ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা
Nagad desktop

হিলি মুক্ত দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম
হিলি মুক্ত দিবস উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

আজ ১১ ডিসেম্বর দিনাজপুরের হিলি মুক্ত দিবস। নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে উদযাপন হচ্ছে দিবসটি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়।

পরে শহিদ ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত সম্মুখসমর সৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দেয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের এইদিনে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা হিলিতে পাক সেনাদের বিভিন্ন অস্তানায় আকাশ ও স্থলপথে একযোগে আক্রমণ চালায়। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ৭নং সেক্টরের আওতায় হিলি শত্রুমুক্ত হয়। এ সময় এখানে পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ৩৪৫ জন ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্য ও দেড়শতাধিক নাম না জানা মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন।

কুদ্দুস আলী/অমিয়/

যশোর গণহত্যা দিবস ৪ এপ্রিল

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ পিএম
যশোর গণহত্যা দিবস ৪ এপ্রিল
যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসার ২৩ শহিদের ঐতিহাসিক গণকবর। ছবি: খবরের কাগজ

একাত্তরের সময়ে যশোরের এক নির্মমতার দিন ৪ এপ্রিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোরের ইতিহাসের নৃশংসতম দিনগুলোর অন্যতম এটি। এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শহরজুড়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। হত্যার শিকার হন যশোরের রাজনীতিক, শিক্ষক, ছাত্র ও পেশাজীবী, ধর্মীয় নেতারা। দিনটি যশোরবাসী ‘যশোর গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করেন। 

গণহত্যায় ৫১ জন নিহতের কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি ছিল। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ২০২৪ সালে ২৪ মার্চ কয়েকজনকে শহিদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। তবে বাকিরা পাননি কোনো স্বীকৃতি। নেই কোনো স্মৃতিস্মারকও। ওই দিনের শহিদদের স্বীকৃতির দাবিতে বছরের পর বছর ঘুরছেন স্বজনরা।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সারা দেশের মতো যশোরেও ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ প্রস্তুতি। আর এপ্রিলের শুরু থেকেই গোটা বাঙালি জাতি পুরোদমে যুদ্ধজয়ের প্রস্তুতিতে মাঠে নেমে পড়ে। এই যুদ্ধ প্রস্তুতিকে থামিয়ে দিতে নৃশংস হয়ে ওঠে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা। এ সময় যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাক আর্মি শহরের বিভিন্ন স্থানে চালাতে থাকে বর্বরোচিত হামলা। যশোরে তাদের সবচেয়ে নৃশংসতম হামলার ঘটনাগুলোর অনেকটিই ঘটে ৪ এপ্রিল। এদিন যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন বাড়িতে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালায়। প্রকাশ্যে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে এদিন তারা হত্যা করে শতাধিক বাঙালিকে। 

এদিন সবচেয়ে বড় ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সে দিনের সেই নারকীয় তাণ্ডবের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী রেলস্টেশন এলাকার শেখ আব্দুর রহিম জানান, ৪ এপ্রিল ভোরে শহরের রেলস্টেশন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ফজরের নামাজ শেষ করে কোরআন শরিফ পাঠ করছিলেন। এমন সময় স্থানীয় বিহারিদের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাণ্ডব চালায়। মাদ্রাসার বড় হুজুর আবুল হাসান যশোরী পাক আর্মিদের নিবৃত্ত করতে গেলে অবাঙালিরা পাক আর্মিদের জানায় এরা সবাই ইপিআর; পাকিস্তানের শত্রু। এর পরই পাক আর্মি নির্বিচারে গুলি চালায়। মাদ্রাসা প্রাচীরের ওপর থেকে এই দৃশ্য দেখে পালিয়ে যান আব্দুর রহিম। পরে দুপুরের দিকে তিনি এবং তার ভাই জাহাঙ্গীর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসে দেখেন রক্তে ভেসে যাওয়া গোটা অঞ্চলে শুধু লাশ আর লাশ। এখানেই ছিল ২৩ জনের লাশ। তাদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় মিললেও বাকি ৭ জনের পরিচয় আজও জানা যায়নি। 

