তুরস্কের দক্ষিণে গবেকলি তেপে নামে প্রাচীন মন্দিরসমৃদ্ধ স্থানে ১২,০০০ বছরের পুরনো একটি স্মৃতিস্তম্ভ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা চিহ্নগুলি সূর্যভিত্তিক দিন ও বছর চিহ্নিত করে থাকতে পারে। এটির ভিত্তিতে এটি প্রাচীন বিশ্বের সম্ভবত সবচেয়ে প্রাচীন সূর্য ক্যালেন্ডার হতে পারে বলে জানা গেছে।
গবেষকরা বলছেন, প্রতিটি “V” আকৃতির চিহ্ন একটি একক দিনকে নির্দেশ করছে। একটি স্তম্ভে ৩৬৫টি “V” খোদাই করা ছিল। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সূর্যাবস্থা (Summer Solstice) বিশেষভাবে একটি পাখি আকৃতির প্রাণীর ঘাড়ের চারপাশে চিহ্নিত ছিল। এই চিহ্নটি সেই সময়ের গ্রীষ্মকালীন নক্ষত্রমণ্ডলকে নির্দেশ করে।
গবেকলি তেপের খোদাই করা প্রতীকগুলো দেখায় যে প্রাচীন বাসিন্দারা দিন, রাত ও ঋতুচক্র সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। বিশেষ করে প্রায় ১০৮৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে একটি বিশাল ধূমকেতু পতনের পর এই প্রাচীন সভ্যতা আকাশ পর্যবেক্ষণে উৎসাহী হয়ে ওঠে।
গবেষক মার্টিন সোয়েটম্যান বলেন, “ধূমকেতু পতনের পর নতুন ধর্ম ও কৃষি উন্নয়নের দিকে উৎসাহিত হয়ে এটি সভ্যতার বিকাশকে উদ্দীপিত করেছে। সম্ভবত তাদের পর্যবেক্ষণগুলো লিখিত ভাষার প্রথম পদক্ষেপ।”
খোদাই করা প্রতীকগুলোতে চাঁদ ও সূর্যের চক্রও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যা অন্যান্য ক্যালেন্ডার আবিষ্কারের চেয়ে বহু সহস্রাব্দ আগের। ধূমকেতু ও পৃথিবীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে পৃথিবীর কক্ষপথ যখন ধূমকেতুর ভগ্নাংশের পথে আসে, তখন ধূমকেতু পতনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
গবেষকরা আরও দেখিয়েছেন যে- একটি স্তম্ভে ২৭ দিনের টরয়েড (Taurid) ধূমকেতু প্রবাহও চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সম্ভবত প্রাচীন ধূমকেতু পতনের উৎস।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে গবেকলি তেপের প্রাচীন সভ্যতা তারিখ ও নক্ষত্রের অবস্থান নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করত। এটি প্রায় ১০০০০ বছর আগে হিপপারকাসের নথিভুক্ত পৃথিবীর অক্ষের হেলান পর্যবেক্ষণের চেয়ে বহু আগের, যা এটিকে তার সময়ের জন্য অত্যন্ত অগ্রগামী ক্যালেন্ডার হিসেবে পরিচিত করেছে। সূত্র: ইয়াহু
মেহেদী/


