প্রয়াত অর্থদাতা এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন কিছু তদন্ত ফাইল প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ এই নথিপত্রগুলো প্রকাশ করে।
বিল গেটসকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রকাশিত একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টাইন দাবি করেছেন যে, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরিণতি’ সামাল দিতে গেটস তার কাছে ওষুধের সহায়তা চেয়েছিলেন বলেও এপস্টাইন উল্লেখ করেন। তবে এই ইমেইলটি শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ‘গেটস ফাউন্ডেশন’ নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলো ‘একেবারেই অদ্ভুত এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
ইলন মাস্কের ইমেইল ও দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা
ইলন মাস্কের পাঠানো কিছু ইমেইল থেকে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত ক্যারিবিয়ান দ্বীপে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছিলেন। ২০১২ সালের একটি ইমেইলে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘‘আপনার দ্বীপে কোনো দিন বা রাতে সবচেয়ে বন্য পার্টি (wildest party) হবে?’’
যদিও নথিগুলো থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে মাস্ক শেষ পর্যন্ত সেখানে গিয়েছিলেন কি না, তবে এটি মাস্কের আগের দাবির বিপরীত। মাস্ক এর আগে বলেছিলেন যে তিনি এপস্টাইনের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
শনিবার মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে-এ জানান, তার ইমেইলগুলো ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে তার খুব সামান্য যোগাযোগ ছিল।
সদ্য প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলে একজন সাক্ষীর বক্তব্যে জানা যায়, তিনি প্রথম ৫ বছর এবং পরে ৮ বছর বয়সে একটি ইয়াট (নৌযান) ক্লাবে এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
সেখানে ২০০০ সালে একটি বড় নৌযানে জেফ্রি এপস্টাইন তাকে বারবার ধর্ষণ (পায়ুকাম) করেন। একই সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও তাকে ধর্ষণ করেন।
এই ধর্ষণের সময় তিনি প্রচণ্ড ড্রাগের প্রভাবে অচেতন ছিলেন বলে দাবি করেন।
সেই নৌভ্রমণে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মেলানিয়া ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এও যোগ করেন যে ট্রাম্প সেই সময় মেলানিয়াকে বিয়ে করেননি (তাদের বিয়ে ২০০৫ সালে)।
জেফ্রি এপস্টাইনের প্রকাশিত ফাইলের এই অংশটি নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) গোয়েন্দা বিভাগের একটি নথি (আগস্ট ২০১৯) থেকে নেওয়া হয়েছে।
হাওয়ার্ড লাটনিক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
নথিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকও ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এপস্টাইনের দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অথচ এর আগে লাটনিক এপস্টাইনকে ‘জঘন্য’ এবং ‘ব্ল্যাকমেইলার’ বলে অভিহিত করে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি করেছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাটনিকের সঙ্গে এপস্টাইনের সীমিত যোগাযোগ ছিল এবং সেটি তার স্ত্রীর উপস্থিতিতেই হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ
এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকার ১৯ জন ভুক্তভোগী এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, তাদের নাম এখনো নথিতে রয়ে গেছে, অথচ যারা তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এমন অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং সুরক্ষিত রয়েছেন। তারা এই নথির পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ এবং পরবর্তী মাসে কংগ্রেসে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, ১ হাজারের বেশি ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে নথিপত্রগুলো যাচাই করতে গিয়ে এই প্রকাশনায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, সিবিএস নিউজ
মাহফুজ/