ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ট্রেলারে তুষির চমক সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায় ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন ইরানের ফুটবলাররা কথা বলতে পারছেন না ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নির্মাতা ডেঙ্গু রুখতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রাথমিকে নতুন বই ও ৬০ হাজার চাকরির ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ৫৫ বছর পেরিয়ে নূতন মাগুরায় জার্মানির সাড়ে ৭ কিলোমিটার পতাকা ঈশ্বরদী স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্সে মে মাসের বেতন পাননি কর্মচারীরা আসছে শ্রদ্ধার বায়োপিক ‘ইথা’ ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’ রাজশাহীতে মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা নড়াইলে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু ভোলায় স্ত্রী-সন্তানদের ফিরে পেতে ‘জ্বিনের বাদশা’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে নেই পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগে বদলে যাচ্ছে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের চিত্র ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন না রোনালদো মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২ আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হবে আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তি নির্ভর: প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২ বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের পর বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
Nagad desktop

বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ আগাছা

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৩২ পিএম
বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ আগাছা
কৃষিবিদ ড. আসাদুজ্জামান আসাদ আগাছ পর্যবেক্ষণ করছেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় ফসলের আগাছা নিরোধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আধুনিক উন্নত বিশ্ব এ চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করছে ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় কী? এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে খবরের কাগজ আগাছা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টুয়ার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষিবিদ ড. আসাদুজ্জামান আসাদের মুখোমুখি হয়েছে।

ড. আসাদ আপনি অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টুয়ার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং আগাছা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করছেন। আগাছা সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

যে গাছগুলো ফসল নয় কিন্তু ফসলের জমিতে জন্মে ফসলের ক্ষতি করে সেগুলোকে আগাছা বলে। এগুলো জমি থেকে ফসলের পুষ্টিগুণ শোষণ করে ফসলের উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। আমাদের দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় কৃষকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথাগত পদ্ধতি অর্থাৎ হাত দিয়ে আগাছা তুলে থাকেন। তবে বর্তমানে শ্রমিক মজুরি বেশি হওয়ায় এ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তাই কৃষকরা আগাছা দমনে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করেন।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় কৃষকরা কেমিক্যালগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। এতে করে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়, যা ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় ও পরিবেশের ক্ষতি করে। আসলে আগাছা এমনভাবে ফসল বা ফসলের জমির ক্ষতি করে, যা খালি চোখে দেখা যায় না বা এর ক্ষতির মাত্রা উপলব্ধি করা যায় না। তাই আধুনিক উন্নত বিশ্ব এই আগাছাকে ফসলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে সরকার, কৃষক ও গবেষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগাছা দমন করে থাকে।

ফসলের আগাছা দমন বিষয়ে উন্নত বিশ্ব বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া কোন ধরনের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে থাকে? সে বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করেন-

উন্নত বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণানির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে। দেশটির সমগ্র কৃষি ব্যবস্থাপনা একটা উন্নত সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একজন সাধারণ কৃষকও এই সিস্টেম অনুসরণ করেন। যেমন সেখানকার প্রত্যেক কৃষক প্রতি বছর তাদের জমিতে কোন ধরনের আগাছা হয় তার একটা নিজস্ব রেকর্ড রাখেন। শুধু তাই নয়, তারা প্রতি বছর কোন জমিতে কী পরিমাণ কেমিক্যাল, কোন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেছেন তার একটা রেকর্ড রাখেন। এই তথ্যগুলো তারা সরকারের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে শেয়ার করেন। তার ওপর ভিত্তি করে সরকার অনেকগুলো পলিসি ডেভেলপ করে। অর্থাৎ কোন কেমিক্যাল তাদের জমির জন্য উপকারী বা সঠিকভাবে কাজ করছে না- এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকার বিদেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের কিছু দেশ এখন আগাছা দমনের ক্ষেত্রে শুধু কেমিক্যালের ওপর নির্ভরশীল না। কারণ কেমিক্যালের একটা খারাপ দিকও আছে। সেটা হচ্ছে আগাছার ভেতরে প্রতিরোধ তৈরি হওয়া, যেটাকে আমরা টেকনিক্যালি বলি হার্বিসাইড রেজিস্ট্যান্স গ্রো করা। এতে করে আগাছাকে আর কেমিক্যাল দিয়ে প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এজন্য কেমিক্যাল একমাত্র সমাধান নয়। এ কারণে তারা মাল্টিপল সলিউশন নিয়ে কাজ করে। যেমন- ক্রপ রোটেশন করে। অর্থাৎ এক বছরে একটা ফসল চাষ করার পরের বছর একই জমিতে অন্য একটা ফসল চাষ করা। এ ছাড়া তারা কিছু উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করা শুরু করেছে। যেমন ফার্মে তারা ড্রোন ব্যবহার করেন। ড্রোন দিয়ে তারা আগাছার অবস্থান ম্যাপ করে নিয়ে আসেন। তারপর সেই ম্যাপ অনুযায়ী যেখানে আগাছা আছে, ঠিক সেখানেই কেমিক্যাল স্প্রে করেন। এতে করে পুরো জমিতে কেমিক্যাল স্প্রে করতে হয় না। কেমিক্যালেরও খরচ অনেক কমে যায়, যা উৎপাদন খরচ কমায়। একই সঙ্গে উৎপাদন বেড়ে যায়। 

