্রিস ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হবে।

খাদিজা রুমি/

হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের কঠোর নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ গোপনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অজান্তেই এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ২২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে এই বিপজ্জনক জলসীমা পার হতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি সহায়তা করে বলে তিনি জানান।

ইরান অন্ধকারেই ছিল: ট্রাম্প

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘গত মাসে আমি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করার জন্য একটি গোপন মিশন পরিচালনার নির্দেশ দিই।’

পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, এই গোপন প্রচেষ্টার ফলে ১০ কোটি ব্যারেলেলেরও বেশি তেল হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। লাইট নিভিয়ে মাঝরাতে পার হয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ইরান এই অভিযানের ব্যাপারে কিছুই জানত না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও করেন, ‘আমরা গত রাতেও সম্পূর্ণ অন্ধকারে ২২টি জাহাজ পার করে এনেছি। কারণ ওদের (ইরানের) কোনো রাডার ব্যবস্থা সচল নেই, আমরা আগেই সেগুলোকে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন মিশন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

মে মাসের শুরুতে এই রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন প্রশাসন। তবে মিত্রদেশগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় মাত্র একদিন পরেই ট্রাম্প সেটি বাতিল ঘোষণা করেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মে মাসের শেষের দিকে মার্কিন বাহিনী আবারও গোপনে এই তৎপরতা শুরু করে। যদিও সে সময় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নৌসেনা কর্তৃক পাহারা দেওয়ার খবরটিকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দেয়।

তবে প্রেসিডেন্টের আজকের এই স্বীকারোক্তির পর সেন্টকমের সেই লুকোচুরি এবং মার্কিন গোপন অভিযানের বিষয়টি একদম স্পষ্ট হয়ে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবির পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ইরান যদি এই গোপন অভিযানের খবরকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে, তবে জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর পাল্টা বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, যা চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ রূপ দেবে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, পাল্টা জবাবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক চরম ও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলা

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কমান্ডার-ইন-চিফের সরাসরি নির্দেশে বুধবার মার্কিন বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও মেরিন ক্রপস যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়, যা আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন সেনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ, জাহাজে আঘাত

মার্কিন হামলার জবাবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইতোমধ্যে অবৈধভাবে প্রণালীটি পার হওয়ার চেষ্টা করায় দুটি জাহাজে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি নৌ কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত ও বাহরাইনে সাইরেন

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, মার্কিন হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তারা কুয়েতের ‘আলি আল-সালেম’ ও ‘আহমেদ আল-জাবের’ এবং বাহরাইনের ‘শেখ ঈসা’ বিমান ঘাঁটাসহ মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বাহরাইনজুড়ে জরুরি বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়। বাহরাইন সরকার দেশটির নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত আলটিমেটাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি নেতাদের অনুরোধে সাময়িকভাবে বোমা হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরান যদি দ্রুত আমেরিকার দেওয়া শর্তে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে পরবর্তী দিন থেকে আবারও স্মরণকালের ভয়াবহতম বোমা হামলা শুরু করা হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেই তার সাথে যোগাযোগ করে বোমাবর্ষণ বন্ধের অনুরোধ জানান। যদিও ইরান এই ধরণের যোগাযোগের দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেন এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।

অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব

দুই পরাশক্তির মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ২ ডলার বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ইউএস ক্রুড উভয়ের দামই ২ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে যথাক্রমে ৯৪ ও ৯০ ডলার পার হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি এবং অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার সূচক লেনদেনের শুরুতেই বড় ধরনের পতনের সম্মুখীন হয়। যা পরবর্তীতে সামান্য পুনরুদ্ধার হলেও বাজার এখনো চরম অস্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করেন, দুই পক্ষ যদি এখনই শান্ত না হয়, তবে এই সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

পূর্বসূরিদের এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকি নিচ্ছে ইরানের নতুন নেতৃত্ব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
পূর্বসূরিদের এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকি নিচ্ছে ইরানের নতুন নেতৃত্ব
ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করলে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিশোধের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ইরান তখন ইরাকে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল, যাতে মার্কিন সেনারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সেই হিসাব-নিকাশ বদলাতে শুরু করেছে।

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলে ইরানের নতুন হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরান কয়েক দশক ধরে প্রক্সি গোষ্ঠী, গোপন অভিযান এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসা সংঘাতের নতুন সীমারেখা নির্ধারণের চেষ্টা করছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান এই বার্তা দিয়েছে যে, তাদের ‘চূড়ান্ত সীমা’ আর শুধু নিজস্ব সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে দেশটির নেতৃত্ব আগের তুলনায় আরও বড় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘আগের তুলনায় বেশি যুক্তিবাদী’ ও ‘যৌক্তিক’ বলেছেন।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তেহরান বারবার অভিযোগ করে আসছে– ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ওই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করছে। পরোক্ষ আলোচনা চলতে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানান, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল রাজধানী বৈরুতসহ দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বার হামলা চালিয়েছে।

জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। তেহরান সতর্ক করেছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে এবং তা পারস্য উপসাগরের বাইরে বিস্তৃত করতে প্রস্তুত। এমন পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের ওপর হামলা ইরানের কৌশলে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তেহরান বলেছে, তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানও সরাসরি ইরানি প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত সোমবার বলেন, ‘কাগজে-কলমে যে যুদ্ধবিরতি ছিল, তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছি। আস্থা অর্জনের প্রকৃত সদিচ্ছা না দেখা পর্যন্ত ইরানের প্রতিক্রিয়া একই থাকবে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরান কখনোই এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না যেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যাবে। আর বলবে তারা যুদ্ধবিরতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরানের নতুন নেতৃত্ব ধীরে ধীরে সেই সতর্ক ও প্রতিক্রিয়াশীল নীতি থেকে সরে আসছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কৌশলের ভিত্তি ছিল। কেবল প্রতিরোধ ও ধৈর্যের ওপর নির্ভর না করে তারা এখন সামরিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে গড়ে তুলতে বেশি আগ্রহী।

সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল- উভয়কেই কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তারা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। নিজেরা এগিয়ে আছে বলে মনে করছে এবং যুদ্ধবিরতিতে তাদের স্বার্থ দেখছে না।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, ‘কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো আঞ্চলিক শক্তি ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও ইচ্ছা দেখিয়েছে।’

হামলার পর ইরান সতর্ক করেছে, তারা উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়াতে প্রস্তুত।

ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘ইরান এখন এমন একটি নতুন সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যার মাধ্যমে শুধু ইরান নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পদক্ষেপও নিরুৎসাহিত করা যাবে।’

তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ক্রমেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, যা কূটনীতির মাধ্যমে অর্জন সম্ভব নয়, তা শেষ পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও অর্জন করা যেতে পারে।

ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্পর্ককে পরীক্ষা করছে। চলমান যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যকে কাজে লাগাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতের বিরোধিতা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তি হাতের নাগালে রয়েছে এবং এও দাবি করেছেন, তা মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের ‘কোনো বিকল্প থাকবে না’। সূত্র: সিএনএন