চট্টগ্রামে পাহাড় কাটলে শ্রমিককে না ধরে মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম অমর একুশে বইমেলার সমাপনী ও একুশে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে ছোটবেলা থেকেই আমার প্রায়ই আসা হয়। দেশের বাইরে গিয়ে যদি ঢাকা ছাড়া অন্য কোনো জেলার কথা বলি, সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কথা বলতে হয়। ঢাকা যেমন দূষণের জন্য বিখ্যাত তেমনি চট্টগ্রাম তার নান্দনিকতা ও পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। একজন পরিবেশ আইনজীবী হিসেবে চট্টগ্রামে আসা আমার জন্য স্বাভাবিক। জাহাজভাঙা শিল্পের দূষণ থেকে রক্ষা করা, বন ও পাহাড় রক্ষার উদ্যোগ আমাদের ব্যক্তিস্বার্থে নয়। পরের প্রজন্মের জন্য আমরা যদি কিছু রেখে যাই সেটাই সার্থকতা।’
বই মেলায় নতুন প্রজন্মের সরব উপস্থিতি তাকে আনন্দ দিয়েছে উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটা দর্শন নিয়ে জীবন গড়েছি, দেশটাকে দেখেছি। সেই দর্শন আর সেই পদ্ধতির ফল হচ্ছে আজকের সবচেয়ে দূষিত নগরী। তোমরা এমন একটা ভবিষ্যৎ গড়বে, যা এই তকমা থেকে আমাদের মুক্তি দেবে।’
ঢাকার বইমেলার কোনো স্টলে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে আপনারা এবার যদি নাও পারেন আগামীতে পলিথিন ব্যাগ দিতে দেবেন না। বইমেলায় শুধু বই বিক্রি হয় না। আরও অনেকেই আসে। একজনের সঙ্গে আরেকজনের কথা হয়। মতাদর্শ বিনিময় হয়। এর মাধ্যমে সমাজে বৈরিতা কমে। বইমেলা চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্য। চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশের গর্ব। আশা করি, এই বইমেলায় যে আদর্শ, মূল্যবোধ এবং ভাবের বিনিময় হয়েছে, সেটি আমাদের নিরাপদ, বসবাসযোগ্য পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম নগরী গড়তে সাহায্য করবে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাহাড় কাটার দায়ে শ্রমিকদের না ধরে মালিকদের ধরবেন। মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে গ্রেপ্তার করুন। আপনাদের বন আছে, সমুদ্র আছে। এরকম আরেকটি শহর বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব আমাদের রক্ষা করতে হবে।’
শব্দদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্তত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি হর্নমুক্ত করা যায়। কিছু কিছু পরিবেশ সমস্যার দায়িত্ব সরকারের। যেমন শিল্পদূষণ। আবার কিছু দায়িত্ব জনগণেরও আছে। যেমন পলিথিন যদি আপনি কেনেন, আর বলবেন, সরকার ব্যর্থ। তাহলে হবে না। এ ক্ষেত্রে আপনারও দায় আছে। পলিথিনকে বর্জন করলে ব্যবসায়ীরা বিক্রির সুযোগ পাবে না। কর্ণফুলী নিচে সাত ফুট পলিথিন। এত পলিথিন আমরা কীভাবে সরাব।’