ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নতুন ও আরও আধুনিক একটি বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছেন। রয়টার্সের খবর।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন ফরাসি সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, পুরোনো শার্ল দ্য গল রণতরীর পরিবর্তে এই জাহাজ তৈরি করা হবে, যা ফ্রান্সের সামুদ্রিক সক্ষমতা জোরদার করবে।
পোর্ত-আভিয়ঁ নুভেল জেনেরাসিওঁ (পিএএনজি) নামে পরিচিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় ১০ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ইউরো।
ফরাসি সরকারের মতে, ২০৩৮ সালে নতুন বিমানবাহী রণতরীটি কার্যক্রম শুরু করবে। ওই সময়েই অবসর নেওয়ার কথা ২০০১ সালে কাজে যোগ দেওয়া শার্ল দ্য গলের।
জাহাজটির পারমাণবিক চালিকাশক্তির উপাদান নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে গত বছর। আর চূড়ান্ত ক্রয়াদেশ দিতে হবে ২০২৫ সালের বাজেটের আওতায়।
ইউরোপে এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ হতে যাচ্ছে পিএএনজি। ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই রণতরী। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনীহার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গেও প্রকল্পটি যুক্ত।
ম্যাক্রোঁ আবুধাবিতে ফ্রান্সের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘাঁটিটি বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। তিনি জানান, এই বৃহৎ কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহেই নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ফ্রান্সের শিল্পভিত্তিকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।
ফ্রান্সের সামরিকমন্ত্রী ক্যাথেরিন ভোত্রাঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, ২০৩৮ সালে নতুন রণতরীটি কার্যক্রম শুরু করবে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, শার্ল দ্য গল রণতরীটি ১৫ বছরের পরিকল্পনা ও নির্মাণের পর ২০০১ সালে চালু হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ফ্রান্স। ইউরোপে যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনের সঙ্গে হাতে গোনা যে কটি দেশের বিমানবাহী রণতরী রয়েছে, ফ্রান্স সেগুলোর অন্যতম। তবে সক্ষমতার দিক থেকে ইউরোপ এখনও অনেক পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ১১টি এবং চীনের তিনটি বিমানবাহী রণতরী।
সুলতানা দিনা/