শিশুদের রঙিন পোশাকে ব্যবহৃত উজ্জ্বল রঙে বিষাক্ত সিসার উপস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া শিশুদের পোশাকে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। এমনকি শিশু যদি অল্প সময়ের জন্য এসব কাপড় মুখে দেয় বা চিবায়, তবে তার শরীরে সিসার ‘ক্ষতিকর মাত্রা’ প্রবেশ করতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
সাশ্রয়ী উপায়ে কাপড়ে রং বসাতে এবং রংকে আরও উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী করতে টেক্সটাইলশিল্পে সিসার যৌগ ‘লেড (II) অ্যাসিটেট’ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি কেবল কাপড়ে নয়, বরং শিশুদের পোশাকের জিপার, বোতাম এবং অন্যান্য ধাতব অংশেও পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, সিসার কোনো মাত্রা নিরাপদ নয়। এটি শিশুদের আচরণের সমস্যা, মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিসহ স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা পণ্যের নিরাপত্তা কমিশন (সিপিএসসি) শিশুদের খেলনা ও পোশাকে সিসার সর্বোচ্চ সীমা ১০০ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের বসন্তকালীন সভায় উপস্থাপিত এক নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা লাল, গোলাপি, কমলা, হলুদ, ধূসর এবং নীলসহ ১১টি বিভিন্ন রঙের পোশাক পরীক্ষা করেছেন। এসব পোশাক জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিসকাউন্ট দোকান থেকে কেনা হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিটি পোশাক ফেডারেল নিরাপত্তা মানদণ্ড ভঙ্গ করেছে। অর্থাৎ সব ক’টিতে সিসার মাত্রা ১০০ পিপিএমের চেয়ে বেশি ছিল। গবেষণার অন্যতম লেখক প্রিসিলা এসপিনোজা বলেন, ‘আমরা দেখেছি প্রতিটি শার্টেই সিসার পরিমাণ অনুমোদিত সীমার অনেক ওপরে।’ মারিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টিনা অ্যাভেলো ব্যাখ্যা করেছেন যে, শিশুরা কেবল সিসার প্রভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বরং তারা প্রায়ই পোশাক মুখে দিয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা রঙের চেয়ে লাল ও হলুদের মতো গাঢ় এবং উজ্জ্বল রঙের কাপড়ে সিসার পরিমাণ বেশি থাকে।
গবেষকরা কৃত্রিমভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, একটি শিশু যখন কাপড় চোষে বা চিবায়, তখন তার শরীরে কী পরিমাণ সিসা প্রবেশ করে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রক্রিয়ায় শিশুর শরীরে প্রবেশ করা সিসার পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) নির্ধারিত দৈনিক সীমার চেয়ে অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এসব কাপড় ধোয়ার সময় ওয়াশিং মেশিনের ভেতরেও সিসার অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে।
ভবিষ্যতে আরও বেশিসংখ্যক পোশাক নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা আশা করছেন, এই ফলাফল পোশাক বাজারে পৌঁছানোর আগে আরও কঠোরভাবে স্ক্রিনিং করতে উৎসাহিত করবে। সিসার বিকল্প হিসেবে ওক গাছের বাকল, ডালিমের খোসা বা রোজমেরি থেকে তৈরি প্রাকৃতিক রং ব্যবহারের ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট


