ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-মাহরা প্রদেশের যুব দপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওমর সুওয়াইলাম জানিয়েছেন যে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল–এসটিসির প্রত্যাহারের পর সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী ওই প্রদেশের ৯টি জেলার সব কটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে এসটিসি বাহিনী হাদরামাউত ও আল-মাহরা দখল করে নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার থেকে ইয়েমেনে নজিরবিহীন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই দুটি প্রদেশ ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক এবং এগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের সীমান্ত রয়েছে।
হাদরামাউতের গভর্নর জানান, সরকারি হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী ওয়াদি হাদরামাউত ও শাহরাহ জেলাগুলো সুরক্ষিত করার কাজ শেষ করেছে। তিনি জানান, এই বাহিনীকে এখন সিয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও জনসেবামূলক স্থাপনায় মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী মুকাল্লা শহরে প্রবেশ করেছে এবং এর রাস্তায় রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। হাদরামাউত প্রদেশের রাজধানী মুকাল্লার রিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
লড়াইয়ে অন্তত ৮০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া তথ্যমতে, গত শুক্রবার থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই ও ভারী বিমান হামলায় এসটিসির অন্তত ৮০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তাদের অন্তত ১৫২ জন সদস্য আহত হয়েছেন, ১৩০ জনকে বন্দি করা হয়েছে এবং ৫০০ জন যোদ্ধার ভাগ্য এখনো অজানা। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখল করা এলাকাগুলো পুনর্দখলের জন্য গত শুক্রবার থেকে সৌদি যুদ্ধবিমান হামলা শুরু করার পর এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল আসলে কারা
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি হলো দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, যাদের লক্ষ্য হলো আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী গত মাসে তাদের হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল এসটিসির সমালোচনা করে বলেছে, তাদের সাম্প্রতিক অঞ্চল দখল ছিল একতরফা এবং অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোর এক চরম লঙ্ঘন।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত, যেখানে মূলত ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি হুতিদের বিরোধিতা এবং সরকারি জোটে তাদের প্রতিনিধি থাকলেও তারা দীর্ঘকাল ধরে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে। এটি মূলত হুতি-বিরোধী শিবিরের ভেতরে থাকা গভীর বিভেদকেই তুলে ধরে। সূত্র: আল-জাজিরা
মাহফুজ/