ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা সাতচল্লিশের অস্বাভাবিকতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছি প্রাচ্য-প্রতিচ্যের দ্বন্দ্ব ও সমকালীন চিন্তার বহুমাত্রিক পাঠ সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানার মালিকের কারাদণ্ড মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬ দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে কোরিয়ার চেকমেট টেকনাফ সীমান্তে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক টিভিতে আজকের খেলা সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০ দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড় আধুনিক বাজেট বনাম ইসলামের বায়তুল মাল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে জিদানের ঢুস কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ! বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ জুয়ার পূর্বাভাস, ভাঙতে পারে সব রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে ১২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ ১২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইস্পাত রক্ষণ প্রাণে আলমিরন ফুটবলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতি? প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য
Nagad desktop

স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় গণভোট নিয়ে প্রচারণার নির্দেশ

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় গণভোট নিয়ে প্রচারণার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোট নিয়ে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

একই সঙ্গে দুই অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা দপ্তরগুলোকেও এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত পৃথক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণভোটের লোগো সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সব যোগাযোগ ও দাপ্তরিক চিঠিপত্রে গণভোটের লোগো ব্যবহার করতে হবে।

মাউশি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পৃথক দুটি চিঠি গতকাল সোমবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি মাউশি’র সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সব সরকারি যোগাযোগে (পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ইত্যাদি) নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত গণভোটের নির্ধারিত ‘লোগো’ ব্যবহার করতে হবে।

এ ছাড়া অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও দপ্তরে অন্তত ২টি করে খাড়া ব্যানার প্রতিষ্ঠানের সম্মুখভাগে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে, একই তারিখে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত নির্দেশনার এক চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই বার্তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই প্রচারণা চালাতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ উল্লিখিত রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের রায় নিতে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদ সীমা, জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

সচেতনতামূলক ব্যানারে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে, ‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে।

সুমন/

কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কৌশলের ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ণ ও বন্ধ কলকারখানার জন্য সহজ শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে ১০ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।  

গত এক দশকে কৃষি খাতে মোট মূল্য সংযোজনের অংশ কমলেও শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময়ে কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, বিপরীতে শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদামাফিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে কর্মসংস্থানের কাঠামোগত ভারসাম্য আনা হবে।

এ ছাড়া, ক্রিয়েটিভ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল, দক্ষ এবং টেকসই কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যা আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন বাজেটে।

বাজেট বক্তৃতায় ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এ খাতকেও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হিসেবে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আর্ট, সংগীত, থিয়েটার ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে বিশেষায়িত জোন গড়ে তুলে এ খাতের শিল্পী-কলাকুশলীদের জীবনমান উন্নয়ন ও জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছরে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ!

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ!
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্সে চলে অর্থনীতির একটি বড় অংশ। প্রত্যেক সরকারই এই রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য মুখিয়ে থাকে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, দালালমুক্ত অভিবাসন, প্রবাসীদের সমস্যা নিরসনে মন্ত্রণালয়ে ডেস্ক চালু, প্রবাসী কার্ড চালুসহ নানা পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু তার মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেট প্রস্তাবনায় ৫১ কোটি টাকা কমে যাওয়ায় মন্ত্রী হতাশ হয়েছেন। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বরাদ্দের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ৫১ কোটি টাকা কম দেওয়া হয়েছে। 

শ্রমবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে এখন জেনেভায় অবস্থান করছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনে খবরের কাগজকে তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়ানো দরকার। সেখানে চলতি বাজেটের তুলনায় ৫১ কোটি টাকা কমিয়ে দেওয়ায় প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন তিনি। দেশে ফিরে তিনি এ বিষয়টি দেখবেন এবং বাজেট অধিবেশনে সেটা বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, এটি প্রস্তাবিত বাজেট, তাই বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। 

এদিকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাও সরকারের লক্ষ্য। নুর বলেছেন, এই সেক্টর নিয়ে বাজেট বক্তৃতায়ও নানা উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া–এই দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই অর্থাৎ গত মার্চে প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।

রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে পেশাভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। অর্থ বিভাগের অধীনে ‘স্কিল ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর  আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার জনকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক মাঝারি হতে উচ্চতর দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি জানান, বাংলাদেশি শ্রমিকপ্রধান দেশের দূতাবাসগুলোতে বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টার জেলে থাকা, নিগৃহীত বা প্রতারিত কর্মীদের উদ্ধার, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া দেশে ফেরত প্রবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বিদেশে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সহজতর করা হবে।

‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং আরও ৫০টি উপজেলায় নতুন ৫০টি টিটিসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান  প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনকে দক্ষ ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোপ, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে এবং এ কার্যক্রমের আওতা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য বরাদ্দ বাড়েনি। পরিচালন ব্যয় কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও অন্তত তিন গুণ কমানো হয়েছে উন্নয়ন ব্যয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট পেশ করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে দুদকের জন্য মোট বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১৮৭ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বাজেট প্রস্তাবে দুদকের বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে দুদকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০৩ কোটি টাকা। চূড়ান্ত বরাদ্দে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ১৬৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে ৩৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর কারণ হিসেবে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছিল, দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই উন্নয়ন খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন বরাদ্দের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বলা হয়েছিল, দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সব জেলায় ১৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘মহানগর বা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’ সব উপজেলায় ৯ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পুনর্গঠন ও পরিচালনা এবং ইউনিয়ন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম আগে থেকেই চলমান, তবে এবারই প্রথম ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা এ নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং গণসচেতনতা গড়ে তোলার কাজে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে স্ব স্ব কর্ম-এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন- স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগী হিসেবে সততা সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হবে। শিক্ষার্থীদের সততাচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ নামে বিক্রেতাবিহীন স্টোর চালু করা হবে। সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করতে গণশুনানি কার্যক্রম চালু রাখা হবে। তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। ওই সব কর্মকাণ্ডের ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন নিয়ে নানা রকম বিতর্ক রয়েছে।  

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটে দুদকের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১১৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ১৫৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১৪৭ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব। বিনিয়োগ বাড়ছে না, কর্মসংস্থান নেই। ব্যবসায়ে খরচ বেশি। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, জ্বালানির বাড়তি দাম–এমন হাজারও সংকটে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ছক কষেছেন। এসব ছক বাস্তবায়ন করতে বাজেটের আয়, ব্যয়, ঘাটতিসহ প্রায় সব হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্ক প্রাক্কলন করেছেন। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছি। এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি। এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে প্ল্যান বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। প্রায় দুই দশক পর বাজেট দিয়ে আবারও যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি সরকার। 

তলিয়ে যাওয়া অর্থনীতি ভাসিয়ে তুলতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করেছেন। অর্থায়নে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবারে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে বাজেট দিয়ে বাস্তবায়নের সূত্র আঁকতে গিয়ে অর্থ জোগাড়ে অনেক খাতে নতুন কর আরোপ করেছেন। রাজস্ব-জাল বিছিয়ে আটকে ফেলার চেষ্টা করেছেন। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে সুফল মিললেও আগামী অর্থবছরে হিসাব মিলবে না অনেক খাতে। আর এতে পুরো অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়বে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্য়য় জোগাড় করা আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। 

অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অর্থমন্ত্রী সংকটেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বপ্ন দেখেছেন, বাজেটে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। হিসাব মিলবে তো!
তবে অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ–অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, যা এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ–অর্থনীতির উত্তরণ, যা বর্তমান সরকারের এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপ–সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’

অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৬৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 

চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় হাজারের বেশি পণ্যের দাম ও সব খাতে খরচ বাড়বে। দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে অবশ্যই ই-টিআইএন নিতে হবে। আবার সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবেও ই-টিআইএন জমা দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার (ধারণক্ষমতা ৫ হাজার লিটারের নিচে), আমদানি করা মোটরগাড়ি, সাইকেল ও ওয়াশিং মেশিনের ওপরও কর বাড়ানো হয়েছে। স্মার্ট ঘড়ি, সোনার বার, মধু, আমদানীকৃত ইট, ব্লক, টাইলস ও সিরামিক, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রিচার্জেবল ও রিমোট কন্ট্রোল ব্যাটারিসহ হাজারের বেশি পণ্যের ওপর কর বসানো হয়েছে। এসব পণ্যের দাম বাড়বে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। আগামী পাঁচ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অনেক রকম পরিকল্পনার কথা বলেছেন। কিন্তু বড় ব্যবসায়ী, বড় প্রতিষ্ঠান ও বড় জায়গা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা আনেননি। 

তিনি আরও বলেন, অনেকে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে জীবন চালান। এই মানুষটিকে কেন করজালে আনা হলো। আবার গ্রামের একজন সাধারণ মানুষকেও ১ জুলাই থেকে ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে ই-টিআইএন নিতে হবে। এটা ওই সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য হয়রানির হবে। অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া গেলেও আগামী অর্থবছরে সাধারণ মানুষকে হয়রানিতে ফেলবে। সরকারের আয় বাড়াতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ছাড় দিলেও ছেড়ে দিলেন না। সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্টির চেষ্টা করেও অনেক কিছুর দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন। বলা যায়, অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকারকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। 

