সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে দেশটির বড় বড় ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলো নাটকীয়ভাবে কুর্দি বাহিনীর হাত থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সেনাবাহিনী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) কার্যত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী তাদের ঘাঁটিগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সিরীয় সেনাবাহিনী এবং তাদের মিত্র আরব গোত্রগুলো কয়েক দিনের অভিযানে দেইর আজ জোর ও রাক্কা প্রদেশে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
দেইর আজ জোর প্রদেশের ফোরাত নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত তেল খনিগুলো ছিল কুর্দি বাহিনীর আয়ের প্রধান উৎস। স্থল অভিযানের মুখে কুর্দিরা দেশটির সর্ববৃহৎ ‘আল ওমর’ তেলক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘কোনিকো’ গ্যাস ফিল্ড ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় থাকা এই খনিগুলো এখন পুরোপুরি দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবকা শহর এবং সিরিয়ার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ইউফ্রেটিস বাঁধ’ এখন সরকারি সেনাদের দখলে। অভিযানের মুখে এসডিএফ বাহিনী ফোরাত নদীর ওপর থাকা দুটি প্রধান সেতু এবং রাক্কা শহরের প্রধান পানির পাইপলাইন ধ্বংস করে দিলেও সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি। বর্তমানে কুর্দি যোদ্ধারা আল-হাসাকা অঞ্চলের দিকে সরে গেছে।
সামরিক অভিযানের সমান্তরালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা একটি ঐতিহাসিক ডিক্রি জারি করেছেন। ১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কুর্দিদের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এই ডিক্রির মাধ্যমে কুর্দি ভাষাকে ‘জাতীয় ভাষা’র মর্যাদা এবং নাগরিকত্বহীন কুর্দিদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কুর্দি নেতারা মনে করছেন, এই স্বীকৃতি তাদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। বিশ্লেষকদের মতে, সাংস্কৃতিক অধিকার দিলেও সরকার মূলত এই ডিক্রির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার কৌশল নিয়েছে।
সিরীয় সেনাবাহিনীর এই দ্রুত অগ্রযাত্রায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ‘সেন্টকম’। তারা অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স ও ইরাকি কুর্দিস্তানের নেতারাও যুদ্ধবিরতির দাবি তুলেছেন। তবে মাঠের পরিস্থিতি বলছে, সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে কুর্দিদের এক দশকের কর্তৃত্ব এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
মাহফুজ/