যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার শহর আর্কেডিয়ার সাবেক মেয়র আইলিন ওয়াং চীন সরকারের অবৈধ অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করার দায় স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করেন ওয়াং।
আর্কেডিয়ার সাবেক মেয়র ওয়াং এ মাসের শুরুতে পদত্যাগ করেন। তাকে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিদেশি সরকারের অবৈধ অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে বেইজিংপন্থি বিভিন্ন নিবন্ধ শেয়ার করেছেন, তবে আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ বিষয়ে আগে থেকে অবহিত করেননি।
৫৬ বছর বয়সী আইলিন ওয়াং ২০২২ সালের নভেম্বরে পাঁচ সদস্যের সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। ওই কাউন্সিল থেকেই পর্যায়ক্রমে মেয়র নির্বাচন করা হয়।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, ওয়াংয়ের অবৈধ কর্মকাণ্ড ২০২০ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলে।
তবে আর্কেডিয়া সিটির কর্মকর্তারা এবং ওয়াংয়ের আইনজীবীরা দাবি করেন, সিটি কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার আগেই এসব কর্মকাণ্ড শেষ হয়ে যায়।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৩ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আর্কেডিয়া শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ হাজার। শহরটির অধিকাংশ বাসিন্দাই এশীয় বংশোদ্ভূত, যার মধ্যে চীনা বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
শুনানিতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ওয়েসলি হুসু তার অধিকার ও দোষ স্বীকারের আইনি পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কয়েকটি প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন করেন। আদালতে একজন ম্যান্ডারিন ভাষার দোভাষী উপস্থিত থাকলেও ওয়াং জানান, তার সহায়তার প্রয়োজন নেই।
ওয়াংকে বর্তমানে ২৫ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্ত রাখা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর তার সাজা ঘোষণা করা হবে। তিনি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তির শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
দোষ স্বীকারসংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াং এবং তার তৎকালীন বাগদত্ত ইয়াওনিং ‘মাইক’ সান চীনা সরকারের কর্মকর্তাদের পক্ষে ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেইজিংপন্থি প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
সান গত বছরের অক্টোবরে একই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং বর্তমানে চার বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি ওয়াংয়ের ২০২২ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ তথ্য তার নির্বাচনি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০২১ সালের জুনে এক ঘটনায় একজন চীনা সরকারি কর্মকর্তা ওয়াংকে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধের লিংক পাঠান। নিবন্ধটি লিখেছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিযুক্ত চীনের কনসাল জেনারেল। ওই লেখায় চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর তুর্কি জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘শিনজিয়াংয়ে কখনো গণহত্যা ঘটেনি এবং এ অঞ্চলের তুলাখেত বা অন্য কোনো খাতে জোরপূর্বক শ্রমও হয়নি।’
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ওই লিংক পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওয়াং সেটি তার ওয়েবসাইটে শেয়ার করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ ঘোষণা করেছে, উইঘুরদের প্রতি বেইজিংয়ের নীতি গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।
ওয়াংয়ের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ঘটনাগুলোর সময় তিনি সানের সঙ্গে বাগদানে আবদ্ধ ছিলেন। তবে তাদের সম্পর্ক ২০২৪ সালের বসন্তে শেষ হয়ে যায়।
পদত্যাগের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াং বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ও ভালোবাসা স্পষ্টতই ভুল একজন মানুষের প্রতি ছিল, যিনি শেষ পর্যন্ত আমাকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন।’
আর্কেডিয়ার কয়েকজন বাসিন্দা ও সাবেক নির্বাচিত কর্মকর্তা বলেছেন, সানের বিরুদ্ধে এফবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার পরই ওয়াংকে পদত্যাগ করতে বলা উচিত ছিল।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র পল চেং বলেন, তিনি এবং অন্য কাউন্সিল সদস্যদের এ বিষয়ে কার্যত কোনো ক্ষমতা ছিল না। শহরের সনদ অনুযায়ী, কোনো কাউন্সিল সদস্যকে কেবল তখনই অপসারণ করা যায়, যখন তিনি কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন। তখন পর্যন্ত ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে এমন কোনো রায় হয়নি। সিএনএন
অমিয়/