শুধু তাই নয় উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগাছার বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য একটা নির্দিষ্ট বিভাগ থাকে। আমি আমেরিকাতে দেখেছি ওখানে আগাছার জন্য নির্দিষ্ট স্কুল বা বিভাগ আছে। অস্ট্রেলিয়াতেও আছে। তবে বাংলাদেশে এরকম কোনো বিভাগ নাই। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কৃষিতত্ত্ব নামে একটা বিভাগ থাকে। তার অধীনে আগাছা বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয় বা গবেষণা করা হয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া বা ডেভেলপ কান্ট্রিতে প্রচুর বিনিয়োগ করা হয় আগাছার বিষয়ে গবেষণার জন্য। তারা ছাত্রদের, শিক্ষকদের ও এক্সটেনশন অফিসারদের আগাছা বিষয়ে গবেষণা এবং প্রচার চালানোর জন্য উৎসাহিত করে।

অস্ট্রেলিয়াতে আমি দেখেছি প্রত্যেকটি কাউন্সিল বা পৌরসভায় একজন করে উইড অফিসার বা আগাছাবিষয়ক অফিসার থাকেন। তার কাজ হচ্ছে শহরের রাস্তার পাশে জন্মানো আগাছাগুলোকে সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা। এ ক্ষেত্রে সরকার থেকে প্রচুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কৃষকরাও এতে সহযোগিতা করেন। মজার বিষয় হচ্ছে, নতুন কোনো আগাছা যদি কোনো মাঠে বা রাস্তাঘাটে দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তারা নিকটবর্তী যে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস আছে, সেখানে তারা রিপোর্ট করেন। তারা সেটার রেকর্ড রাখে ও এটা তাদের ডেটাবেজে যুক্ত করেন, যেন ভবিষ্যতে এটি নিয়ে তারা গবেষণা বা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এটা নিয়ে তারা কাজ করতে পারেন। 

এই ডেটাবেজগুলো কৃষি উন্নয়নে বা সরকারের পলিসি গ্রহণে কীভাবে কাজ করে?

এক্ষেত্রে ডেটাবেজের একটা সেন্ট্রাল হাব আছে। সেই হাবের ভেতরে অনেকগুলো উপাদান থাকে। সেখানে সরকারের পলিসি, কৃষকের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত ডেটা শেয়ার করা হয়। এ ছাড়া এই হাবে স্টেট গভর্নমেন্টের কিছু বিনিয়োগ থাকে, রিসার্চ থাকে ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাজ করে। যেখানে ছাত্ররা গবেষণা করে, সেই তথ্যগুলো সেখানে থাকে। এর মানে একটা হাবের অধীনে সব তথ্য একটার সঙ্গে একটা যুক্ত থাকে। এতে করে সরকারে পক্ষ থেকে কোন পলিসি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে খুব সহজ হয়। কোন পলিসির পরিবতর্ন হলে সেই পরিবতর্ন দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে যায়। যদি কোনো কৃষক লক্ষ করে, সে গত ১০ বছর ধরে আগাছা দমন করার জন্য একটা কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। কিন্তু দেখা গেল কোনো একটা আগাছাকে কেমিক্যাল দিয়ে দমন করা যাচ্ছে না। তখন সে সেটা তার নিকটবর্তী কৃষি অফিসারকে রিপোর্ট করে। তখন এই রিপোর্টটা ধীরে ধীরে উপর লেভেলে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু হয় ও একটা সময় সরকারে কাছে পৌঁছে যায়। তখন সরকার ওই নির্দিষ্ট কেমিক্যালটা আমদানি করবে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে। তারপর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পলিসি বাস্তবায়ন করে।

