ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার
Nagad desktop

জুলাই সনদের খসড়া প্রকাশ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৭:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৮:১১ পিএম
জুলাই সনদের খসড়া প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে খসড়া সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদের খসড়াটি হুবহু তুলে ধরা হলো: 

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সফল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহের প্রতিনিধিরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ে সংস্কারের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি—

১। পটভূমি

১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামজিক সুবিচারের নীতিকে ধারণ করে সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তা অর্জন করা যায়নি। কারণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে। বস্তুতপক্ষে, বিগত পাঁচ দশকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একদিকে টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নামেমাত্র থাকলেও তা অত্যন্ত দুর্বলভাবে কাজ করেছে।


বস্তুত রাষ্ট্রকাঠামোতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দলীয় প্রভাবের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ও বিচারহীনতার সহায়ক হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে।

২০০৯ সালে একটি দলীয় সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্রমান্বয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে অগণতান্ত্রিক চরিত্র ধারণ করতে থাকে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের মানবাধিকার হরণ, গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা ও হামলার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও বিভীষিকাময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বন্দনার জন্য নিবেদিত রাখা হয়।


দেড় দশকে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের বিকৃতি সাধন, বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট করে।

এই পটভূমিকায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিপুল ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণের ফলে এক অভূতপূর্ব সফল গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে শাসকগোষ্ঠীর প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শিশু ও নারীসহ এক হাজার চারশোর বেশি নিরস্ত্র নাগরিক নিহত এবং বিশ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। তাদের আত্মাহুতি ও ত্যাগের বিনিময়ে এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও প্রতিরোধের কাছে স্বৈরাচারী শাসক ও তার দোসররা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এমতাবস্থায় জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের একটি প্রবল অভিপ্রায় সৃষ্টি হয়েছে।


রাষ্ট্র সংস্কার বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংষ্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুশীলন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসিত জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব।

২। সংস্কার কমিশন গঠন

বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রেরিত প্রশ্নে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশনগুলো হচ্ছে : সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন। কমিশনগুলো ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে সুপারিশসহ সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে।

৩। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টাকে সভাপতি, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানকে সহ-সভাপতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে উক্ত কমিশন কিছুটা পুনর্গঠন করা হয়। কমিশনের দায়িত্ব ছিল—আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের সঙ্গে আলোচনা করা এবং এ মর্মে পদক্ষেপ সুপারিশ করা। কমিশনের মেয়াদ ছিল কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ছয় মাস। কমিশন তার দায়িত্ববোধ ও সুপারিশের অংশ হিসেবে ঐকমত্যের মৌলিক বিষয় সংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

৪। কমিশনের কার্যক্রম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ শুরু করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো কপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে পুলিশ সংস্কার কমিশন ব্যতীত অপর পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কার বিষয়ক ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় সেগুলো স্প্রেডশিটে রাখা হয়নি। অপরদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয় ।

মোট ৩৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে ২০২৫ পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয় ।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রচিত হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে, আমরা অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে নিম্নোল্লেখিত কাঠামোগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি এবং এসব বিষয়সমূহকে একটি জাতীয় সনদে সন্নিবেশিত করতে সম্মত হয়েছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ এবং উক্ত গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে আমরা এই সনদকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ হিসেবে ঘোষণা করছি।

৫। ঐকমত্যে উপনীত হওয়ার বিষয়সমূহ

(পরে যুক্ত হবে) (এই অংশে প্রথম পর্বের আলোচনা এবং চলমান দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শেষে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে সেইসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে।)

*জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা

আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে,

১) হাজারো মানুষের জীবন ও রক্ত এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব;

২) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ দেশের শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার বিষয়ে যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ এই সনদে লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, লিখন ও পুনর্লিখন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন, লিখন, পুনর্লিখন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি;

৩) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ দেশের শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার বিষয়ে যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ এই সনদে লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, লিখন ও পুনর্লিখন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন, লিখন, পুনর্লিখন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন এই সনদ গৃহীত হওয়ার পরে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে এবং এসব সংস্কার টেকসই করতে অঙ্গীকার করছি।

৪) এই সনদ গৃহীত হওয়ার পর এতে যে সমস্ত প্রস্তাব/সুপারিশ লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো পরবর্তী দুই (২) বছর মেয়াদকালের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি;

৫) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা বিধান করব;

৬) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে এবং এর আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদানে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; এবং

৭) ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সংবিধানে যথাযোগ্য স্বীকৃতি দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকব।