এদিন বিকেলে যশোর শহরের ফাতিমা হাসপাতালের পাশের ক্যাথলিক চার্চে ঢুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে ইতালীয় ধর্মযাজক ফাদার মারিও ভেরোনেসিসহ আরও ছয়জন নিরীহ মানুষকে। 
বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হানাদাররা গালিগালাজ করতে করতে চার্চে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী পরেশ সরদারের বর্ণনায় উঠে আসে সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য–ফাদার মারিও দুই হাত উঁচু করে একজন সৈন্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। কিন্তু কোনো কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে মুহূর্তেই তাকে গুলি করা হয়। এরপর একে একে গুলি করা হয় স্বপন বিশ্বাস, অনিল সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, পবিত্র বিশ্বাস, ফুলকুমারী তরফদার ও ম্যাগদালেনা তরফদারকে। কেউ প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও রক্ষা পাননি। ঘরের ভেতর ঢুকে দরজা ভেঙে–এমনকি নারীদেরও নির্মমভাবে মারপিট করা হয়। চার্চ প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।

একই দিনে শহরের গুরুদাসবাবু লেনেও চলে পাক হানাদারদের নারকীয় তাণ্ডব। এই লেনের বাড়ি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী ও তার তিন ছেলে যশোর মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের ছাত্র সৈয়দ নুরুল ইসলাম বকুল, সৈয়দ শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থী আজিজুল হককে পাক সেনারা ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নির্মম নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করে। 

তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে রেলস্টেশন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান ও জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রউফ ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী শহিদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। 

যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, গণহত্যার শিকার শহিদদের স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া যশোরের গণহত্যা দিবসের কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মারক নেই। তিনি কবর সংরক্ষণ, শহিদদের স্বীকৃতি ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

নাটোর মুক্ত দিবস ২১ ডিসেম্বর

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২১ পিএম
নাটোর মুক্ত দিবস ২১ ডিসেম্বর
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেও নাটোর মূলত মুক্ত হয় আরও ৫ দিন পর ২১ ডিসেম্বর। ওইদিন নাটোরের উত্তরা গণভবনে ভারতীয় বাহিনীর কাছে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে নাটোর মুক্ত হয়।

পাকিস্তান বাহিনীর নাটোর ব্যারাক কমান্ডার পিএ ১৭০২ ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ ভারতীয় বাহিনীর আইসি ৪৫৫১ ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে আত্মসমর্পন করেন।

জানা যায়, মু্ক্তিযুদ্ধের সময় নাটোর ছিল পাকিস্তান হানাদারদের ২নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। এখান থেকেই দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনা করতো পাক বাহিনী। ১৬ ডিসেম্বর দেশের অন্যান্যস্থান শত্রুমুক্ত হলেও ২১ ডিসেম্বর আত্মসমর্পনের আগ পর্যস্ত পূরো নাটোর ছিল পাক বাহিনীর দখলে। নাটোরের উত্তরা গণভবন ছাড়াও আনছার কোয়ার্টার, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ, নাটোর রাজবাড়ি, পিটিআই,নাটোর মহারাজা জেএন উচ্চ বিদ্যালয়,ভকেশনাল স্কুল,দিঘাপতিয়া কালিবাড়ি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ছিল পাক সেনাদের ঘাটি। এ সময় পাক হানাদার বাহিনী নাটোর সদর উপজেলার ফুলবাগান, ছাতনী, দত্তপাড়া, মোহনপুর, লালবাজার, কাপুড়িয়াপট্টি, শুকলপট্টি, মল্লিকহাটি, বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া ক্যাথলিক মিশন, গুরুদাসপুর উপজেলার নাড়িবাড়ি, সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ, কলম এবং লালপুর উপজেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চত্বরসহ ২০টি স্থানে গণহত্যা চালায়। 

১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের পর বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নবাবজগঞ্জ প্রভৃতি স্থান থেকে পাকিস্তানি সেনারা নাটোরের পিটিআই স্কুল, আনসার হল, রিক্রিয়েশন ক্লাব, এনএস সরকারি কলেজ, নাটোর রাজবাড়ি ও দিঘাপতিয়া উত্তরা গণভবনে (তৎকালীন গভর্ণর হাউস) আশ্রয় নেয়। এরপর ২১ ডিসেম্বর উত্তরা গণভবন 
চত্বরে পাকিস্তান বাহিনীর নাটোর ব্যারাক কমান্ডার পিএ ১৭০২ ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ ভারতীয় বাহিনীর আইসি ৪৫৫১ ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে আত্মসমর্পন করেন। 

এ সময় পাকিস্তান বাহিনীর ১৫১ জন অফিসার, ১৯৮ জন জেসিও, ৫ হাজার ৫০০ সৈনিক, ১ হাজার ৮৫৬ জন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য তাদের ৯টি ট্যাংক, ২৫টি কামান ও ১০ হাজার ৭৭৩টি ছোট অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে। 

