ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই: জুয়েনা শবনম টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি! ‘রকস্টার’ যেন মাদকের বিজ্ঞাপন নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ ৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫ অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে বেরোবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন চন্দনাইশে দ্রুতগামী অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু
Nagad desktop

ছুটি ফুরাতেই ফিরছে যানজট

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৫, ০১:৫০ পিএম
ছুটি ফুরাতেই ফিরছে যানজট
ছবি: মৌসুমী মৌ, খবরের কাগজ

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আবারও পুরোনো চেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে ঢাকা। অফিস-আদালত, ব্যাংক, পুঁজিবাজারসহ সরকারি-বেসরকারি সব অফিসে শুরু হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মব্যস্ততা।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বন্ধ থাকায় যানজট সেভাবে দেখা যায়নি। কিন্তু অচিরেই যে যানজটের দেখা মিলবে তা বলাই বাহুল্য। কারণ এ নগরে নেই কোনো আধুনিক সিগনাল সিস্টেম। গত ২৫ বছরে রাজধানীতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে সিগনাল সিস্টেম আধুনিকায়ন করার সব প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপরিবহন খাত বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, গণপরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঢাকায় সিগনাল সিস্টেম আধুনিকায়নের যেকোনো প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।

ব্যর্থ সব প্রকল্প, তবুও পুরোনো পথে হাঁটছে সরকার
২০০১ সালে ঢাকা নগর অঞ্চল পরিবহন পরিকল্পনার অধীনে (ডিইউটিপি) ট্রাফিক সিগনাল স্থাপন শুরু হয়। ঢাকায় ৬৮টি স্থানে সিগনাল স্থাপন বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সিগনাল অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। 

২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ প্রকল্প শুরু হয়। ৪৪৫ কোটি টাকার এ প্রকল্প তিন দফায় সংশোধিত হয়ে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ কোটি টাকায়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের নিরীক্ষায় এই প্রকল্পের নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরামর্শক খাতে অযথা ব্যয় ও বিনা প্রয়োজনে প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে এ প্রকল্পের অর্থ নিয়ে নয়ছয়ের ঘটনা জানা যায়। 

ঢাকার চারটি ইন্টার সেকশনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিস্টেম বসানোর আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিটিসিএ। ২০১৬ সালের শুরুতে এর ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি টাকা, পরে ব্যয় হয় ৫২ কোটি টাকা।

তবুও ঢাকার সিগনাল সিস্টেম নিয়ে নিরীক্ষা আর প্রকল্প থেমে থাকেনি। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাংক, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মতো ঋণদাতা সংস্থার অর্থে ঢাকার ১৭৮টি স্থানে আধুনিক সিগনাল বাতি স্থাপন করা হয়। তবে এগুলোর মধ্যে গুলশান-২ সার্কেলের সিগনাল সিস্টেম কার্যকর রয়েছে।

২০২৩ সালের শুরুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল ৫৩টি নির্ধারিত ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য তারা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। 

ডিএসসিসির এই প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা বহাল থাকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বুয়েটের দুই অধ্যাপকের পরামর্শে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের চার মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রাফিক সিগনাল বসানোর কাজ চলছে। এটি হচ্ছে সেমি অটোমেটেড সিগনাল এইড। এখানে একটা বাটন থাকবে, যেটা একবার ম্যানুয়াল আবার অটোমেটেড (স্বয়ংক্রিয়) করা যাবে। কম ট্রাফিক থাকলে অটোমেটেড মুডে কাজ করবে। সময় নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। আবার ট্রাফিক বেশি থাকলে ম্যানুয়ালি সময় পরিবর্তন করে নেওয়া যাবে।

ট্রাফিক পুলিশরা যে ধরনের কাজ করে- সেই ধরনের সুবিধা এতে থাকবে। তাদের আর হাত দেখাতে হবে না। সিগনালের মাধ্যমে ট্রাফিক বাতি দেখানো হবে। চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো সিগনালের সময় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

বুয়েট প্রতিটি সিগনাল বানানো ও ইনস্টল করার জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে দেড় লাখ টাকা চেয়েছে। 