মেহেদী/

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সফলভাবে আয়োজন করেছে তাদের উদ্বোধনী প্যানেল ডিসকাশন ইভেন্ট “আনস্ক্রিপ্টেড ১.০”।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিইউপির স্বাধীনতা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।

বাংলাদেশের মিডিয়া ও বিনোদন জগতের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে একত্রিত করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জনসম্মুখে কাজ করার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও অকপট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

“একজন ক্রিয়েটরের মনে কী চলে?”—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ এমন একটি পরিসর তৈরি করে, যেখানে সাফল্যের বাহ্যিক গল্পের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রভাব এবং পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে নির্ভার আলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এমসিসির সাধারণ সম্পাদক শানজিন সাইমা শারিতা এ ভাবনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এছাড়া ক্লাবের সভাপতি নিগার ইসরাত এবং অনুষদ মডারেটর প্রভাষক ইসরাত জাহান ঐশী বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইমা ফেরদৌস কথা ও সায়রা নূর। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন মুস্তাক শাহরিয়ার শুভ ও তানজিমা নুসরাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক, পিপিএম, পিপিএমএস, পিএসসি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেলিস্টদের স্বাগত জানান এবং এমসিসি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ আয়োজনে অংশ নেন—

যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা
ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘অপূর্ব শাহ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মেহেদী হাসান অপূর্ব
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাবিলা নূর
চ্যানেল আইয়ের ব্রডকাস্টার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী

আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিক

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে মিডিয়া জগতে প্রবেশের চ্যালেঞ্জ, অনলাইন সমালোচনা মোকাবিলা, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ব্যক্তিত্বের পার্থক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দীপ্তি চৌধুরী জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা প্রসঙ্গে বলেন, ভাগ্য সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তা।

মেহেদী হাসান অপূর্ব তরুণ ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শিক্ষাজীবনে ভুল করতে ভয় না পেয়ে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। নিজের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু প্রক্রিয়াটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”

আহমেদ রেজা আত্ম-অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা। তিনি জানান, নিজের কথা বলার দক্ষতাকে চিনতে পেরে বিতর্কচর্চার মাধ্যমে তা বিকশিত করেছেন।

সাবিলা নূর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি তরুণদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

সমাপনী পর্ব

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক প্যানেলিস্টদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় একটি সম্মিলিত ফটোসেশন।

‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ ছিল এমসিসির প্রথম বড় প্যানেল ইভেন্ট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সম্পর্কে

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধীন পরিচালিত একটি শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন। ক্লাবটি একাডেমিক শিক্ষা ও দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল এবং মূলধারার মিডিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকাশ, পেশাগত বিকাশ এবং শিল্প-সংযোগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে।

এসএন/

দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী ভারতের শিলচরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনে কাঁপে সারা দেশ। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র স্থল ছিল ভুটানে।

এসএন/

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিক্রিয়া সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মূল্যস্ফীতি কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাপ্লইচেইন ইকোসিস্টেম বজায় রেখে ব্যবসাবান্ধব এবং জনতুষ্টিমূলক বাজেট প্রদান করায় চেম্বারের নেতৃবৃন্দ ধন্যবাদ জানান। জনগণের উপর ভ্যাট ও করের চাপ কমিয়ে করজাল বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশী উৎস থেকে অর্থ সংস্থানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন চেম্বার নেতারা।  

বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুরত্ব ৮০ কি.মি. কমানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবাসনসহ সকল ধরণের ইউটিলিটি সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ উপযোগী করার আহবান জানান নেতারা। 

বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস গুরুত্ব দেয়াকে দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন তথা শিক্ষা খাতকে।  

ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি এবং ব্যাংক স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহী হবে। এছাড়া বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির উপকারভোগীদের ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড জনপ্রতি ২৫০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পর্যায়ক্রমে সকল কৃষককে কার্ড প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় গমনেচ্ছুদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 

বাজেটে কর্পোরেট কর ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো এবং কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা ইতিবাচক। পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানীর করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও  ফাইন্যান্স কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৩৭.৫%, পাবলিকলি ট্রেডেড নয় কোম্পানীর ক্ষেত্রে ৪০%, মোবাইল অপারেটর কোম্পানীর জন্য ৪৫%, বাংলাদেশী অনিবাসী করদাতাদর জন্য ৩০%, ট্রাস্ট ফার্ম ও ব্যক্তিসংগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৭.৫%, সমবায় সমিতি ২০%, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০% করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করহার ১০% করায় উদ্যোক্তারা শিক্ষা খাতে আগ্রহী হবে। 

