তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো জরুরি পরিস্থিতি বা সংঘাত তৈরি হলে রাশিয়া চীনকে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল যখন তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে।
গতকাল রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে লাভরভ আরও বলেন, জাপানের বর্তমান নেতৃত্ব সামরিকীকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রশাসনের অধীনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা মূলত টোকিওর প্রতি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত নভেম্বরে জাপানের পার্লামেন্টে এক অধিবেশনে সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানের ওপর চীনের যেকোনো আক্রমণ জাপানের জন্য ‘‘অস্তিত্ব রক্ষা সংক্রান্ত সংকট’’ তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনী সরাসরি যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। লাভরভের সাম্প্রতিক মন্তব্যটি মূলত জাপানের সেই অবস্থানেরই প্রতিক্রিয়া।
তাইওয়ান প্রণালীতে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে লাভরভ বলেন, ‘‘এই ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে চীনের সঙ্গে আমাদের চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। আমাদের মৌলিক নীতিগুলোর মধ্যে একটি হলো—জাতীয় ঐক্য এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন প্রদান করা।’’
দীর্ঘদিন ধরে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে বোমারু বিমান মহড়া পরিচালনা করে আসছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই কর্মকাণ্ডকে ‘‘জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট উদ্দেশ্য’’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের পর থেকেই কমিউনিস্ট শাসিত চীন এবং তাইওয়ান আলাদাভাবে শাসিত হয়ে আসছে। তবে বেইজিং এই গণতান্ত্রিক দ্বীপটিকে তাদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে গণ্য করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে একে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার অঙ্গীকার করে রেখেছে।
সাক্ষাৎকারে লাভরভ আরও বলেন, জাপান যে সামরিকীকরণের পথে হাঁটছে, সেই পথ ধরে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য পরিণতির কথা বিবেচনা করতে রাশিয়া টোকিওকে আহ্বান জানাচ্ছে।
মাহফুজ/