সাংবাদিকতায় পেশাদারত্ব বজায় রেখে নির্ভীক চিত্তে সত্য প্রকাশের ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলে দৈনিক খবরের কাগজ। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সামাজিক আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছে এই পত্রিকা। প্রতিকূলতায় থমকে না থেকে নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ এবং সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ খবর প্রকাশে দৈনিক খবরের কাগজ অগণিত পাঠকের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করে দৈনিক খবরের কাগজ। এ উপলক্ষে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বাংলামোটরে খবরের কাগজের প্রধান কার্যালয়ে ঘরোয়াভাবে উদযাপিত হয় পত্রিকাটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
এ ছাড়াও জেলায় জেলায় উদযাপন করা হয়েছে খবরের কাগজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের দিনটিতে সব বিভাগের কর্মীরা প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে পাঠকের তথ্য-চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে খবরের কাগজ।
তৃতীয় বর্ষের পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনে ঘরোয়া আয়োজনে শামিল হন পত্রিকাটির কর্মীরা। আড্ডা, গল্প, গান, সেলফিতে মুখর হয়ে উঠে সেই আয়োজন।
এ আয়োজনের মধ্যমণি ছিলেন দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। তিনি বক্তব্যের শুরুতে পাঠক লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং পত্রিকার বিপণন-বিতরণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
সুধী সমাজে খবরের কাগজ কিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে- তা শোনাতে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শুরুতে ঠিক করেছিলাম আমরা সত্য প্রকাশ করব; নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। কোনো দলের লেজুরবৃত্তি করব না, কোনো গোষ্ঠীপ্রীতি করব না। আমরা পেশাদার সাংবাদিক, পেশাদারত্ব বজায় রাখব। গত তিন বছরে আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ। আমরা কোনো ভুল বা ফেইক নিউজ ছাপিনি। আমরা ভুল বা অসত্য নিউজ ছাপিনি। তাই অনেক প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পত্রিকাটি যে আলাদা এখন সেটা মানুষের কাছে স্পষ্ট।’
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন যেকোনো ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আগেই জেনে যান পাঠক। তবুও ছাপা পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা কমেনি পাঠকের কাছে, যোগ করেন তিনি।
মোস্তফা কামাল বলেন, অনেকে বলেন; গণমাধ্যমে আগে সত্য প্রকাশ করত, এখন তা করতে কুণ্ঠিত হয়, তারা ভয় পায়। কিন্তু ফেসবুক সেগুলো প্রকাশ করে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, খবরের কাগজ সত্য প্রকাশ করে। ফেসবুকের ভরসায় তারা থাকে না। সত্য জানতে পারলে আমরাই আগে প্রকাশ করি।’
শুধু সত্য খবর প্রকাশেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয় খবরের কাগজের। খবরের কাগজ সরকারি কর্মকাণ্ডের ভুলত্রুটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে; সামাজিক আন্দোলনেও রাখছে বড় ভূমিকা।
সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করাই পত্রিকার দায়িত্ব, সরকারকে সঠিক পথে রাখাই পত্রিকার দায়িত্ব। দেশের স্বার্থ দেখাও পত্রিকার কাজ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের যে প্রতিশ্রুতি সেটি রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আমরা সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছি।’
উপস্থিত ছিলেন- নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী, কপি এডিটর মাসুদুজ্জামান, উপসম্পাদক এমদাদ হাসনায়েন, সহকারী সম্পাদক ড. সারিয়া সুলতানা, বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান, ফিচার সম্পাদক খালেদ আহমেদ, নগর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন, ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবণী, স্পোর্টস ইনচার্জ মহিউদ্দিন পলাশ, সহকারী বার্তা সম্পাদক (অনলাইন ইনচার্জ) অমিয় দত্ত ভৌমিক, হেড অব ডিজিটাল গোলাম রব্বানী, ভারপ্রাপ্ত মফস্বল সম্পাদক অঞ্জন আচার্য, মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান মিন্টু ভূষণ রায়, সার্কুলেশন বিভাগের প্রধান মাসুদ কবির পাভেল, মানবসম্পদ ও প্রশাসন প্রধান মিন্টু ভূষণ রায়, হেড অব সার্কুলেশন মাসুদ কবীর পাভেল, হেড অব আইটি প্রিন্স মাহমুদ অর্ণব, ব্র্যান্ড ও ইভেন্ট প্রধান আতিয়া সুলতানা, প্রধান সম্পাদনা সহকারী মো. সোহরব হোসেন, কম্পিউটার ইনচার্জ আবুল হাসেম প্রমুখ।
নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন বলেন, ‘এখানে কারও মধ্যে কোনো জড়তা নাই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে এখানে। কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাই আমরা।’
বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান বলেন, ‘এখানে যতটা স্বাধীনভাবে আমরা সাংবাদিকতা করতে পারছি, তা আগে কখনও করতে পারিনি। এখানে সবাই নিজের কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত।’
সহকারি সম্পাদক সারিয়া সুলতানা বলেন, ‘মানের সঙ্গে কখনও আপোষ করেনি খবরের কাগজ।’
নগর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবরের কাগজের সংবাদে প্রতিবাদ ছাপা হয়নি। এটি একটি নির্ভুল কাগজ। বস্তুনিষ্ঠতা, পাঠকপ্রিয়তায় যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে খবরের কাগজের তা ঈর্ষণীয়।’
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/