নাটোরের বীর প্রতীক সোলায়মান আলী দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনী নাটোরের যে সকল স্থানে গণহত্যা চালিয়েছিল তার কিছুস্থানে গণকবর ও শহিদ মিনার নির্মিত হলেও তার যথোপোযুক্ত তত্বাবধান নেই। এখনও কোনো শহিদ স্মৃতি নির্মিত হয়নি বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের (মুক্তিযুদ্ধকালীন  মিলিটারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার) ভেতরের শিমুলতলায়। তালিকা হয়নি গণকবরে শায়িত শহিদদের। সংরক্ষিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, যা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পরিত্যাক্ত ভবন সংস্কার করে করা যায়। সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়নি নাটোরের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। 

শুধুমাত্র বিশেষ দিন পালন ও শহিদদের স্মরণের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ইতিহাস ভুলে যাবে দাবি করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের আশু পদক্ষেপ কামনা করেন।

কামাল মৃধা/অমিয়/

নওগাঁয় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম
নওগাঁয় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দু’দিন পর ১৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় নওগাঁ। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে জেলাটিতে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এ উপলক্ষে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’ একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। প্যারীমোহন লাইব্রেরি চত্বর থেকে র‍্যালিটি বের হয়।

একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারীর নেতৃত্বে আয়োজিত র‍্যালিতে একুশে পরিষদের সর্বস্তরের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালিটি কাচারি সড়ক, ঔষধপট্টি, ব্রিজের মোড়, প্রথম সড়ক ধরে মুক্তির মোড় হয়ে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে একুশে পরিষদের সভাপতি ডি এম আব্দুল বারীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে ১৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস হলেও নওগাঁ মহকুমা তখন পাক সেনাদের দখলে ছিল। এ সময় পাক সেনারা মৃত্যুর ভয়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়নি। পাক সেনারা কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাদের চাহিদা মোতাবেক ১৮ ডিসেম্বর বগুড়া থেকে মিত্রবাহিনীর একজন কমান্ডার এবং ভারতের বালুরঘাট থেকে পি ভি রায় নামের আরেকজন কমান্ডার নওগাঁয় এলে পাক সেনারা তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করে। নওগাঁ হয় হানাদারমুক্ত।

এদিকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুই দিনে পাক সেনারা নওগাঁ শহরের সন্নিকটে জগৎসিংহপুরে একটি অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করে।

ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধ: দিনের বেলায় কৃষক, রাতে গেরিলা

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম
ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধ: দিনের বেলায় কৃষক, রাতে গেরিলা
স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ যোদ্ধাদের স্মরণে ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম এলাকায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে চূড়ান্ত বিজয়ের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। এই বিজয়ের পেছনে যে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ময়মনসিংহ অঞ্চল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ জেলা ছিল গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গন। এই জনপদের মাটি আজও বহন করে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার রক্ত, আর প্রতিটি পথ-প্রান্তর সাক্ষ্য দেয় সাহস, ত্যাগ ও প্রতিরোধের ইতিহাস।

ময়মনসিংহের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭ মার্চ থেকেই ময়মনসিংহে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়। এরই মধ্যে ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়মনসিংহের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষকসহ অনেক তরুণ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই অস্ত্র হাতে তুলে নেন। আর যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, তারা দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে এসেছিলেন ময়মনসিংহে।

ময়মনসিংহ অঞ্চল ছিল মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধভূমি। ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতার পর এই সেক্টরের অধীনে সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধ ও গেরিলা অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে তোলে। রেললাইন ধ্বংস, সেতু ও কালভার্ট উড়িয়ে দেওয়া, সামরিক কনভয়ে অতর্কিত হামলাসহ সব কৌশলে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুপক্ষের রসদ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে দেন। দিনের বেলায় কৃষক, রাতে গেরিলা–এই ছিল ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়।

বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী ময়মনসিংহে ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালায়। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নসহ গ্রামে গ্রামে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা। এসব বর্বরতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দমে যাননি। অনেকেই নিজের ঘরবাড়ি জ্বলে যেতে দেখেছেন, মা-বাবা কিংবা ভাইকে হারিয়েছেন, তবু তারা যুদ্ধের ময়দান ছাড়েননি। তাদের কাছে ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও বড় ছিল নিজ মাতৃভূমির মুক্তি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধাদের বড় শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন। গ্রামবাসী রাতের আঁধারে খাবার, আশ্রয় ও খবর দিয়ে সাহায্য করেছেন। নারীরা নিজেদের অলংকার বিক্রি করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ জুগিয়েছেন। এই সম্মিলিত প্রতিরোধ পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য ময়মনসিংহকে এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।

