পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাশ্মীরের ঈদগাহ ময়দানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বিবিসি জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
শরণার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক সংসদীয় আসন সংরক্ষণের বিরুদ্ধে আসন্ন নির্বাচনের আগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী সংগঠনের জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)।
কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।
তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজারও মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন নিহত হন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিয়ে একটি বিশাল বহর রাওয়ালাকোট শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বিবিসি উর্দুকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী টহল দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বহরকে রাওয়ালাকোট হয়ে মুজাফফরাবাদে যেতে দেওয়া হবে না। বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে লাউড স্পিকারে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও কমিশনার খান দাবি করেছেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটে নজরদারির জন্য হেলিকপ্টার টহল চালানো হচ্ছে।
সাশ্রয়ী মূল্যে আটা, চাল, বিদ্যুৎ এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে তা সহিংস হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবারও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ জন।
সূত্র: বিবিসি ও এনডিটিভি