সিলেট নগরীর পশ্চিম পাঠানটুলা এলাকার তিনতলা একটি বাসার প্রবেশদ্বারের ভেতর লোহার খাঁচায় বন্দি একটি বানরের বাচ্চা। এই বানরের বাচ্চাটির বয়স আনুমানিক ছয় মাস হবে। ছোট্ট এই বানরের চিৎকার প্রায়ই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঠানটুলা এলাকার পল্লবী সি বল্ক ২৪/১ এর তিনতলা ভবনের নিচতলার মালিক মো. জালাল এই বানরের বাচ্চাটিকে লালন-পালন করছেন।
সবসময় উন্মুক্ত থাকা বানরটিকে ছোট খাঁচায় বন্দি রাখায় সারাদিন চিৎকার চেঁচামিচি করে।
বন্যপ্রাণী খাঁচায় বন্দি করে পালন করা যায় না তারপরও কেন বানরটিকে বন্দি রেখেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বানরটির মালিক মো. জালাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘যে বানরটি বিক্রি করেছে তাকে ধরেন। আমি মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বানরটিকে কিনেছি। আমি এটাকে মারার জন্য আনি নাই।’
তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের খেলার জন্য বানরটিকে কিনে এনেছি। এই বানরের বাচ্চাটিকে আমি যত্ন করি। প্রতিদিন কলা দুধসহ অনেক কিছু খেতে দেই।’
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী খাঁচায় বানর পালন নিষিদ্ধ।
পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম খাঁচায় বানরের বাচ্চা পালনের সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লাইসেন্স অথবা পারমিট ছাড়া কোনো ব্যক্তি কারো কাছ থেকে বন্যপ্রাণী কিনলে সেটা অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে যা অপরাধ তা সবার জন্য অপরাধ। সিলেটের বন বিভাগ বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় উদাসীন। তাই এভাবে বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হয়।’
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন অফিসের ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার ও রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘কিছু বন্যপ্রাণী অনুমতি বা নিবন্ধন সাপেক্ষে লালন-পালনের নিয়ম আছে। তবে কিছু প্রাণীর তালিকা আছে যেগুলো লালন-পালনের অনুমতি দেওয়া হয় না। এই তালিকায় বানরও আছে। বন বিভাগ থেকে বানর লালন-পালনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘সিলেটে কেউ বানর পালন করছে এটা আমার জানা নেই। আপনি ঠিকানা দেন আমি সেখানে গিয়ে বানরটি উদ্ধার করে নিয়ে আসব।’
রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড উভয়ের বিধান আছে। অপরাধের ধরন বিবেচনা করে শাস্তি দেওয়া হয়। তবে লালন-পালনের ক্ষেত্রে আমরা বেশিরভাগ সময় সবাইকে আইন সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করি এবং প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।’
শাকিলা ববি/সুমন/পপি/