মহাকাশে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ স্থাপনের ৩৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)। এ উপলক্ষে তারা ঈগল নেবুলা বা নীহারিকার একটি অসাধারণ নতুন ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে নীহারিকাটির ভেতরে মহাজাগতিক গ্যাস ও ধূলিকণার তৈরি বিশাল এক কুণ্ডলীর অংশবিশেষ দেখা যাচ্ছে। ঈগল নেবুলার এই অংশটি শেষবার হাবল টেলিস্কোপে ধারণ করা হয়েছে প্রায় দুই দশক আগে।
নাসা ও ইএসএ জানিয়েছে, ছবিতে দৃশ্যমান গ্যাস ও ধূলিকণার কুণ্ডলীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ দশমিক ৫ আলোকবর্ষ। এটি মূলত আরও বড় ঈগল নেবুলার একটি ক্ষুদ্র অংশ। ঈগল নেবুলা তরুণ নক্ষত্রদের ‘নার্সারি’ হিসেবে পরিচিত। নতুন প্রকাশিত ছবিতে কমলা ও গাঢ় নীল রঙের যে আকর্ষণীয় মিশ্রণ দেখা যায়, তা মূলত হাইড্রোজেন গ্যাস ও মহাজাগতিক ধূলিকণার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
পুরো নীহারিকাটিকে একসঙ্গে দেখলে এর মেঘের প্রান্তগুলো উড়ন্ত শিকারি পাখির ডানার মতো মনে হয়, আর সে কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে ঈগল নেবুলা। নতুন ছবিতে প্রকাশিত কুণ্ডলীটিকে সেই কাল্পনিক পাখির ডানার অংশ বলে মনে হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশের দারুণ সব ছবি তুলেছে। তবে হাবলের প্রকাশিত এই নতুন ছবি প্রমাণ করে, পুরোনো এই টেলিস্কোপটিও কর্মক্ষমতা ধরে রেখেছে। নাসা জানিয়েছে, হাবলের তোলা ছবির ডেটা প্রক্রিয়াকরণে নতুন কৌশল প্রয়োগ করার ফলে ছবিগুলো আরও বেশি স্পষ্ট ও রঙিন হয়ে উঠছে।
হাবলের ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে টেলিস্কোপটি মহাকাশের বেশ কয়েকটি পরিচিত লক্ষ্যবস্তুর ছবি নতুন করে তুলছে বা পুরোনো তথ্য নতুনভাবে বিশ্লেষণ করছে। ভিন্ন কোণ থেকে ছবি তোলা এবং উন্নত ডেটা প্রসেসিং কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে আরও দর্শনীয় ও রঙিন ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। গবেষকদের মতে, যদিও এসব ছবিতে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়নি, তবে আগের চিত্রগুলোর তুলনায় এগুলো অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন। সুত্র: নাসা


