ইরানের তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দীর্ঘ-পাল্লার ক্রুজ মিসাইল, স্টেলথ যুদ্ধবিমান, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাযুক্ত বোমা এবং সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ প্রাক-প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালিয়েছে। আধুনিক বিমান, নৌ ও মিসাইল-ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। এ সময় ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী টমাহক ক্রুজ মিসাইল, স্টেলথ যুদ্ধবিমান, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাযুক্ত বোমা ও সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে ইরানে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও জটিল করে।
ইরান পাল্টা ইসরায়েলের দিকে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় আঘাত করে। এটি নির্দেশ করে, সংঘাত এখন দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ
টমাহক ক্রুজ মিসাইল: দীর্ঘ-পাল্লার, সব আবহাওয়ায় ব্যবহারযোগ্য, সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল। যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ৩০-৫০ মিটার উচ্চতায় ওড়ে, রাডার ও বায়ু প্রতিরক্ষা এড়িয়ে চলে। দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৬ মিটার, ওজন ১ হাজার ৬০০ কেজি, গতিবেগ প্রায় ৮৮০ কিলোমিটার/ঘণ্টা। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এটিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের জন্য উপযোগী করে।
এফ-৩৫আই ‘অদীর’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান: ইসরায়েলের কাস্টমাইজড এফ-৩৫এ লাইটনিং টু। স্থানীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সংযুক্ত করার অনুমতি পায়। স্টেলথ ডিজাইন, সেন্সর ফিউশন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষমতা ইরানের শক্ত আকাশসীমা অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
এফ-১৫আই ‘রাআম’ স্ট্রাইক ফাইটার: ভারী বোমা ও মিসাইল বহন করতে সক্ষম। ইরাকে স্কাড মিসাইল হামলার পর হামলার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়।
স্ট্যান্ড-অফ ক্রুজ মিসাইল (ডেলাইল ও র্যাম্পেজ): শত্রু প্রতিরক্ষা এলাকার বাইরে থেকে আঘাত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ডেলাইল লুপিং বা লিটারিং সক্ষমতা রাখে। র্যাম্পেজ উচ্চগতির, দীর্ঘ-পাল্লার মিসাইল, কঠিন ও সময়-সীমিত লক্ষ্যবস্তু আঘাতের জন্য উপযুক্ত।
এসপাইস (SPICE) সুনির্দিষ্ট বোমা: রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি। স্বয়ংক্রিয় সুনির্দিষ্ট বোমায় রূপান্তর করে। জিপিএস-বিহীন বা জ্যামড পরিবেশেও কার্যকর।
জেডিএএম (JDAM) ক্ষেপণাস্ত্র: সাধারণ বোমাকে স্মার্ট বোমায় রূপান্তর। জিপিএস ও জড়তাত্ত্বিক নেভিগেশন ব্যবহারে। কম খরচে এবং খারাপ আবহাওয়া বা কম দৃশ্যমানতাতেও কার্যকর।
জিবিইউ-২৮ বানকার-বাস্টার বোমা: ৫ হাজার পাউন্ড (২ হাজার ২৬৮ কেজি) লেজার-গাইডেড। গভীর কমান্ড সেন্টার, বাংকার এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে সক্ষম।
সশস্ত্র দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন (হেরন ও এতান): মধ্য-উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ফ্লাইট। নজরদারি, গোয়েন্দা ও সুনির্দিষ্ট হামলার জন্য ব্যবহৃত।
ইরানের ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ
শাহাব-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইল: তরল-ইন্ধনভিত্তিক, রোড-মোবাইল, মধ্য-পাল্লার। উত্তর কোরিয়ার নোদং-১ থেকে উদ্ভূত। পুরো ইসরায়েল আঘাত করতে সক্ষম।
এমাদ সুনির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক মিসাইল: ২০১৫ সালে প্রকাশিত। টার্মিনাল নির্দেশনা আগের মডেলের তুলনায় বেশি নির্ভুল।
ঘাদর মধ্য-পাল্লার মিসাইল: শাহাব-৩-এর উন্নত সংস্করণ। দীর্ঘ-দূরত্ব, উন্নত নির্ভুলতা ও উচ্চ মোবাইল ক্ষমতাসম্পন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশ লক্ষ্য করার সুযোগ দেয়।