২০২৬ সালের শুরু থেকে রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে এবং পূর্বাঞ্চলের দনবাস অঞ্চলের তথাকথিত ‘দুর্গ বলয়’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের পুরোটা দখলের চেষ্টা করছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র লড়াইয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী ধীরে ধীরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরভিত্তিক প্রতিরক্ষা লাইনের দিকে পিছিয়ে গেছে।
তবে যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনও কিছু সাফল্যের দাবি করেছে। ইউক্রেনের শীর্ষ কমান্ডার ওলেক্সান্ডার সিরস্কি এপ্রিলের মাঝামাঝি জানান, মার্চ মাসে তাদের বাহিনী প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে।
রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেন, ‘এই বছরের শুরু থেকে মোট ৮০টি বসতি এবং ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’ গতকাল মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এ তথ্য করেন।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি। ইউক্রেনপন্থি মানচিত্র অনুযায়ী, এ বছর রাশিয়া প্রায় ৫৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে।
গেরাসিমভ জানান, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী দনবাসের ‘দুর্গ বলয়’ লক্ষ্য করে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে স্লোভিয়ানস্ক, ক্রামাতরস্ক এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকার শহরগুলো রয়েছে। তার মতে, রুশ বাহিনী স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক থেকে মাত্র ৭ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকার কিছু অংশে ইতোমধ্যে লড়াই চলছে।
এ ছাড়া তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের সুমি এবং উত্তর-পূর্বের খারকিভ এলাকাতেও রাশিয়া অগ্রসর হচ্ছে, যাতে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করা যায়। রাশিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তারা বর্তমানে দনবাসের প্রায় ৯০ শতাংশ, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং খারকিভ, সুমি, মাইকোলাইভ ও নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ ছাড়া ক্রিমিয়া অঞ্চলও রাশিয়ার দখলে রয়েছে, যা ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিকভাবে অধিকাংশ দেশ এটিকে এখনো ইউক্রেনের অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়।
ইউক্রেনপন্থি মানচিত্র অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৩ বর্গকিলোমিটার বা ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে এ বছর রাশিয়ার অগ্রগতির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স