ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের তীব্র কূটনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাই এর মূল কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সৌদি আরবের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান শেষ মুহূর্তে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলা না চালাতে রাজি করিয়েছে। তাদের বার্তা ছিল—ইরানকে অন্তত ‘সদিচ্ছা দেখানোর একটি সুযোগ’ দেওয়া উচিত।
এই তিন দেশ ট্রাম্পকে সতর্ক করে জানায়, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ সহজ বা সীমিত হবে না।
সূত্রের ভাষায়, ইরানের পাল্টা জবাব গত বছর কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হওয়া হামলার মতো সহজ হবে না; বরং তা আরও কঠোর ও ব্যাপক আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ ইরানে হামলার কাজে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে সেসব দেশও ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। এর জেরেই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখতে উঠেপড়ে লাগে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি ওই কর্মকর্তা বলেন, “ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—এ বিষয়ে আমরা ওয়াশিংটনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।”
তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে একাধিক দফা যোগাযোগ হয়েছে এবং এখনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরিবর্তন আসে। ট্রাম্প পরে জানান, তিনি ‘অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না।
আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে নিরাপত্তা সতর্কতা কমানো হয়েছে
এরই মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা কমানো হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘাঁটি থেকে যেসব মার্কিন যুদ্ধবিমান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে আবার ঘাঁটিতে ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে যেসব মার্কিন সদস্যকে সাময়িকভাবে ঘাঁটি ছাড়তে বলা হয়েছিল, তাদের একটি অংশকেও ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুমকি দিয়েছিল। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে। এই বাস্তবতায় সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে গড়ানো থেকে আপাতত ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: আল আরাবিয়া, রয়টার্স
মাহফুজ/