থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চতুর্থ দিনে পৌঁছেছে। দুই দেশই একে অন্যকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত টেলিফোন আলাপের অপেক্ষায় রয়েছে।
থাই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভারী লড়াইয়ের মধ্যে তিনজন থাই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন—সংঘর্ষ শুরুর পর এই প্রথম বেসামরিক হতাহতের ঘটনা। এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত আটজন থাই সৈন্য নিহত ও আরও ৮০ জন আহত হয়েছে।
ক্যাম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তের অপর পাশে ১১ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭৫ জন।
ক্যাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে থাই সামরিক বাহিনী বহুবার তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তারা পার্সাত, বানতিয়াই মিনচে ও ওদ্দার মিনচে প্রদেশে ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
এক হামলায় তারা দাবি করেছে, থাই সৈন্যরা বানতিয়াই মিনচের প্রেই চ্যান গ্রামে বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছে।
অভিযোগে ক্যাম্বোডিয়া জানায়, থাই বাহিনী খনার মন্দির এলাকায় গোলা নিক্ষেপ করেছে এবং ও'সমাচ এলাকায় আর্টিলারি ফায়ার চালিয়েছে।
ক্যাম্বোডিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, থাইল্যান্ড সব শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করুক এবং ক্যাম্বোডিয়ার ভূখণ্ড থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করুক, যেন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে না পড়ে।”
গতকাল বুধবার ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত সীমান্তের এক ডজনেরও বেশি স্থানে সংঘর্ষ হয়। জুলাই মাসের পাঁচ দিনের সংঘর্ষের পর এবারই সবচেয়ে তীব্র লড়াই হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ক্যাম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, থাইল্যান্ডের বর্ধিত গোলাবর্ষণ এবং এফ-১৬ ও গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের হামলায় ঘরবাড়ি, স্কুল, সড়ক, বৌদ্ধ প্যাগোডা ও প্রাচীন মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যা ক্যাম্বোডিয়ার ভেতরে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
ক্যাম্বোডিয়া আরও বলেছে, থাই সেনাবাহিনী নির্বিচারে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বিশেষ করে স্কুলগুলোকে। পাশাপাশি তারা তাকরাবে ও প্রেহ ভিহিয়ার মন্দির এলাকা ধ্বংস করেছে, যা ক্যাম্বোডিয়া এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।
অভিযোগের জবাবে থাই সেনাবাহিনী বলেছে, ক্যাম্বোডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, ক্যাম্বোডিয়া প্রাচীন স্থাপনাকে সামরিক অভিযান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং সেখান থেকে থাইল্যান্ডকে আক্রমণ করেছে। তাই থাইল্যান্ড প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
সংঘর্ষ শুরু হয় গত সোমবার। বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার পাঁচটি প্রদেশে তা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি থাই ও ক্যাম্বোডিয়ান বেসামরিক মানুষ নিরাপত্তার কারণে সীমান্ত এলাকা ছেড়েছেন।
গত ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছিল যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সইয়ের পর তিনি বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারীরা “একটা এমন কাজ করেছে যা অনেকেই অসম্ভব বলেছিল।”
ট্রাম্প গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের বলেন, আরেকটি শান্তিচুক্তি আনতে তিনি আশাবাদী: “আমি মনে করি, তাদের লড়াই বন্ধ করাতে পারব।” সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/