ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন রবিবার দারাজ ৬.৬ মিড-ইয়ার শপিং ফেস্টে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট ও পুরস্কার গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত জাতীয় ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা ঢাকার পরিবেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ ভোলায় যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি যে কারণে মুভি দেখব মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী সময়ের সঙ্গে বদলান লিডারশিপ স্টাইল পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ শিবালয়ে ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরে চেইন ছিনতাই জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবির মাইকিং ও টহল বৃদ্ধি গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ কাশিয়ানীতে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা
Nagad desktop

বিবিসির বিশ্লেষণ চীনের মধ্যস্থতা চেষ্টায় কাজ হবে কি?

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
চীনের মধ্যস্থতা চেষ্টায় কাজ হবে কি?
চীন ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে নিজেকে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে চীন।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে’ শেষ হতে পারে। তবে এটি কীভাবে শেষ হবে বা এরপর কী ঘটবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা নেই।

এই সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকায় ইতোমধ্যে উঠে এসেছে পাকিস্তান, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। বেইজিং ও ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা একটি পাঁচ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্র পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হচ্ছে চীন। বিশেষ করে আগামী মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনার আগে।

লানঝৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ঝু ইয়ংবিয়াও মনে করেন, এই উদ্যোগে চীনের সমর্থন ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’। তার মতে, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক দিক থেকে চীন পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে, যাতে পাকিস্তান আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

প্রাথমিকভাবে যুদ্ধ নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ সংযত। তবে এখন তাদের এই সক্রিয়তা এসেছে পাকিস্তানের অনুরোধে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফর করে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চীনের সহায়তা চান এবং সেটি কার্যকর হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ‘শান্তির পক্ষে নতুন প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছে এবং সংলাপ ও কূটনীতিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তেলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের কাছে কিছু মাস চলার মতো মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি।

চীনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থিতিশীলতা। বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল না থাকলে তাদের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞ ম্যাট পটিঙ্গার বলেন, জ্বালানিসংকটের কারণে যদি বিশ্ব অর্থনীতি ধীরগতির হয়, তাহলে চীনের কারখানা ও রপ্তানিকারকরা বড় চাপের মুখে পড়বে।

বিশ্বের ‘কারখানা’ হিসেবে পরিচিত চীনের শিল্পাঞ্চল দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, যা প্লাস্টিক থেকে শুরু করে পোশাক, স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সেমিকন্ডাক্টর–সবকিছুর সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের সময় অনেক চীনা ব্যবসায়ী নতুন বাজার খুঁজতে শুরু করেন। ফলে গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে চীনের রপ্তানি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। এই অঞ্চল এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দ্রুততম বর্ধনশীল বাজারগুলোর একটি।

এ ছাড়া চীন মধ্যপ্রাচ্যে লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) খাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইরাকে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান–দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে এবং দেশটির তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন কিনে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর আগেও ভূমিকা রেখেছে চীন। ২০২৩ সালে তারা সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করে। ২০১৬ সালে এক শিয়া ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে চীন ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের আলোচনায় বসায়। যার ফলে পশ্চিমতীর ও গাজায় একটি জাতীয় ঐক্য সরকারের ঘোষণা আসে। যদিও সেটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছিল না।

তবে চীনের এই কূটনৈতিক প্রভাবের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তারা সাধারণত সামরিকভাবে জড়াতে চায় না এবং তাদের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন। চীনের নিকটতম সামরিক ঘাঁটি আফ্রিকার জিবুতিতে, যা মূলত লজিস্টিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় প্রায় সব দেশেই সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা তাদের প্রভাবকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন শান্তি উদ্যোগে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে শি জিনপিং নিজেকে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের বিপরীতে একটি ভিন্ন চিত্র তৈরি করে।

তবে চীনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, হংকংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান নিয়ে তাদের অবস্থানের কারণে। সব মিলিয়ে চীন একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক খেলোয়াড়, যার মূল চালিকাশক্তি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেটি আরও বাড়ানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষাও স্পষ্ট। সূত্র: বিবিসি

হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর দিকে পাঠানো চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৫ জুন) এর জবাবে ইরানের কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর নীতির মধ্যে এ ঘটনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘আক্রমণকারী ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল।’

বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দর কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

সেন্টকম জানায়, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রণালীর একটি দ্বীপসহ একাধিক রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার সবশেষ অধ্যায়, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং তা সম্প্রসারণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সপ্তাহের শুরুতে একটি ইরানি ড্রোন কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানলে একজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। ঘটনার পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

যদিও এসব হামলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

উইসকনসিনে কৃষকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই ইরান ইস্যুর সমাধানে পৌঁছাব। সেটা আলোচনার মাধ্যমে হোক বা কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে- যেভাবেই হোক আমরা সফল হব।’

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প এমন একটি সংঘাতের মধ্যে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছেন, যা বর্তমানে অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শর্ত এবং ইরানের নীরব অবস্থান অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের জন্য খুবই কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। তারা স্বাধীন, শক্তিশালী এবং গর্বিত জাতি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কিছু সিদ্ধান্ত তাদের নিতেই হবে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে এখনও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তা নিয়েও মার্কিন প্রশাসন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় এবং ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৯জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের দুই সৈন্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের চলমান সংঘাত ইরান-সংক্রান্ত সংকট নিরসন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রচেষ্টাকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ ইরান দাবি করে আসছে, যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ভারত মহাসাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় সীমিত করা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশেই ভূপাতিত করে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিকল হয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা সদস্যের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সত্য নয়।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শনিবার ভোরে বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে করে তুলতে পারে আরও জটিল। সূত্র: বাসস

