ইসরায়েলে পাওয়া এক প্রাচীন প্যাপিরাসের পাণ্ডুলিপি অনুবাদে উঠে এসেছে রোমান সাম্রাজ্যের সময়কার অপরাধ ও দাস মালিকানার তথ্য। এটি প্রায় ১ হাজার ৯০০ বছর পুরোনো। গবেষকদের মতে, এটি জুডিয়ায় (বর্তমান ইসরায়েল) রোমান শাসনামলের সবচেয়ে বিস্তারিত আদালতের নথি, যাতে যিশুর বিচার ছাড়া অন্য কোনো মামলার বিষয়ে এত সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে।
২০১৪ সালে ইসরায়েল অ্যান্টিকুইটিজ অথরিটির ডেড সি স্ক্রোলস ইউনিটে সংরক্ষিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সাজানোর সময় গবেষকরা জুডিয়ান মরুভূমিতে পাওয়া একটি দীর্ঘ প্যাপিরাসের সন্ধান পান। এটিকে মূলত প্রাচীন আরবি উপভাষা ‘নাবাতিয়ান’ ভাষার লেখা বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের বিশেষজ্ঞ হানাহ কটন পরীক্ষা করে জানান, এটি আসলে গ্রিক ভাষায় লেখা।
পরবর্তী এক দশকে গবেষক দল ১৩৩ লাইনের দীর্ঘ এই নথিটি বিশ্লেষণ করেন। তাদের গবেষণা চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি জার্নাল টাইকিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, প্যাপিরাসটিতে রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হ্যাড্রিয়ানের (১১৭-১৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) শাসনামলে একটি মামলার প্রক্রিয়ার তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। এটি বার কোখবা বিদ্রোহের (১৩২ খ্রিষ্টাব্দ) আগে রোমান শাসিত জুডিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই মামলায় বলা হয়েছে, গাদালিয়াস ও সাওলাস নামের দুই ব্যক্তি জাল কাগজপত্র তৈরি করে দাস কেনাবেচার মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্যের কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। গবেষকদের মতে, রোমান আইনে জালিয়াতি ও কর ফাঁকি গুরুতর অপরাধ ছিল, যার শাস্তি কঠোর শ্রমদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারত।
প্যাপিরাসে দাস কেনাবেচার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রাচীন ইহুদিরা দাস মালিকানা করতেন কি না, এই বিতর্কিত প্রশ্নের একটি প্রমাণ হতে পারে। এতে উল্লেখ রয়েছে, সাওলাস ও তার পিতা একাধিক দাসের মালিক ছিলেন। তবে ওই দাসেরা নিজেরাও ইহুদি ছিলেন কি না, তা নথিতে স্পষ্ট নয়।
গবেষকদের মতে, প্যাপিরাসটির অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো মামলার ফলাফল জানা সম্ভব হয়নি। কোথায় বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, অভিযুক্তরা রোমান নাগরিক ছিলেন কি না, এসব তথ্য অনুপস্থিত প্যাপিরাসে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, বার কোখবা বিদ্রোহের সময় আতঙ্কে এর মালিক এটি জুডিয়ার মরুভূমির গুহায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেখানেই এটি প্রায় দুই সহস্রাব্দ ধরে ডেড সি স্ক্রোলসের অন্যান্য নথির সঙ্গে সংরক্ষিত ছিল।
গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন জুডিয়ার আইন, অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স


