যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরান ও কোম শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে আছেন বহু মানুষ। জীবিতদের সন্ধানে সেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্টকে।
গতকাল শুক্রবার কোম শহরে তিনটি আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়, এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। কোমের উপ-গভর্নর বার্তা সংস্থা ফার্সকে জানান, আহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
রাজধানী তেহরানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা রাজধানীর কেন্দ্রে ইরানের নেতৃত্বের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি তেহরান থেকে জানান, গত সন্ধ্যা থেকে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার শব্দ শোনা গেছে, যা সাধারণত ড্রোন হামলা বা হুমকির সময় সক্রিয় হয়। রাতভর বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে।
রাতের বেলায় উরমিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের সংকট ব্যবস্থাপনা প্রধান হামেদ সাফারি আইআরএনএকে জানান, ‘চারটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে।’
ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান গত বৃহস্পতিবার আল-জাজিরাকে জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু রয়েছে।
এ ছাড়া কারাজ ও ইশফাহানের শিল্প এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদক বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনা কমার কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’
এদিকে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের মানুষ এখন ‘ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’। সংস্থাটির প্রধান জান ইগল্যান্ড বলেন, নিরাপত্তার খোঁজে লাখ লাখ মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অনেকে আবার ভয়ে কোথাও যাচ্ছেন না। কারণ কোথাওই নিরাপদ মনে হচ্ছে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার অর্ধেকের বেশি ইরানে। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। সূত্র: আল-জাজিরা