ইসরায়েলি সামরিক প্রধান জেনারেল ইয়াল জামির দাবি করেছেন, গাজায় নির্ধারিত “হলুদ রেখা” এখন থেকেই ইসরায়েলের “নতুন সীমান্ত” হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে জাতিসংঘ এই দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, গাজার সীমানা পরিবর্তনের কোনো বৈধতা নেই এবং এটি শান্তিচুক্তির মূল চেতনার পরিপন্থী।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের ‘নতুন সীমান্ত’ ঘোষণা
গত রবিবার গাজার বেইত হানুন ও জাবালিয়া এলাকায় সামরিক পরিদর্শনকালে জামির বলেন, ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাজার যে অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান ধরে রেখেছে, সেটিই “হলুদ রেখা” এবং এটিকে “নতুন সীমান্তরেখা” হিসেবে ধরা হবে।
তার ভাষায়, “হলুদ রেখা একটি অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষাবলয় এবং আমাদের কমিউনিটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন অপারেশনাল সীমা।”
তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকায় “অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এসব এলাকায় তারা “থেকে যাবে”।
জামির আরও বলেন, সেনাবাহিনী হামাসকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে না এবং “অপ্রত্যাশিত হামলার দৃশ্যপট” মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ইসরায়েলের নতুন বহু-বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হলুদ রেখা অতিক্রম করার অভিযোগে ইসরায়েলি সেনারা ইতোমধ্যে বহু ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে। ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি গুলিতে ৩৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭০ হাজার ৩৬০ জনে।
জামির আরও বলেন, গাজায় নিহত শেষ ইসরায়েলি জিম্মি, র্যান গ্ভিলির মরদেহ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত এই মিশন সম্পূর্ণ হবে না। হামাস জীবিত থাকা ২০ জন জিম্মি এবং মৃত ২৭ জনের মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে, তবে গ্ভিলির মরদেহ এখনো ফেরত আসেনি।
জাতিসংঘের কঠোর প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তারা গাজার প্রায় ৫৮ শতাংশ এলাকা থেকে সরে এসেছে, তবে হলুদ রেখার ভেতরের অংশে এখনো অবস্থান রাখছে। শান্তিচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত গাজার সব এলাকা থেকে সরে যাওয়ার কথা।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এই বক্তব্য আমার কাছে ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার চেতনা ও শর্তাবলীর সম্পূর্ণ বিরোধী মনে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গাজার বা ইসরায়েলের সীমানা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিপক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করি।” সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/