ডিসেম্বরের শুরুতেই যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। ৩ ডিসেম্বর থেকে চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু হলে ময়মনসিংহে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযান আরও জোরদার হয়। পাকিস্তানি বাহিনী বুঝে যায়, এই অঞ্চল আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। একের পর এক ক্যাম্প ছেড়ে তারা পিছু হটতে থাকে। অবশেষে ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ ময়মনসিংহ শত্রুমুক্ত হয়। শহরে ও গ্রামে গ্রামে উড়তে থাকে লাল-সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে তুলে নেয় জনতা, কিন্তু সেই উল্লাসের মধ্যেও ছিল অশ্রু-শহিদদের স্মরণে।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সেই বিজয় চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়। এই দিনটি তাই শুধু রাষ্ট্রীয় বিজয়ের দিন নয়, ময়মনসিংহের প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের স্বীকৃতির দিন। যারা নামের তালিকায় নেই, যারা অচিহ্নিত কবরেই ঘুমিয়ে আছেন, তারাও এই বিজয়ের অংশীদার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম, তখন আমাদের কাছে স্বাধীনতা মানে ছিল বেঁচে থাকার অধিকার। আমরা কেউ বড় কোনো পদ-পদবির জন্য যুদ্ধে যাইনি, যাইনি কোনো পুরস্কারের আশায়। আমরা গিয়েছিলাম এই দেশের মানুষের সম্মান রক্ষা করতে, মায়ের ভাষা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করতে।’

তিনি স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, ‘যুদ্ধের দিনগুলো ছিল ভয়াবহ। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে, গভীর রাতে নদী পেরিয়েছি, অন্ধকার জঙ্গলে লুকিয়ে থেকেছি। চোখের সামনে সহযোদ্ধা গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেককে কাঁধে তুলে নিয়ে ফিরেছি–কেউ আর কথা বলেনি, কেউ আর কোনো দিন হাঁটতে পারেনি। কিন্তু আমরা পিছু হটিনি। কারণ আমরা জানতাম–পিছু হটার মানে পরাধীনতা মেনে নেওয়া।’

ময়মনসিংহের বিজয়ের ইতিহাসে আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের শুধু গর্বিত করে না, দায়বদ্ধও করে। এই বিজয় আমাদের শেখায়–স্বাধীনতা কখনো উপহার নয়, এটি ছিনিয়ে আনতে হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সেই চেতনা ধারণ করাই এই দিনের প্রকৃত সম্মান। ময়মনসিংহের মাটি আজও উচ্চারণ করে–এই স্বাধীনতা রক্তে কেনা, এই বিজয় কোনো আপসের ফল নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১২ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর
ছবি: সংগৃহীত

আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, গোলাম নবী সাটুসহ নাম না জানা হাজার শহিদদের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয় এই জেলা।

বাঙলা মায়ের দামাল সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পার্শ্বে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী গ্রাম রেহায়চর এলাকায় সংগঠিত হয় এক রক্তয়ী যুদ্ধ। পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সুম্মুখযুদ্ধে ধ্বংস করে দেয় শত্রু বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২টি বাংকার। শত্রুমুক্ত হয় চাপাইনবাবগঞ্জ।

১৯৭১ সালে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্যান্য এলাকা মুক্ত হয়ে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছিল পাক হানাদার বাহিনী ও দেশীয় শত্রুদের দখলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শত্রুমুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে। ১৩ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর শহর মুক্ত করতে কয়েকটি নৌকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রেহায়চর এলাকায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাস্ত করতে থাকেন শত্রু বাহিনীকে। ১৪ ডিসেম্বর রাতের আধার কেটে সকালে সূর্য উঠার আগেই নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর সহযোদ্ধাদের নিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলেন এবং ধ্বংস করে দেন শত্রু বাহিনী ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২টি বাংকার। 

জাহাঙ্গীরের দুঃসাহসিক ও দুরন্ত আক্রমণে শত্রুরা আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। রেহায়চর ঘাটের কাছেই শত্রুদের সর্বশেষ বাংকারটি দখল করতে যাওয়ার সময় হটাৎ একটি গুলি লাগে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের কপালে। সেখানেই শাহাদাৎ বরণ করেন তিনি। পরের দিন অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বর তাকে দাফন করা হয় হযরত শাহ নেয়ামাত উল্লাহ (রহ.)-এর পুণ্যভূমি বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়ের সোনামসজিদ চত্বরে। এরপর আর কোনো যুদ্ধ হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। মুক্ত হয়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 

তবে ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হলেও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ডিসেম্বর।

আসাদুল্লাহ/অমিয়/