যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বর্ণবাদী ভঙ্গিমায় উপস্থাপনের পর তীব্র সমালোচনার মুখে সেই ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ থেকে পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে এক মিনিটের এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।
ভিডিওটিতে মূলত ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির পুরনো ও ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করা হয়েছিল। তবে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভিডিওর শেষ অংশ, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বারাক ও মিশেল ওবামার মুখমণ্ডল বানরের শরীরে বসিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় নেপথ্যে বাজছিল ‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’ গানটি।
ভিডিওটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে শুরুতে হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সমালোচকদের এই ক্ষোভকে ‘ভুয়া ক্ষোভ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি সাধারণ একটি ইন্টারনেট মিম। তিনি সাংবাদিকদের মূলধারার ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে পোস্টটি করার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এবং নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় সুর বদলায় প্রশাসন।
পরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘হোয়াইট হাউসের একজন কর্মী ভুল করে পোস্টটি করে ফেলেছিলেন।’ এরপরই ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়।
ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষ থেকেই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট একে সবচেয়ে বর্ণবাদী ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করছিলাম এটি যেন ভুয়া বা এআই জেনারেটেড কোনো ভুল পোস্ট হয়।’
প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস একে ট্রাম্পের ‘জঘন্য গোঁড়ামি’ বলে অভিহিত করেছেন।
রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার এই পোস্টটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক তোলা থেকে শুরু করে কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের বিদ্রূপ করা পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার সমালোচকদের আক্রমণ করার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ওবামা দম্পতির ওপর এই সাম্প্রতিক আক্রমণকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। সূত্র: এএফপি
অমিয়/