ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

চিন্ময়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৮ পিএম
আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:২৭ এএম
চিন্ময়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি)। আদালত কতৃক পূর্বের নির্ধারিত ছিল শুনানির সময়। এর জন্য চট্টগ্রাম আদালতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকে যৌথ বাহিনী টহল ও পাহাড়া দিচ্ছে চট্টগ্রাম আদালত এলাকা। 

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হলে কোতোয়ালী থানায় হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। ওইদিন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যান আটকে চিন্ময়ের অনুসারীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে সরিয়ে দিতে টিয়ারেশল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়লে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশসংসভাবে হত্যা করা হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর চিন্ময়ের পক্ষে আগাম শুনানির জন্য উচ্চ আদালত থেকে ওকালতনামা স্বাক্ষর করে নিয়ে এসেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ। 

কিন্তু চট্টগ্রাম বারের আইনজীবীর ওকালতনামা দিয়েই মামলায় লড়তে হবে-এমনটাই জানিয়েছেন আদালত। পরপর তিনবার এজলাস বসলেও স্থানীয় বারের কোনো আইনজীবী ওকালতনামা দেননি। ফলে, রবীন্দ্র ঘোষের আবেদন নথিভুক্ত করে আবারও ২ জানুয়ারিই শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওইদিন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির নেছার আহমেদ। 

চট্টগ্রাম বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস চট্টগ্রাম বারের আইনজীবী হত্যার আসামি। তার পক্ষে চট্টগ্রামের কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে রাজি নন। আমরা আমাদের ভাই আলিফ হত্যার জন্য চিন্ময় দাসের শাস্তি চাই। 

এদিকে চট্টগ্রাম আদালতের অদূরে সরকারি কৌঁসলি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুন হন এবং পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করে তার বাবা এবং ভাই। আর পুলিশ করে ৩ টি মামলা। 

আলিফের বাবার করা হত্যা মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর ভাইয়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয় ১১৬ জনকে। সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশিস শর্মাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি মামলাটির ৩৩ নম্বর আসামি। এরপর আজ চিন্ময়ের জামিন শুনানীর দিন ধার্য্য থাকলেও সে সময় কোনো আইনজীবীই তার পক্ষে অংশ নেননি। ফলে আদালত আগামী বছরের ২ জানুয়ারি শুনানীর দিন ধার্য্য করেছিলেন আদালত। 

গত ২৫ অক্টোবর লালদিঘি মাঠে সনাতনীদের নিয়ে একটি বড় সমাবেশ করে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট নামে দুটি সংগঠন। ওই সমাবেশের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন নতুন এই জোটের মুখপাত্র চন্দন দাস ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। 

সেদিন সমাবেশ শেষে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে ইসকনের গেরুয়া রঙের আরেকটি পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে ৩০ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন বিএনপির এক নেতা। পরে তাকে বহিস্কার করে বিএনপি। সেই মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা থেকে। 

এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণকে আলিফ হত্যায় আসামি করতে আইনজীবীরা বার বার বিক্ষোভ করেছে। আইনজীবীরা চিন্ময়কে আলিফ হত্যা মামলায় আসামি করার দাবি জানান। 

এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৮ জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তাদের মধ্যে নুরু ও দেলোয়ার নামে দুই আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করেন সানজিদা গফুর নামে জুনিয়র আইনজীবী। এনিয়ে আদালত এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। কেননা সানজিদা গফুর আদালতের কাছে যে ওকালতনামাটি দাখিল করেন সেটিতে রাস্ট্র পক্ষের আইনজীবী নেজামুদ্দিনের সীল পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক আইনজীবীরা তার কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তিনি লিখিতভাবে অতিরিক্ত মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। 

মাহফুজ

ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ
ছবি : খবরের কাগজ

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে ব্যভিচারের অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রীর তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। 

শরীয়তের বিধান মতেই তামিমার দেওয়া তালাক কার্যকর হয়েছিল। ফলে আইনগতভাবে নাসিরের  সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না মর্মে বিচারকের দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে মর্মে আদালত সূত্রে জানা গেছে। 

ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার বিচার শেষে রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির ও তামিমাকে বুধবার (১০ জুন) বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

খালাসের কারণ হিসেবে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, 'নাসির-তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না। আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সেক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় মর্মে গণ্য করতে হবে। তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছে তার তালাক নামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইতে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

এদিকে, তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি মর্মে আদালতে দাবি করেছেন বাদী। 

কিন্তু, আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রশিদ আদালতে দাখিল করেছে।

ডাকবিভাগের চিঠি বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তা গ্রহণ করেননি বাদী। 

আদেশে বলা হয়, ২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদি রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদির সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে তারা স্বামী স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন—এটা প্রমাণ হয় না।

এছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু বাদি আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছিল, সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ সালে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। 

আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।' 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার বাদী ও আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।  

২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা 

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। 

এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি দন্ডবিধি-র ৪৯৪/৫০০/৩৪ ধারার অভিযোগে আদালতে একটি নালিশী (সিআর) মামলা করেন রাকিব। 

অভিযোগে বলা হয়, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়েছে। 

আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে  প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

পরের বছরের ২৪ জানুয়ারি  নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার বিচার চলাকালে ডাক বিভাগের একজন মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও দুইজন চেয়ারম্যানসহ মোট১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। 

নাসির তামিমা খালাস পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ বাদী ও তার আইনজীবী ইসরাত হাসান জানিয়েছেন, রায়ের আদেশের পুর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তারা আপিলে যাবেন। 

আসামিদের অন্যতম আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত যথার্থই রায় দিয়েছেন। সংক্ষুব্ধ পক্ষেরও আপিল করার আইনগত অধিকার রয়েছে। 

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এসএন

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
চট্টগ্রামে  ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
ছবি: আসামি মনির হোসেন

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।

এ সময় আসামি মনির হোসেন (৩০) উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন স্বাক্ষী রয়েছেন। প্রথম দিনের শুনানিতে বাদীসহ ৯ জন স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সবার আগে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবাও মামলার বাদী মেহেদী হাসানের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। পরে ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

গত ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় আটক আসামিকে পুলিশ থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। তারা বলেন- তারাই ওই যুবকের শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় তাকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। 

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সেদিন রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। অপরদিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।

শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ
সালমান শাহ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এর আগে, গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। 
তিনি বলেন, কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমান শাহকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং পরে তাকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তার মামা মো. আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে তার স্ত্রী সামীরা হক এবং শিল্পপতি ও প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

এর আগে, আদালত অপমৃত্যুর মামলা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময়কার সন্দেহজনক পরিস্থিতি ও নানা অসঙ্গতি নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন তৈরি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সালমান/

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হচ্ছেন। ছবি: খবরের কাগজ

ডিভোর্স সম্পন্ন না করেই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়, তাদেরকে খালাস প্রদান করেন। 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন রাকিব। আদালত মামলাটি তদন্ত করে  পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

রাকিবের অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়। 

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

পরে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার বিচার চলাকালে  ১০ জন সাক্ষী আদালতে  সাক্ষ্য প্রদান করেন। 

রিফাত/

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
হাইকোর্ট

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন। এর পর গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

অমিয়/