আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে এক উল্লেখযোগ্য মোড় নিয়ে তালেবান ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে তারা ইরানকে সমর্থন দেবে।
গতকাল রবিবার রেডিও ইরানের পশতু সংস্করণে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ওয়াশিংটন যদি আক্রমণ শুরু করে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চায়, তবে আফগান প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তার এই মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে কাবুলের সদিচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে।
মুজাহিদ জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো ধরনের সহযোগিতা নির্ভর করবে ইরানের পক্ষ থেকে সাহায্য চাওয়ার ওপর। তবে তার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, তালেবান নেতৃত্ব ইরানকে বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে একটি অংশীদার রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। আফগানিস্তান ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে—তা কূটনৈতিক নাকি কৌশলগত—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন যে, ওই সংঘাতে তেহরান বিজয়ী হয়ে ফিরেছে। মুজাহিদের মতে, ওই ফলাফল প্রমাণ করে যে সামরিক চাপ সহ্য করার মতো সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা ইরানের রয়েছে। তিনি আরও আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ইরান আবারও জয়ী হবে।
পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন যখন পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ বদলে দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই বিবৃতিটি এলো। আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মাঝে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তালেবানের এই প্রকাশ্য সমর্থন আঞ্চলিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাহফুজ/