শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সুপারিশ ব্যতীত অনৈতিকভাবে শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদোন্নতি গ্রহণ করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান।
গত ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়। এই প্রজ্ঞাপনে সই করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।
এতে জানানো হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা ও দন্ডবিধি ১০৯ ধারায় দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ কর্তৃক করা মামলায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ‘অভিযোগপত্র’ গৃহীত হয়েছে।
দুদকের তদন্তে বিষয়টি ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক (সংযুক্ত) মো. মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
ডিপিসির সুপারিশ অগ্রাহ্য ও পদোন্নতির জন্য অনুসরণীয় বিদ্যমান জ্যেষ্ঠতা তালিকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈধ সুযোগবঞ্চিত করে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে উচ্চতর পদে পদোন্নতির অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত সুযোগ গ্রহণের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী আইন ২০১৮ অনুযায়ী আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত থাকাকালে বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তরের ৫ উপ-পরিচালককে (ডিডি) পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই পদোন্নতির জন্য শ্রমসচিব এহছানে এলাহীর নেতৃত্বে পদোন্নতি কমিটি একটি জ্যেষ্ঠতার তালিকা করেছিল। কিন্তু তালিকাটির তৃতীয় স্থানে থাকা শামীমা সুলতানা বারী ও পঞ্চম স্থানে থাকা মনিরুল আলমকে বাদ দিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানের আফিফা বেগম ও ১৫তম অবস্থানের মিজানুর রহমানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ আফিফার ক্ষেত্রে দুজন ও মিজানের ক্ষেত্রে ১০ উপ-পরিচালককে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের ৭ মার্চ শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়। তালিকায় এক থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করে কমিটি, যেখানে মিজানুরের নাম ছিল না।
অমিয়/