চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি মেছোবাঘ (ফিশিং ক্যাট) গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছে। এ সময় প্রাণীটিকে আটক করার চেষ্টা করলে মানিক (২১) ও বাবু (১৯) নামে দুই যুবক আহত হয়েছেন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবিত অবস্থায় মেছোবাঘটিকে উদ্ধার করেন।
সোমবার (১ জুন) বেলা ২টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল ভান্ডারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় একটি মেছোবাঘের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, প্রাণীটি এরই মধ্যে কয়েকটি ছাগল ধরে খেয়ে ফেলেছে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শিশু ও গৃহপালিত প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরে রায়হান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এলাকায় মেছোবাঘটি দেখা যাচ্ছিল। আমাদের কয়েকটি ছাগলও মেরে ফেলেছে। তাই সবাই আতঙ্কে ছিল। সোমবার দুপুরে আবার বাঘটিকে দেখতে পেয়ে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে সেটিকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে প্রাণীটি দৌড়ে পালাতে গিয়ে পাশের একটি ম্যানহোলে পড়ে যায়। পরে অনেক চেষ্টা করে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেছোবাঘটিকে আটক করার সময় সেটি আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এতে দুই যুবক আহত হন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়।’
আহত দুই যুবক হলেন মানিক (২১) ও বাবু (১৯)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পটিয়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং জীবিত অবস্থায় একটি মেছোবাঘ উদ্ধার করি। উদ্ধারকৃত প্রাণীটি কিছুটা আহত হয়েছে। বর্তমানে সেটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর উপযুক্ত ও নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মেছোবাঘ বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। সাধারণত জলাভূমি, খাল-বিল ও বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় এদের বসবাস। খাদ্যের সন্ধানে কিংবা আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়লে অনেক সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে বিরল এ প্রাণীটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের অনেকে মেছোবাঘটিকে দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
রাফিউল আকরাম/রিফাত/