যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে আজ সোমবার পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মহড়ার সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি’ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন।
বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদরা অতীতে বিভিন্ন সময় এই কৌশলগত পথটি অবরোধ করার হুমকি দিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইআরজিসি’র প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের তত্ত্বাবধানে এই মহড়া পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর সক্ষমতা বাড়ানো। উল্লেখ্য, আইআরজিসি ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী আদর্শিক শাখা।
ওমানের মধ্যস্থতায় আজ মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই মহড়া শুরু হলো।
চার দশকের চিরবৈরী এই দুই দেশ গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে পুনরায় আলোচনা শুরু করে। গত জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম সরাসরি উদ্যোগ। ওই যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওই অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছেন, যাকে তিনি ‘আর্মাডা’ বা শক্তিশালী নৌসেনা দল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত জানুয়ারিতে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর পর গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ‘জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ নামে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী ‘খুব শীঘ্রই’ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/