বরিশাল আদালতে পাঁচ দিন ধরে চলা অচলাবস্থা সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতি ও জাতীয়তাবাদী রবিবার (১ মার্চ) থেকে সব কক্ষে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আদালত বর্জন কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দুই সংগঠনের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় ১ মার্চ থেকে আদালত বর্জনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করা হল। সমিতির সব সদস্যকে আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হল।”
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বরিশাল জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না ও সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন স্বাক্ষরিত নোটিশেও একই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনজীবীদের সূত্র জানায়, ২ মার্চ ধার্য বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান (লিংকন)–এর জামিন আবেদন ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আদালত ও আইনজীবী উভয় পক্ষই সমঝোতার ভিত্তিতে শনিবার রাতে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
রবিবার আদালতে গিয়ে দেখা যায়, সব কক্ষে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম চলছে। বানারীপাড়া থেকে আসা মডিউর রহমান সরদার বলেন, “বড় ভাইয়ের ওয়ারিশদের সাকসেশন সনদ পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে এসেছিলাম, কিন্তু আদালত বর্জনের কারণে কাজ হয়নি। রোববার সমাধান হওয়ায় সনদের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, “আদালত ও আইনজীবীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। জামিন ও মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে।”
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়েছি বলা যাবে না। তবে আলোচনা চলমান রয়েছে।
আদালতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আদালতে ভাঙচুর, বিচারকাজে বাধা ও আদালত অবমাননার ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবীরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক পর্যায়েও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ৪৯ জন আওয়ামীপন্থি আইনজীবী আদালতের এজলাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, “জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির একক সিদ্ধান্তে আদালত বর্জন ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের একটি হত্যা চেষ্টা ও অঙ্গহানির মামলায় বরিশাল–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস ২৩ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন করেন। জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আদালত বর্জন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৫ ফেব্রুয়ারি সাদিকুর রহমান (লিংকন) গ্রেপ্তার হন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জন শুরু হয়। পাঁচ দিন পর সমঝোতার মাধ্যমে কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।
মঈনুল ইসলাম সবুজ/এসএন