ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের এক ব্যবসায়ী ডিএসপি (Deputy Superintendent of Police) কল্পনা ভার্মার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কল্পনা ভার্মা তাকে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলেছেন এবং ২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের টাকা, গয়না এবং মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অভিযোগগুলো রাজ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দুটি রূপ উপস্থাপন করছে।
গভীর রাত পর্যন্ত ভিডিও কল, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এবং প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভনে এই বিবাহিত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে এই নারী ডিএসপির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন তিনি।
পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ডিএসপি কল্পনা ভার্মা ২০১৭ ব্যাচের একজন পুলিশ অফিসার যিনি বর্তমানে দান্তেওয়াড়ায় কর্মরত। তিনি ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (এটিএস) এর সঙ্গেও কাজ করেছেন। ভার্মা তার কার্যভার এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির কারণে প্রায়শই খবরের শিরোনামে এসেছেন।
অতীতে, একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলের সফরের সময় তার ফোন ব্যবহার করার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন, যা তাকে অনলাইনে একটি পরিচিত নাম করে তুলেছিল। পূর্ববর্তী এই বিতর্ক সত্ত্বেও, তিনি পুলিশ বাহিনীতে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
ব্যবসায়ী দীপকের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে কল্পনা তার কাছ থেকে নগদ দুই কোটি টাকা, একটি গাড়ি, হিরের আংটি এবং লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালঙ্কার নিয়েছেন। শুধু তাই নয়—রায়পুরের ভিআইপি রোডের একটি হোটেলও কল্পনার ভাইয়ের নামে লিখে দিতে বাধ্য করা হয় তাকে, পরে সেটি কল্পনা নিজের নামে নেন।
দীপক দাবি করেন, নিয়মিত ফোন, দীর্ঘ রাতের ভিডিও কল, হোটেলে ঘনিষ্ঠ দেখা-সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে কল্পনা তাকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলেন। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পরই শুরু হয় অর্থ আদায়ের চাপ। তার স্ত্রী বরখার নামে থাকা ২২ লাখ টাকার গাড়িটিও নিয়ে নেওয়া হয়।
দীপকের স্ত্রী বরখা টন্ডন অভিযোগ সমর্থন করে বলেন, কল্পনাই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি করেছেন। দীপককে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতেন, রাজি না হলে শুরু হতো ব্ল্যাকমেল।
পরবর্তীতে দীপক খামারডিহ থানায় তোলাবাজি, ব্ল্যাকমেল এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিএসপি কল্পনা বর্মা। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তার সম্মানহানি করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো গল্প। দীপক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগও আনেন তিনি।
কল্পনার দাবি, তার বাবা ও দীপকের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ ছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে এই মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনুমতি ছাড়া তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া চ্যাট তৈরি করে তা প্রচার করা হয়েছে—যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভারতের সামাজিকমাধ্যমে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
সুলতানা দিনা/