ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নতুন দিল্লি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জয়সওয়াল জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানান জয়সওয়াল। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে চায়।
ভিসা ইস্যুতেও আলোচনা
ব্রিফিংয়ে ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি জানান, ভিসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নতুন দিল্লি। তিনি বলেন, ‘ভিসা নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে।’
সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অবনতি ঘটে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর ১৮ ডিসেম্বর রাতে আসে। সেই রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়।
মিশনকে লক্ষ্য করে ঢিলও ছোড়া হয়। এরপর ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। পরদিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।
নির্বাচনের পর বরফ গলতে শুরু
পরবর্তী সময়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার আগেই গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে এক বিবৃতিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান নরেন্দ্র মোদি। পরে পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পর বিকেলে তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ফোনালাপে তাকে আবারও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তার কাজে সমর্থন দেওয়ার কথাও বলেন।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ব্যস্ততার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
ভিসা কার্যক্রমে গতি
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিসা কার্যক্রমেও গতি এসেছে। গতকাল থেকে দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সিলেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরে আসবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে