ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন
Nagad desktop

ইরান সংঘাত কেন ব্রিকসের জন্য সমস্যা হয়ে উঠছে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
ইরান সংঘাত কেন ব্রিকসের জন্য সমস্যা হয়ে উঠছে
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে ব্রিকস জোটে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকেও এই ইস্যুতে কোনো যৌথ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি সদস্য দেশগুলো। বিশেষ করে নতুন সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরাসরি বিরোধ এই উদীয়মান অর্থনৈতিক জোটের ঐক্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক গত শুক্রবার শেষ হয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মতভেদ থাকায় দেশগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। জোটের সমাপনী নথিতে কেবল এটুকুই বলা হয়েছে, এই ইস্যুতে সদস্যদের মধ্যে ‘মতপার্থক্য’ রয়েছে।

এ নিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের টানা দুটি বৈঠকই ঐকমত্য পৌঁছাতে ব্যর্থ হলো। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বৈঠক শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস প্রেসিডেন্সির অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। মূলত গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণ বিশ্বের দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরালো করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই জোটের রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে হওয়ার কথা রয়েছে।

উদীয়মান অর্থনীতির ১০ সদস্যের এই জোট অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করে। পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের আধিপত্য থাকা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণের দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরালো করাই এর লক্ষ্য। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে এই জোটের শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা ও অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। গত মাসে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনাসহ সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধও জারি করে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে এই ব্রিকস বৈঠকের সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে ছিলেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম বেইজিং সফর। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে থাকায় ব্রিকস বৈঠকে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।

ইরানের আব্বাস আরাগচির পাশাপাশি বৈঠকে অংশ নেন রাশিয়ার সের্গেই লাভরভ, ব্রাজিলের মাউরো ভিয়েইরা, দক্ষিণ আফ্রিকার রোনাল্ড লামোলা এবং ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবুধাবি সফরে যাওয়ার আগে বৈঠকের ফাঁকে সফররত মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে দেশটির প্রতিমন্ত্রী খলিফা বিন শাহিন আল মারার অংশ নেন।

ইরান-আমিরাত মুখোমুখি অবস্থান

বৈঠক শুরুর পর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ এড়িয়ে যান। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এটি দুর্বলতা নয়, বরং ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে তিনি তা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

আরাগচি ব্রিকস সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন স্পষ্ট ভাষায় ইরানের ওপর চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে যুদ্ধবাজি বন্ধ করতে ও জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আরও ন্যায়ভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গঠনে ব্রিকস অন্যতম প্রধান শক্তি হতে পারে এবং হওয়া উচিত। এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে জোর যার মুলুক তার–এই নীতি চলবে না।’

অন্যদিকে আমিরাতের প্রতিনিধি আল মারার নিজের বক্তব্যে সরাসরি ইরানের সমালোচনা করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ইরানের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর আহ্বানও তোলেন।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সম্প্রসারিত ব্রিকস জোটের সবচেয়ে বড় বিভাজনকে সামনে এনেছে। কারণ ইরান ও আমিরাত দুই দেশই এখন পূর্ণ সদস্য হলেও চলমান সংঘাতে তারা বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।

সব সদস্য দেশের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আবারও কথা বলার সুযোগ চান আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি সভায় বলেন, ‘আমার দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে আমিরাত সরাসরি জড়িত ছিল। হামলা শুরুর পর তারা একটি নিন্দাও জানায়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইরানে হামলা চালাতে আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছে। এমনকি আমিরাতের যুদ্ধবিমানও হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে।’

ইরানের বার্তা সংস্থা আইআরএনএয়ের বরাত দিয়ে আরাগচি বলেন, ‘গতকালই প্রকাশ পেয়েছে যে ইউএইয়ের ফাইটার জেট আমাদের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিয়েছে এবং সরাসরি ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই সংযুক্ত আরব আমিরাত এই আগ্রাসনের একজন সক্রিয় অংশীদার।’

সংঘাতের প্রথম দিনে মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার নিন্দা না জানানোর জন্যও আবুধাবির সমালোচনা করেন আরাগচি। ইরানের দাবি, ওই হামলায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী নিহত হন। তিনি বলেন, ‘ইরান আমিরাতে হামলা চালায়নি। শুধু আমিরাতের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আবুধাবির দাবি, ইরানের হামলায় তাদের দেশের ভেতরের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তারা ইরানের ২ হাজার ৮০০-এরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ইউএই প্রতিনিধি আল মারার আবারও তাদের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানি হামলার নিন্দা জানানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সভাপতি হিসেবে এই বিবাদ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরসহ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে ‘নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একতরফা নিষেধাজ্ঞা কখনো আলোচনার বিকল্প হতে পারে না এবং চাপ প্রয়োগ করে কূটনীতির কাজ হয় না।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিকসের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে হলে নতুন সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিকসের ঐকমত্য ও অবস্থান পুরোপুরি বুঝে তা মেনে নিতে হবে।’

বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর আরাগচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
 
ঐকমত্যে ফাটল

এটি ভারতে প্রথম ব্রিকস বৈঠক নয়। গত ২৪ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূতদের বৈঠকের আয়োজন করেছিল ভারত। সেই বৈঠকও যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। ভারত শুধু সভাপতির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছিল। ইরান চেয়েছিল, বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সংঘাত শুরু করেছে তা স্বীকার করা হোক। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত চেয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হোক।

২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ভারতের সভাপতিত্বে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকস একটি যৌথ বিবৃতিও দিতে পারেনি। এ সপ্তাহের বৈঠক শেষে প্রকাশিত নথিতেও সেই অচলাবস্থা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর ইরাক তার আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘ইরাকের সব বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিচ্ছে’ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন’ করা অব্যাহত রাখবে।

৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রথম ঘটনা হিসেবে রবিবার সন্ধ্যায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরাক ৭২ ঘণ্টার জন্য তার আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, সোমবার (৮ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তর জানায়, ইরান ইসরায়েলকে ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ‘সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে’।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তবে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, যদি দক্ষিণ লেবাননসহ অন্য কোথাও আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও বিধ্বংসী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রিফাত/

শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে প্রথমদিকে অনিচ্ছুক ছিল তেল আবিব। অনেকের মতে, ইসরায়েল শুধু যুদ্ধ অব্যাহত রাখতেই আগ্রহী ছিল না, বরং এই সংঘাত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার একটি ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, নেতানিয়াহু অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ধারণা করা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত না করতে এবং বৈরুতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছিলেন। 

এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলের একটি অংশের কাছে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে শুধু একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবেই নয়, বরং ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকেও উপেক্ষা করতে প্রস্তুত একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন।

ফলে যখন তাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, তখন বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তার জন্য খুব ইতিবাচক বার্তা বহন করেনি। 

অনেক ইসরায়েলির মধ্যে এমন প্রত্যাশাও ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা বা আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর হাতে কোনো না কোনো গোপন কৌশল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী অংশের স্বার্থ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই সংঘাত অপরিহার্য। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি প্রতিষ্ঠা।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পেছনে কেবল নিরাপত্তা বা কৌশলগত বিবেচনাই নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও কাজ করছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য নির্বাচন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

থিও/

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু এবং ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) এই দুর্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করার পর জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকা, যা ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও পরিবহন কেন্দ্র ‘জেনারেল সান্তোস সিটি’র কাছাকাছি অবস্থিত।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের ফলে বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়াসহ ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আটকেপড়াদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরবর্তীতে সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক জায়গার সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বা কমিয়ে আনা হয়।

তা সত্ত্বেও, পূর্বসতর্কতা হিসেবে উপকূলীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের ওপরও। নিরাপত্তার স্বার্থে ‘জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পে ডজন খানেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে পুনরায় প্রবেশ না করার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের বড় আকারের প্রাকৃতিক বিপর্যয় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তা মনে করিয়ে দিল।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

মিন্দানাওজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং চলমান ঝুঁকিগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ও হেলথ ইনস্যুরেন্স জার্নাল

তামান্না রুপা/

ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা
ছবি: আল জাজিরা থেকে

ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েল ইরানের মাহশাহরের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করার পর এই হামলা চালাল ইরান।

কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি ফ্লেক্সিবল ফোম এবং রিজিড ফোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উৎপাদন করে। এই রাসায়নিকগুলোর মধ্যে একটি হলো টলুইন ডাইআইসোসায়ানেট (টিডিআই), যা এই অঞ্চলে একমাত্র ইরানই উৎপাদন করে থাকে।

বৈশ্বিক সরবরাহের ক্ষেত্রে, এই রাসায়নিকের ইরানি রপ্তানি মোট বাজারের ২ শতাংশেরও কম, তাই এর প্রভাব ততটা গভীর নয়।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালিয়েছে।

তারা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে বেসামরিক ও জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী থাকবে।

থিও/অমিয়/