সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডে প্রতি বছর ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
রবিবার (১০ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সড়ক ব্যবস্থাপনা সংস্কারে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রূপরেখা: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি তোলেন।
বেসরকারি এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ ফান্ডেড কথা ফলাও করে প্রচার করতে পারে না।’
তাই পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে এই ফান্ডকে কার্যকর করার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর। উপস্থিত ছিলেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ড. কামরান উল বাসেত, ফেরদৌস খান, সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. আরিফ রায়হান প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-তে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ট্রাস্ট ফান্ডের বিধান রয়েছে। মোটরযানের নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি, মোটরযানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকার চাঁদা ও অনুদান এই ফান্ডের অর্থের উৎস। ট্রাস্ট ফান্ড থেকে আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে- দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ৫ লাখ টাকা, অঙ্গহানি হলে ৩ লাখ টাকা এবং সুস্থ জীবনে ফেরার সম্ভাবনা না থাকলে ১ লাখ টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর্থিক সহযোগিতা পেতে হলে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডে আবেদন করতে হয়। এরপর তদন্তু সাপেক্ষে সহযোগিতার অর্থ দেওয়া হয়।’
কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের অধিকাংশই এই ট্রাস্ট ফান্ডের তথ্য জানেন না। প্রচারণার মাধ্যমে জানানো হয় না। যারা আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন করছেন তারাও ঠিকমতো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সর্বাগ্রে প্রয়োজন চিকিৎসা। কিন্তু ট্রাস্ট ফান্ড তাৎক্ষণিক তো নয়-ই, তিন মাসের মধ্যেও চিকিৎসাসেবায় কোনো প্রকার অবদান রাখতে পারছে না।’
সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনুযায়ী সবাইকে আর্থিক সহযোগিতা করতে হলে বছরে ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন।’
এ ছাড়া জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠনের প্রস্তাব আনেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
তারা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করে এই কাউন্সিল পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন। এতে সদস্য হিসেবে সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন তারা। সাচিবিক দায়িত্ব সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের ওপর ন্যস্ত রাখতে চান তারা।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এই জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের অধীনে পরিচালিত হবে। কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি তার প্রতিনিধি হিসেবে একজন বিচারপতি বা অন্য কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের হাতে থাকতে হবে নিজস্ব আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা।
দেশে সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। যানবাহনের আয়ুষ্কাল ও ডাম্পিং নীতিমালা তৈরির প্রস্তাবও আসে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, গ্লোবাল প্ল্যানিং সিস্টেম, সার্ভিলেন্স ক্যামেরা এবং রোড ট্রাফিক সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বেসরকারি খাতে গণপরিবহন মালিকরা যেন নতুন যানবাহন কিনতে সহজ শর্তে ঋণ পান এমন নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও করেন তারা।
রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালুর প্রস্তাব আনা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রাজধানীর গণপরিবহন ৫৩ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করে। রাজধানীর মেট্রোরেল এবং নির্মানাধীণ সাবওয়ে যে পরিমান যাত্রী পরিবহন করবে তার চেয়ে ৪ গুণ বেশি যাত্রী পরিবহন করবে সমতল সড়কের বাস সার্ভিস। তাই মাত্র সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার নতুন বাস কিনে কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনা করা জরুরি।’
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে বহুতল বিশিষ্ট হাইড্রোলিক পার্কিং স্টেশন তৈরি করার প্রস্তাবও করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/