ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পর একটি ‘স্বাধীন ইরান’ গড়ে উঠলে দেশটি তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে এবং আব্রাহাম চুক্তিকে সম্প্রসারিত করে ‘সাইরাস চুক্তি’তে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভী।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে এক বিবৃতিতে এবং এক্স এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় পাহলভী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে এবং আমেরিকা ও তার জনগণের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। ইসরায়েল রাষ্ট্রকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একটি স্বাধীন ইরান, ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে আমরা আব্রাহাম চুক্তিকে সম্প্রসারিত করে সাইরাস চুক্তির পথে এগোব।”
আরও পড়ুন: ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধী নেতা কে এই রেজা পাহলভি?
বিশ্বজুড়ে সব বন্ধুদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতে পাহলভী বলেন, বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের “জোয়ালের নিচে” থাকা ইরানকে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে এক করে দেখা হয়। কিন্তু ইসলামি শাসনের আগে যে “আসল ইরান” ছিল, সেটি ছিল “সুন্দর, শান্তিপ্রিয় ও সমৃদ্ধ” একটি দেশ।
তিনি বলেন, সেই ইরানই একদিন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের “ছাইয়ের ভেতর থেকে আবার উঠে দাঁড়াবে”।
পাহলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ইরান দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রতি সব ধরনের সমর্থন প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে এবং মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধ ও উগ্র ইসলামবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হবে।
তিনি বলেন, “ইরান এই অঞ্চলে একটি বন্ধু রাষ্ট্র এবং স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করবে। বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আমরা হব দায়িত্বশীল অংশীদার।”
দেশটির বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদের কথা উল্লেখ করে পাহলভী বলেন, ইরান একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত হবে।
শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করবে। অর্থপাচার দমন করা হবে, সংগঠিত দুর্নীতি ভেঙে দেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আসবে।
নির্বাসিত যুবরাজ আরও বলেন, ইরানি জনগণ শিক্ষিত ও আধুনিক। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি প্রবাসীরা দেশের “অব্যবহৃত” অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।
পাহলভীর ভাষায়, “এটি কোনো বিমূর্ত কল্পনা নয়; এটি একটি বাস্তব ও ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গি যা জাতীয় স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য এখনই ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সময়। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা শুধু আমার জনগণের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে না, বরং পুরো অঞ্চল ও বিশ্ব উপকৃত হবে।”
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ চলছে এবং শাসকগোষ্ঠী কঠোর দমন–পীড়নের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করছে।
এদিকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের কথা জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাহলভীর নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি মানুষ হিসেবে ভালো মনে হয়, কিন্তু নিজের দেশে তিনি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবেন, তা আমি নিশ্চিত নই। আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। তার দেশ তাকে নেতৃত্ব হিসেবে মেনে নেবে কি না, আমি জানি না—যদিও যদি তারা মেনে নেয়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।” সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
মাহফুজ/