বিজয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে প্রাদেশিক সরকারের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর প্রধানদের হাতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের তালিকা ধরিয়ে দেন। সেই তালিকা মোতাবেক একাত্তরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার কলতাবাজার এলাকা থেকে পিপিআইয়ের জেনারেল ম্যানেজার ও বিবিসির প্রতিবেদক নিজামউদ্দিন আহমেদকে উঠিয়ে নেয় একাত্তরের ঘাতক-দালালরা। অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশ দিবস পালিত হয়।
১২ ডিসেম্বর ভোরে ক্যাপ্টেন গাফফারের নেতৃত্বে ফোরথ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হন। নাজিরহাটে পাকবাহিনীর ২৪তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের তিনটি কোম্পানির সদস্য মুক্তিযোদ্ধাদের বাধা দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রবল যুদ্ধে তারা পেরে ওঠেনি।
এদিন দিনাজপুরে ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার রশীদের দল খানসামা আক্রমণ করে। পাকিস্তানি হানাদার মেজর খুরশীদসহ ১৯ জন সৈন্যকে আটক করে মুক্তিবাহিনী। পরে তারা নীলফামারীর দিকে এগিয়ে যায়।
১২ ডিসেম্বর দিনাজপুরে ঘটে নৃশংস গণহত্যা। সেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি দল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পিছু হটছিল। একপর্যায়ে বিরল থানার বহলা গ্রামে কাঞ্চন ক্যাম্পের হানাদার সেনারা গ্রামবাসীকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দেয়। মাগরিবের আজানের সময় হানাদার বাহিনী নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর ব্রাশফায়ার করে। শহিদ হন ৩৭ জন।
এদিন কুমিল্লায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে আসা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল যুদ্ধ চলে। ভোরে গোলাবারুদ ফুরিয়ে গেলে ১ হাজার ৭০০ পাকসেনা আত্মসমর্পণ করে। এতে চান্দিনা হানাদারমুক্ত হয়।
এদিন নরসিংদী পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। বগুড়ার এতিমখানা এলাকায় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে প্রবল যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক হানাদাররা। লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি তারা। পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী কয়েকজন পাকসেনাকে ধরে ফেলেন। গণপিটুনিতে নিহত হয় তারা।
১২ ডিসেম্বর গাইবান্ধায় ৫ নম্বর সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা গোবিন্দগঞ্জ দখল করে নেন। সিলেটের গোয়াইনঘাট ও হরিপুরে ক্যাপ্টেন আব্দুর রবের নেতৃত্বে কঠিন লড়াই চালিয়ে যান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।