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রকল্পটি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আপত্তি আছে। তারা বলছে, এ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক বেশি। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ভবনে ঢাকার জন্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি)-সংক্রান্ত একটি সভায় বিশেষজ্ঞরা এমন অভিমত জানান। ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা নির্ধারিত সময়ভিত্তিক, সক্রিয় ও অভিযোজিত ব্যবস্থার সমন্বয়ে ট্রাফিক সিগনাল লাইট স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকার ভেতরে বাস অগ্রাধিকার রুটগুলোর যাত্রী পারাপারের জন্য প্রায় ৯৭টি বাস অগ্রাধিকার ট্রাফিক সিগনাল স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আরএসটিপি পরিকল্পনা নিয়েও অনেক বিতর্ক 
পরিবহন খাত বিশেষজ্ঞ ও নগর-অঞ্চল পরিকল্পনাবিদরা এখন করিডরভিত্তিক পার্কিং ফি ব্যবস্থা চালু করার কথা বলেন। উন্নত দেশগুলোতেও ব্যস্ততম সড়কে যানজট কমাতে এই প্রকল্প বেশ কাজে এসেছে। অ্যাডভান্স টোলিং বা সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি শনাক্ত করে চার্জ ধার্য করা যায় এই পদ্ধতিতে। সে ক্ষেত্রে ঢাকার কোনো নির্দিষ্ট সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা নির্দিষ্ট ফি দিতে বাধ্য থাকবেন। ওই সড়কে চলাচল করতেও তাদের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এতে চালকরা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করবেন বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধ্য হবেন। 

সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তারা বলছেন, নগরে গণপরিবহন ব্যবস্থা অপ্রতুল। এ ছাড়া এক করিডরের গাড়ি আরেক করিডরে গিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তারা বিদ্যমান সড়ক কাঠামোতে সমাধান খুঁজতে বলেছেন আরএসটিপি কমিটিকে। সড়ক থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া, রিকশার জন্য আলাদা লেন করা, নির্দিষ্ট বাস-বে স্থাপনের বিকল্প দেখছেন না। তারা ঢাকায় বিদ্যমান ট্রাফিক সিগনালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে বলেছেন। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সিগনাল সিস্টেম আধুনিকায়ন করে যানজট রাতারাতি কমে যাবে তা মনে হয় না। যেসব পয়েন্টে অটোমেটেড সিগনাল সিস্টেম চালু করা হবে, সেখানে ট্রাফিক কন্ট্রোলে জনবল কম লাগবে। সেই জনবল আমরা অবৈধ পার্কিং, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীরা চালকদের শাস্তির আওতায় আনতে নিয়োগ করতে পারব।’

আরএসটিপি সভায় ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সেন্ট্রাল ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টার (সিটিসিসি) স্থাপনের পরামর্শ এসেছে। এই কেন্দ্র থেকে সব প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো ইন্টারঅ্যাকটিভ ম্যাপ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এই কেন্দ্র থেকে নাগরিকদের ফোন কল, ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করবে। তবে ডিএমপি নাকি ডিটিসিএ এ সিটিসিসির নিয়ন্ত্রক হবে, এ নিয়ে তর্ক চলছে। 

ঢাকার নানা ফ্লাইওভারে নিচে খালি জায়গাগুলোতে পার্কিং লট করে তা তৃতীয় পক্ষকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আরএসটিপিতে। জানা গেছে, তাতে বাদ সেধেছে ডিএমপি। কারণ, তৃতীয় পক্ষকে লিজ দিতে গিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির প্রসঙ্গ নতুন কিছু নয়।

পার্কিং আইন কঠিন করতেই হবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
২০১৯ সালে ঢাকায় ৬৪টি পার্কিং স্পট অনুমোদন করে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পরে এই সংস্থা রাজধানীর জন্য খসড়া পার্কিং নীতির একটি খসড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দেয়। এরপর আর কাজ এগোয়নি। পার্কিং নীতির খসড়ায় রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকার পার্কিং চাহিদা নির্ধারণ, স্থান চিহ্নিতকরণ এবং ফি নির্ধারণ করার কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়সীমার ভিত্তিতে স্থানীয় রাস্তায় পার্কিং করার সুযোগ থাকবে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহুতল পার্কিং লট নির্মাণের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। 

নগরে পার্কিং ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ডিটিসিএ যে পার্কিং নীতিমালার খসড়া করেছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্কিং ফি বাড়িয়ে দিতে হবে যেন মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহন বেশি ব্যবহার করতে উৎসাহ না পান। তবে তার আগে গণপরিবহনের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে কমিউনিটি বেজড পার্কিংয়ের কথা ভাবা যেতে পারে।’

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামছুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘যেকোনো শহরের পরিবহন পরিকল্পনার মূল কথা হলো, রাস্তার অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা আসলে কত বা বিদ্যমান রাস্তায় কতসংখ্যক গাড়ি সারা দিন চলাচল করতে পারবে। কিন্তু আমাদের ঢাকায় প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ নতুন গাড়ি নামছে। এ অবস্থায় আমরা যে সিগনাল সিস্টেমই চালু করি না কেন কথা একটাই, ট্রান্সপোর্টের অর্ডারলি মুভমেন্ট।’

৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বিইআরসির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল।

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিইআরসি একটি জুডিশিয়াল অথরিটি বা আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান। তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।’

ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপ প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ সকল আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া  ‘গত এক থেকে দেড় দশক ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি করা হয়েছে, তা আপনাদের সামনেই ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে এনে সুস্থ ধারায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে।’