নানা রকম সংকটেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্যের দাম কমিয়েছেন। এর মধ্যে মোবাইল সিম, দেশীয়ভাবে তৈরি মোবাইল সেট, ক্যানসারের ওষুধও আছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে। আমদানি করা কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ শতাধিক পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিশেষ খাতে বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রেল ও মেট্রোতে সিনিয়র নাগরিকদের (৬৫ বছর) টিকিটে ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেও নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানাপোড়েনের অর্থনীতিতেও ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা, রাজস্ব ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার হিসাব কষেছেন। অর্থমন্ত্রী শিল্পের অনেক খাতে উৎসে কর কমিয়েছেন। গত ১৬ মাসের মধ্যে মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানো হয়েছে। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট দিয়েছেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বাজেটে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব ও অনুদান ধরেছেন ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং বিদেশি অনুদান ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরেছেন ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ও বৈদেশিক সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে (অনুদান বাদে) ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 
ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ১৫ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। 
সরকারের প্রথম বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা শতাংশের হিসাবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য না বলেই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি বিরাজ করছে। যেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর উচ্চসুদের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমাবে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
 
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ব্যয় ও বরাদ্দ বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে বর্তমান অর্থনীতির সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছেন। জনতুষ্টির জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাজেট নিয়ে অনেকে বাহবা দিলেও বাজেট অবাস্তব ও উচ্চাভিলাষী।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বাজেটে অনেক নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারপ্রধান এসব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থ লাগবে। আর তাই সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হয়েছে।
 
টানাপোড়েনের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, ‘ব্লু ইকোনমি’, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো খাতে একাধিক বিশেষ তহবিল ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা তহবিলের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে এবং কৃষি খাতেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। নতুন পদক্ষেপ হিসেবে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি বাড়িয়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় বেতন কাঠামোতে বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, বরাদ্দ ও গুরুত্ব বাড়ালেও বাজেটে বাস্তবায়নে কঠোরতা আনা হয়নি। অতীতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত গিয়েছে, খরচ হয়নি¬–এমন নজির আছে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সফলভাবে আয়োজন করেছে তাদের উদ্বোধনী প্যানেল ডিসকাশন ইভেন্ট “আনস্ক্রিপ্টেড ১.০”।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিইউপির স্বাধীনতা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।

বাংলাদেশের মিডিয়া ও বিনোদন জগতের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে একত্রিত করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জনসম্মুখে কাজ করার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও অকপট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

“একজন ক্রিয়েটরের মনে কী চলে?”—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ এমন একটি পরিসর তৈরি করে, যেখানে সাফল্যের বাহ্যিক গল্পের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রভাব এবং পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে নির্ভার আলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এমসিসির সাধারণ সম্পাদক শানজিন সাইমা শারিতা এ ভাবনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এছাড়া ক্লাবের সভাপতি নিগার ইসরাত এবং অনুষদ মডারেটর প্রভাষক ইসরাত জাহান ঐশী বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইমা ফেরদৌস কথা ও সায়রা নূর। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন মুস্তাক শাহরিয়ার শুভ ও তানজিমা নুসরাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক, পিপিএম, পিপিএমএস, পিএসসি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেলিস্টদের স্বাগত জানান এবং এমসিসি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ আয়োজনে অংশ নেন—

যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা
ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘অপূর্ব শাহ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মেহেদী হাসান অপূর্ব
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাবিলা নূর
চ্যানেল আইয়ের ব্রডকাস্টার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী

আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিক

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে মিডিয়া জগতে প্রবেশের চ্যালেঞ্জ, অনলাইন সমালোচনা মোকাবিলা, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ব্যক্তিত্বের পার্থক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দীপ্তি চৌধুরী জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা প্রসঙ্গে বলেন, ভাগ্য সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তা।

মেহেদী হাসান অপূর্ব তরুণ ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শিক্ষাজীবনে ভুল করতে ভয় না পেয়ে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। নিজের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু প্রক্রিয়াটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”

আহমেদ রেজা আত্ম-অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা। তিনি জানান, নিজের কথা বলার দক্ষতাকে চিনতে পেরে বিতর্কচর্চার মাধ্যমে তা বিকশিত করেছেন।

সাবিলা নূর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি তরুণদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

সমাপনী পর্ব

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক প্যানেলিস্টদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় একটি সম্মিলিত ফটোসেশন।

‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’ ছিল এমসিসির প্রথম বড় প্যানেল ইভেন্ট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) সম্পর্কে

বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাব (এমসিসি) হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধীন পরিচালিত একটি শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠন। ক্লাবটি একাডেমিক শিক্ষা ও দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল এবং মূলধারার মিডিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকাশ, পেশাগত বিকাশ এবং শিল্প-সংযোগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে।

এসএন/