ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় রুবেলকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল শনিবার আদালতে হাজির করেন বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা।
রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ-সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন, আসামি স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বিধানমতে তা রেকর্ড করা হোক।
গত ২৮ জানুয়ারি রুবেলকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি প্রথম দফায় তাকে ৬ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদীর নারাজি দাখিল করার পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।
এরপর থেকে চার দফায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
প্রথমবার মামলার তদন্ত শেষে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩০২, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তাদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, সঞ্জয়, ফয়সাল ও রাজু ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, সিবিউন ও আমিনুল ইসলাম স্বীকারোক্তি দেননি। এরা সবাই কারাগারে আছেন।