আমান/

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু মশার লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলন, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ। যার নাম হেমোরোজিক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে হতে পারে রক্তক্ষরণও। সুতরাং আগে থেকেই সচেতন হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপে এসেছে ডেঙ্গুর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।’

জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও জানান প্রশাসক আবদুস সালাম।

আমান/

এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এআই ক্যামেরার ট্রাফিক জরিমানার নামে প্রতারক চক্রের ছড়ানো ভুয়া এসএমএস ও লিংক সম্পর্কে নগরবাসীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

গত ২৪ মে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্রতারিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইদানিং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ব্যাপারে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসী এসএমএস পাচ্ছেন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, প্রাপ্ত এসব এসএমএস সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এআই বা ভিডিও মামলাসমূহ নিম্ন প্রক্রিয়ায় নিস্পত্তি করে থাকে:

১) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অমান্যকারী যানবাহনে মামলা দেওয়া হলে আপনার ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের/ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

২) কেবলমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ মোবাইল নাম্বার হতে প্রয়োজনে আপনার কাছে এসএমএস পাঠানো হবে।

৩) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক জরিমানাকৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং (উপায় এবং সিবিবিএল) এ পরিশোধ করা যায়।

৪) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনো কোনো পিনকোড, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি ইত্যাদি জানতে চায় না। ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য ডেল্টা-৩, মোবাইল নং-০১৩২০ ০৪২২০৭ ও ০১৩২০ ০৪২২২৭ এবং ৯৯৯ যোগাযোগ করুন।

অমিয়/

ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে আংকারা সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক ও বাংলাদেশ। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়েও ঢাকার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কী মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া গতকাল বিকেলে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে আরও বাড়াতে চাই। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এটি বাড়ানো যায় তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন না নেওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতে কী ধরনের সহযোগিতা বাড়ানো হবে তা তুরস্কের মন্ত্রী জানাননি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বিস্তৃত সহযোগিতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এটি গ্লোবাল সাউথের একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ নিজ কাঁধে এক বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। দুর্ভাগ্যবশত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র মানবতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ প্রদর্শন করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরাও এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য নিবিড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এ সময় ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অভিন্ন ইচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির সময় নাশকতার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ঠেকাতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ভূমিকা পালন করে যাবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিসহ (পিটিএ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক চলাকালে তুরস্কের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ড. খলিল বলেন, ‘আমরা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানাই এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’

মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি, পারস্পরিক লাভজনক বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলাদেশ।

ড. খলিল আরও বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, হাকান ফিদান ভাইয়ের এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী দিনে সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয় দেশ যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে জানিয়েছি এবং সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিবিরগুলোতে পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালটিও ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা চলমান থাকবে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শরণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাকান ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন রোহিঙ্গারা তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হলে তা বড় ধরনের গণ-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিমেন্টের মতো নরম, ঠাণ্ডা ও সহনশীল। কিন্তু তারা গর্জে উঠলে ৫ আগস্ট ঘটিয়ে দিতে পারেন। শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে। গ্রাহকরা জীবন দেবেন, কিন্তু লুটেরাদের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন কাকে বলে এবং কত প্রকার, তা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিন। শুধু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরাই আপনাদের তা দেখিয়ে দিতে পারবেন। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ থেকে সরে আসুন।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কারও ব্যক্তিগত বা সরকারি টাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি জনগণের অর্থ এবং কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ ঠিক রাখা আপনার দায়িত্ব। আপনার পাশে থেকে যারা তোষামোদ করছেন, তারা রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে জানেন না।’

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনাদের অনেক এমপি, কিন্তু কোথাও দেখলাম না হাম নিয়ে কথা বলতে। শুধু নতুন নতুন ইশতেহার দিচ্ছেন, বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাস্তব জীবনে কোনো ভালো কাজে তাদের দেখা যায় না।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এরশাদ ঢাকার বুকে গাজীপুরে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ্য করতে পারেননি। সেটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ায় সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরই তার পতন হয়েছে, যা করেন করেন, ইসলামির গায়ে হাত দেবেন না। ইসলামি নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে তাদের বাসায় গিয়ে চা খেতেন। পুলিশকে ম্যানেজ করে ঝটিকা মিছিল করতেন। জামায়াত এ ধরনের আন্দোলন করবে না। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ পরিহার করে সঠিক পথে ফিরে আসুন। অন্যথায় আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।’

জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জামায়াতকে হিংসা করেন। আজ আমরা যে কাজ করলাম, সেটিও আপনাদের সহ্য হচ্ছে না। জামায়াতকে সহযোগিতা করুন। জামায়াত দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ বদলে যাবে।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, যুব বিভাগের সহসভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানার আমির মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।