ইরানের নেতারা এখন তাদের ‘শেষ দিন ও সপ্তাহ’ পার করছেন বলেই মনে করছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিখ মার্জ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিক্ষোভের জেরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। অন্যদিকে পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রচুর প্রাণহানি হয়েছে। বিক্ষোভের এখনো অবসান হয়নি।
ইরানে বিক্ষোভ শুরুটা হয় তীব্র অর্থনৈতিক সমস্যার(যেমন: মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব বা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি) সমাধানের দাবিতে শুরু হলেও পরে তা দ্রুতই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে রূপ নেয় । ইরানের শাসকগোষ্ঠী প্রথমে আন্দোলনকে ন্যায়সঙ্গত বলে আখ্যা দেন। পরে তারা জানান, এর পেছনে বিদেশি ইন্ধন রয়েছে।
বিক্ষোভের শুরুর দিকে প্রাণহানির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, সেখানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে হস্তক্ষেপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। পরে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করে দেওয়ার লক্ষ্যেই বিক্ষোভকে সহিংস করে তোলা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন ফ্রেডেরিখ মার্জ। সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা এখন এই শাসনের শেষ দিন ও সপ্তাহ প্রত্যক্ষ করছি।’ তিনি ইরানি নেতৃত্বের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘যখন কোনো শাসন কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে, তখন কার্যত সেটি শেষের পথে থাকে। জনগণ এখন এই শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’ মার্জ জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানান। ইরানের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জার্মানি ইরানের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বার্লিনই তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। সূত্র: রয়টার্স