যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। গত বছর থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ শুক্রবার রায় দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত জানিয়েছে, ট্রাম্প তার প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলা হয়েছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে উল্লেখ করেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কর বা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইন ব্যবহার করে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুল্ক বসানোর কোনো অধিকার প্রেসিডেন্টের নেই।
ট্রাম্পের ক্ষোভ: চিরকাল অপেক্ষা করেছি
এই রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি ‘চিরকাল’ অপেক্ষা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক ব্যবস্থা না থাকলে আমেরিকানরা সবাই ‘দেউলিয়া হয়ে যেত’। তবে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায় নি।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুল্ক নির্ধারণ করা আমার অধিকার এবং আইনের ভাষা অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল।’ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও তিনি অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন চীন, কানাডা ও মেক্সিকোসহ প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং অনেক আমেরিকান ছোট ব্যবসা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। গত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে উভয় পক্ষের যুক্তি শুনেছিল।
রায়ের মূল বিষয়গুলো:
১. জরুরি অবস্থা আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
২. অবৈধ ঘোষিত এই শুল্কের মাধ্যমে সংগৃহীত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার এখন ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে ফেরত দিতে হতে পারে।
৩. যদিও এই নির্দিষ্ট আইনের অধীনে শুল্ক বাতিল হয়েছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন অন্য কোনো আইনের মাধ্যমে নতুন করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক এজেন্ডার জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং এটি মার্কিন ইতিহাসে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/