আমান/

অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশিসহ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুন) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের ১০টি পৃথক চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।

এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, ভারত একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জাতীয়তার সত্যতা নিশ্চিত হতে হয়। তিনি বলেন, ‘এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আমরা যখন এই ধরনের মামলাগুলো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পাঠাই, তখন তারা ওই ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করে। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাই।’

মুখপাত্র আরও জানান, ‘আমাদের এই ধরনের অনেক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে ঝুলে রয়েছে। আমরা আশা করি, এই অনুরোধগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘কিম জং উনের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং ৮ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যাচ্ছেন শি।

চীন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা প্রদান করবে। এই বছর সেই চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হবে।

কিমের কাছে শির সফরের প্রচারণাগত গুরুত্ব সুস্পষ্ট। মহামারি মোকাবিলা করে এবং রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান উন্নত করেছিল।

পিয়ংইয়ং ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিম ও পুতিনের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট নিয়ে শি সন্দিহান। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বেইজিংই কিমের জন্য প্রধান জীবনরেখা হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে, কিম স্থল সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্য এবং তার নবনির্মিত সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্টগুলো প্রাণবন্ত করতে আরও বেশি চীনা পর্যটক চাইবেন।

কিম গর্বের সঙ্গে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি সফররত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজধানী পিয়ংইয়ংও প্রদর্শন করছেন। তিনি বিশ্বকে জানাতে চান, এই সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতজানু না হয়ে বা দক্ষিণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়েই অর্জন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই একটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার ‘অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে’। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রচেষ্টা চলছে। ইসরায়েলেও এই সমঝোতার সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একটি চুক্তি হতে পারবে কি না এটা আসল প্রশ্ন নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায় তাহলে ইসরায়েল কী করবে?

ইসরায়েলি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং নিরাপত্তা মহলে বিতর্কটি এখন চুক্তিটি পুরোপুরি ঠেকানোর চেষ্টার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পরিবর্তে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি মোকাবিলার উপায় নিয়ে বেশি মনোযোগী ইসরায়েল। শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই নয়, বরং এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।ইসরায়েলের উদ্বেগের একটি প্রধান দিক হলো, সম্ভাব্য যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির একটি সংশোধিত সংস্করণের অনুরূপ হবে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। কিন্তু তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক, ড্রোন এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি যুদ্ধের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারবে না, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা, তেহরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করা এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা।

সংবাদমাধ্যমটির মতে, এই পর্যায়ে ইসরায়েলের লক্ষ্য হয়তো ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহর সৃষ্ট হুমকি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা আদায় করা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলে কোনো ঐকমত্য নেই। ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ডিরেক্টরেটের ইরান বিভাগের সাবেক প্রধান ড্যানি সেট্রিনোভিচ তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গড়ে ওঠা চুক্তিটি ‘অনেক দিক থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি ভীতিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি চূড়ান্ত আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকে এবং ট্রাম্প প্রশাসন এতে ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন, যা তার মতে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ।

এমন একটি পরিস্থিতি, যা ড্যানি সেট্রিনোভিচ নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো প্রকৃত নিষেধাজ্ঞা নেই, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় গ্রহণের কোনো আশা নেই এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ছে।’ দানি চেত্রিনোভিচ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তিও কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে ভালো হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের সবাই এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, যদি এই যুদ্ধ ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে যেকোনো চুক্তিই একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

 এই মতবিরোধটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও বিশ্লেষণমূলক পরিমণ্ডলের একটি শূন্যতাকে প্রতিফলিত করে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, একটি সম্ভাব্য চুক্তি ইসরায়েলের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। কিন্তু আলোচনার সম্পূর্ণ ব্যর্থতা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামনে একাধিক বিকল্পও রয়েছে।

প্রথম বিকল্প: চুক্তিটি কঠিন করার চেষ্টা করা

ইসরায়েলের কাছে থাকা প্রাথমিক বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো যেকোনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। গত ৬ মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জেরুজালেম ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ আমিদ্রোরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইরানের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং একটি কঠোর প্রয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

দ্বিতীয় বিকল্প: সামরিক কার্যকলাপের স্বাধীনতা বজায় রাখা

কিন্তু আরেকটি বিকল্পও রয়েছে, যা ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি সত্ত্বেও বজায় রাখতে চাইতে পারে। যাকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘কর্মের স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেন। যার অর্থ হলো ইরান ও এই অঞ্চলে থাকা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বজায় রাখা।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেছেন, ‘যদি ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ না হয়, তবুও তার কাছে সমস্ত বিকল্প খোলা থাকবে।’তিনি মনে করেন ইসরায়েল কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু যে চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেনি, তার দ্বারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের আবদ্ধ বলে বিবেচনা করার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিশ্লেষণে লিখেছে, সরাসরি মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইরানের সঙ্গে একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা সীমিত থাকবে। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন কূটনীতির পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তৃতীয় বিকল্প: গোপন যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন

নতুন চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে যদি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়, তবে তারা একটি নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আর তা হলো ‘যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধ’। এর মধ্যে সাইবার অভিযান, অন্তর্ঘাত এবং অতীতের মতোই লক্ষ্যবস্তুকে গুপ্তহত্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। 

ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মহলে এমন কথাও চলছে, বিষয়টি শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম গোষ্ঠী ওয়াইনেট-এর ওয়েবসাইট গত মার্চে জানিয়েছে, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী একটি মূল্যায়ন দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা উস্কে দিতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: বিবিসি