ড. আসাদ আপনি বাংলাদেশের সন্তান। আপনি বাংলাদেশের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। এখানে অনেক দিন কাজ করেছেন। এই আগাছা ব্যবস্থাপনায় উন্নত বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থাপনার মধ্যে আপনি কোন ধরনের পার্থক্য প্রত্যক্ষ করেন?

সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের দেশে আগাছাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আমাদের দেশে ফসলের রোগ বা পোকামাকড়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট বিভাগ রয়েছে। আমি কৃষিতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ছিলাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ওই বিভাগের অধীনে একটা অংশ হিসেবে আগাছা ব্যবস্থাপনা পড়ানো হয়। কিন্তু ফসল উৎপাদনে আগাছার গুরুত্ব অনেক বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে আগাছার আক্রমণের কারণে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফসলের ফলন কমে যায়। যেটা একটা পোকার আক্রমণের চেয়েও বেশি বা রোগের আক্রমণের চেয়েও বেশি। তবে গুরুত্ব কম দেওয়া হচ্ছে আগাছা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় যে প্রশ্নটা আসে, আমাদের দেশে কৃষকরা আগাছা দমনের জন্য সঠিক তথ্য পান না। তারা অধিকাংশ ক্ষেত্র প্রথাগত পদ্ধতি তথা হাত দিয়ে বা ম্যানুয়ালি আগাছা দমন করেন। এটার অনেকগুলো সুবিধা ও অসুবিধা আছে। সুবিধাগুলো হচ্ছে, এতে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। যেটা ভালো। অসুবিধা হচ্ছে এটা অনেক মজুরি খরচ বাড়ায়। আমাদের দেশে এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না। এটা একটা বড় সমস্যা। তাই অনেক সময় তারা সঠিক সময়ে আগাছা দমন করতে পারেন না। আবার কিছু ক্ষেত্রে আগাছা দমনের জন্য যে কেমিক্যাল তারা ব্যবহার করেন, তার সঠিক ব্যবহার তারা জানেন না। আগাছা দমনের ক্ষেত্রে শুধু কয়েকটি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। আমি নিজেই গবেষণা করছি, যদি কোনো ফসলের জমিতে একই কেমিক্যাল কয়েক বছর ব্যবহার করা হয় তাহলে আগাছার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় বা রেজিস্ট্যান্স গ্রো করে।

এটা আসলেই খারাপ একটা বিষয়। আরেকটা বিষয় হলো আমাদের দেশে কেমিক্যালের ব্ল্যাক মার্কেট আছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি করেন। আমাদের দেশের কৃষকরা কিছুটা অসহায় বা কিছুটা হলেও অসচেতন হওয়ায় তাদের কাছে এই কেমিক্যালগুলো বিক্রি করে। তারা কৃষককে পরামর্শ দেয়, তুমি এটা নিয়ে যাও। এই পরিমাণ তুমি স্প্রে করে দাও। আমাদের সহজ-সরল কৃষক সেটাই করেন। তবে সেটা আসলে সঠিক কি না, সেটা তারা জানের না। কারণ, কেমিক্যালের পরিমাণ নির্ভর করে ফসলের আগাছা কী অবস্থায় আছে ও কোন গ্রোথ স্টেজে আছে তার ওপর। অর্থাৎ একটা অনুমাননির্ভর পদ্ধতির মধ্য দিয়ে তারা এই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে করে আমরা হয় খুব বেশি কেমিক্যাল ব্যবহার করি, আর না হয় খুবই কম। দুটোরই অসুবিধা রয়েছে। খুব বেশি বা কম কেমিক্যাল ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় পর ওই আগাছা রেজিস্ট্যান্স গ্রো করে। ফসলের জমিতে মাইক্রো অর্গানিজম থাকে, বেশি কেমিক্যাল ব্যবহারে উপকারী মাইক্রো অর্গানিজমের ওপর একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 

বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আগাছা দমনে গবেষণা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?

আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগাছা বিষয়ে গবেষণা বাড়ানো উচিত। এ বিষয়ে আমি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের চার্লস স্টুয়ার্ট ইউনিভার্সিটি এ বিষয়ে সাহায্য করার জন্য খুবই পজিটিভ। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তারা এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। আমাদের এবিষয়ে বিশেষজ্ঞ আছেন। বাংলাদেশ যদি চায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারে এবং একটা হাব তৈরি করতে পারে। এই হাবের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা যায়। সেখানে প্রশিক্ষণের একটা ব্যবস্থা থাকতে পারে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলামে একটু আপগ্রেড করা প্রয়োজন। দেশের প্রতিটি  কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত একটি করে হার্বিসাইড রেজিস্ট্যান্ট টেস্টিং সেন্টার তৈরি ও মনিটর করা উচিত। সরকারের পলিসিতে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা উচিত। যেমন কেমিক্যাল আমদানির ক্ষেত্রে সরকারে নজর দেওয়া উচিত।

আমাদের দেশে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাছা নিরোধ করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ক্রোফড ফান্ড থেকে একটি প্রকল্প নিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?

আধুনিক পদ্ধতিতে আগাছা দমন করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার কৃষি গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রোফড ফান্ডের একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঠাকুরগাঁও শহরে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে। এই ওয়ার্কশপে আমার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন আরও তিনজন অস্ট্রেলিয়ান গবেষক যারা গত বুধবার বাংলাদেশে এসেছেন। আমি লিড ফ্যাসিলেটর হিসেবে কাজ করছি এই প্রজেক্টে। আগাছা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জড়িত কৃষক, কৃষি কেমিক্যাল আমদানিকারক ডিলার, কৃষি অফিসার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নিয়ে এসব ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে আমরা একটা সচেতনতা তৈরি করতে চাই। বিশেষ করে, কৃষকরা যেন সঠিক জ্ঞান পান। তারা যেন সঠিকভাবে ও সময়মতো কেমিক্যাল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া সময়মতো আগাছা দমন করতে পারেন। দিনশেষে যেন তারা বেশি উপকৃত হয় আগাছা দমনের মাধ্যমে, সে বিষয়টিকে ওয়ার্কশপে গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় আগাছা দমনে অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল হাবের কথা বলছিলেন। বাংলাদেশে কি এ ধরনের কোনো হাব নির্মাণ করা সম্ভব? যেখানে তথ্য, তত্ত্ব ও অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশে একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যাবে?

আমি অস্ট্রেলিয়াতে থাকা অবস্থায় দুটি ফান্ডিং বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যারা ডেভেলপিং কান্ট্রিতে গবেষণার জন্য বিশেষ করে এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে গবেষণার জন্য ফান্ডিং করে থাকে। তারা বলেছে, যদি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় আগ্রহী হয় তাহলে তারা বাংলাদেশেও ফান্ডিং করতে আগ্রহী আছেন। সেক্ষেত্রে তারা একটা বড় অ্যামাউন্ট কন্ট্রিবিউশন করতে চায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার জন্য। কিন্তু অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারকেও সে ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। হয়তো একটা নির্দিষ্ট অংশ বাংলাদেশ সরকার বা কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিনিয়োগ করতে হবে।

সে ক্ষেত্রে সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থ ফান্ডিং বোর্ডই করে থাকে। বাকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ইন কান্ট্রি বা যে দেশ এ ধরনের হাব তৈরি করতে চায় তাদের দিতে হয়। আমি একটা উদাহরণ দিতে পারি- আমরা সম্প্রতি লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায় এরকম একটা হাব তৈরি করার জন্য কাজ করছি। তাদের সরকার স্বেচ্ছায় ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে চায়। আমরা অস্ট্রেলিয়ান ফাউন্ডিং বডিকে বলেছি, তারা যেন ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ করে। যদি করে, তাহলে আমরা সেখানে এই প্রজেক্টটি চালু করব। যেহেতু আমি জানি, বাংলাদেশে আগাছা দমন অনেক সমস্যা রয়েছে। তাই এখানে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

/আবরার জাহিন

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি