যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য হামাস নেতারা এবং গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এবং তাদের গণহত্যামূলক যুদ্ধ চলতে থাকায় এই যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গাজার সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন এবং দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধানের এক উপদেষ্টা গতকাল বৃহস্পতিবার আল-জাজিরাকে বলেন, কায়রোর আলোচনায় মূলত রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করা, মিসরীয় সীমান্তে জমে থাকা ত্রাণসামগ্রীর গাজায় প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
তাহের আল-নুনু বলেন, গাজায় শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য হামাসকে মধ্যস্থতাকারী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি যা সম্মত হয়েছে তা বাস্তবায়নে নেওয়া ‘বড় ধরনের প্রচেষ্টার’ প্রশংসাও করেন।
আল-নুনু আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ করছে যেন সীমান্ত খুলে দেওয়া যায়, ত্রাণ প্রবেশ করতে পারে এবং দখলদার বাহিনী গাজা উপত্যকা থেকে সরে যায়।
তবে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা কান জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ গাজার পূর্বাঞ্চলের একটি বাফার জোনকে কৌশলগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
বর্তমানে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ৫০ শতাংশেরও বেশি অংশ ইসরায়েলের সামরিক দখলে রয়েছে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতাদের সঙ্গে বুলগেরীয় কূটনীতিক ও রাজনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভেরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রধানও হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১৫ জন বিশ্বনেতার নাম ঘোষণা করতে পারেন, যারা এই অন্তর্বর্তী সংস্থার সদস্য হবেন।
ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ গাজা পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, গাজার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পশ্চিম তীরে প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটির (পিএ) অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।
এক যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, তুরস্ক ও কাতার ওই ঘোষণাকে ‘গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করা এবং মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করে।
তারা গাজা শাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানায়। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথ। এই টেকনোক্র্যাটিক কমিটির দায়িত্ব হবে গাজায় বসবাসরত ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে জনসেবা দেওয়া। তবে তাদের সামনে রয়েছে বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন, বিশেষ করে কমিটির কার্যক্রম ও অর্থায়ন নিয়ে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে বহু বছর লাগবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত খুব অল্প অর্থই দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্যান্য দেশ। সূত্র: আল-জাজিরা