এছাড়া আমদানিকৃত ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি প্রত্যাহার, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ৬৯টি পণ্যের কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে ১৫% নির্ধারণ, শিশু খাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহ্রাস, সকল মসলা আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরী শুল্ক ৫% প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করেন নেতারা। 

বাজেটে জ্বালানী সক্ষমতা বাড়াতে এবং সৌর বিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারীসহ আমদানিকৃত সোলার যন্ত্রপাতিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় জ্বালানী সক্ষমতা বাড়বে এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান এবং ইলেক্ট্রিক ভেহিকেল (ইভি) আমদানিতে অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানোর ফলে একদিকে যেমন জ্বালানীর উপর চাপ কমবে, তেমনি সৌর বিদ্যুৎ শিল্প এবং সেমি কন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। ক্যান্সার ঔষধ উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানে ক্যান্সার প্রতিরোধক ঔষধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর মওকুফ করায় সাধারণ রোগীরা স্বস্তি পাবেন। 

সরকার আইটি সেক্টরকে উৎসাহিত করতে এবং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে আয়কে করমুক্ত করা, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করা, এসএমই উদ্যোক্তাদের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সীমা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোন উৎপাদানমুখী শিল্প পর্যটন বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বিনিয়োগের উপর ১ম বর্ষে ৬০%, ২য় বর্ষে ৪০% হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা প্রদান করায় দেশে তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন স্থানে শিল্প কারখানা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। 

দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করতে এবং পণ্যজট শূন্য করতে অফডক ও আইসিডি খাত, লজিস্টিক্স, বেসরকারি বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটর বিষয়ক বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে বন্দরকেন্দ্রিক দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।  

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আমাদের সাধ আছে, সাধ্য কম। তারমধ্যেও যে বাজেট হয়েছে সেটা সন্তোষজনক। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার পর থেকে এমন সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এই বাজেট সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে: শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বাজেট বেশি বড় হয়নি। বর্তমান সরকার একটি সময় উপযোগী বাজেট দিয়েছে। কিন্তু বাজেটে যাই হোক না কেন বাজেটের চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা হল- রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশিয় ঋণ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সুশাসন নিশ্চিত করা, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা। 

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যাংকের সমস্যা সমাধান করা। এলসি তরান্বিত করা। বন্দরের ট্যারিফ অনেক বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেটি কস্টবেইজ করা উচিত ছিল। কিন্তু বন্দরের চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে তুলনা করে করা হয়েছে। বুঝতে হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতি আর আমাদের অর্থনীতির বৃহৎ তফাৎ রয়েছে। আমাদের দেশে যেদিকেই মূল্য বৃদ্ধি করা হোক সেটি অবশ্যই গিয়ে পড়ে ভোক্তাদের উপর। কারণ ব্যবসায়ীরা কেউ লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবে না। আসল কথা হলো ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করে দিন। 

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বলেন, এবারের বাজেট দেখে মনে হচ্ছে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে মসলা, খেজুর এবং কিছু ফলের দাম কমবে। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে এটা একটা জনবান্ধব বাজেট হতে পারে। এই বাজেটটা নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। দেখা যাক, সামনে কী হয়। 

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বাজেটে সামগ্রিকভাবে সকল খাতই আলোচনায় এসেছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো—এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে কীভাবে? বর্তমান এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কি আরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহে সক্ষম? এ বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।  শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানের জন্য আরও প্রস্তুত হতে পারে। পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থা এখনো পর্যটনবান্ধব নয়। 

প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুরি ও রাজনৈতিক চমকবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে জাসদ দাবি করে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। দলের মতে, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রশাসনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

জাসদ আরও বলে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হলেও তা পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও ঋণনির্ভর করে তুলতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দলটি মনে করে, ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ইতিবাচক হলেও বাজারে সিন্ডিকেট ও সুশাসনের অভাব থাকলে এর সুফল ভোক্তারা নাও পেতে পারেন। একইভাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাসদ সরকারের প্রতি বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। দলটির মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

 রাজু/এসএন

জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে সংসদ সচিবালয় কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রায় ২৯১ কোটি টাকা) বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন (রাজস্ব) খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩৭তম বৈঠকে এ বাজেট প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেও এটি সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ কমে ২৩২ কোটি টাকায় নেমে আসে। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা, আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণে এ বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সর্বোচ্চ ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলিস/এসএন