ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

সিলেটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারে বিধি লঙ্ঘন, শাস্তি নিয়ে বিভ্রান্তিতে প্রশাসন

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
সিলেটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারে বিধি লঙ্ঘন, শাস্তি নিয়ে বিভ্রান্তিতে প্রশাসন
ছবি: মামুন হোসেন

সিলেট নগরীর একজন সাধারণ ব্যবসায়ী মওদুদ আহমেদ। তার জিজ্ঞাসা, ‘সারা সিলেট নগরীর জুড়ে গণভোটে হ্যাঁ এর প্রচারে বিশাল বিশাল পিভিসি ব্যানার, বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সকল সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সামনে বড় বড় পিভিসি ব্যানার করা হয়েছে। এই গণভোট যদি ত্রয়োদশ জাতীয়  নির্বাচনের অংশ হয়, তাহলে কেন গণভোটে হ্যাঁ এর প্রচারে নির্বাচনি আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। আমরা জানি নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি তফসিল ঘোষণার পর থেকে সবাইকে মানতে হয়। এবং নির্বাচনি আচরণবিধিতে বলা হয়েছে অপচনশীল পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। তাহলে আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাই, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর গণভোটে হ্যাঁ এর প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের কেন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না।’

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট নগর শাখার সভাপতি তানজিনা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দুটোতেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ভোটের প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘন মূলত অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রকাশ। এখানে ক্ষমতা যার বেশি আচরণবিধি ভাঙার প্রবণতা তত বেশি। এই পরিস্থিতি লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডের জন্য ক্ষতিকর। গণভোটে সরকারের ভূমিকা বিতর্কিত৷ ভোটের ময়দানে রাষ্ট্র কোনো পক্ষ অবলম্বন করতে পারে না। সরকার যখন সরাসরি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয় তখন জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশ নষ্ট হয়৷ আবার জনগণ যদি না ভোট দেয়, তাহলে চূড়ান্ত ফলাফলে সরকার সেটা ম্যানুপুলেট করবে না সেই গ্যারান্টি নাই। ফলে সরকারের ভূমিকা গণভোটের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে৷’  

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তাই সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের প্রচার প্রচারণা শুরু চলছে জোরেশোরে। এই প্রচার প্রচারণায় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা যেভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন- সেভাবে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণাও লঙ্ঘন করা হচ্ছে আচরণবিধি। সিলেটের প্রায় সব সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা বিশাল বিশাল রঙিন ও পিভিসি ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ভোট প্রদানের আহ্বান জানাতে পারবেন না মর্মে গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরও সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে করা হচ্ছে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা। 

এদিকে গণভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে আছে সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার পিংকি সাহা খবরের কাগজকে বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট তো আচরণবিধিতে পড়ছে না। গণভোটের প্রচারের ক্ষেত্রে তো ব্যানারের সাইজ ঠিক করে দেওয়া হয়নি।’

কিন্তু গণভোটের অধ্যাদেশে বলা হয়েছে নির্বাচনের আচরণবিধিই গণভোটের আচরণবিধি তাহলে গণভোট কেন আচরণবিধিতে পড়বে না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আচরণবিধিতো প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য। কোনো প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল হ্যাঁ ভোটের প্রচারণার জন্য কালার পোস্টার ব্যানার করলে সেটা আমরা দেখব।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য নির্দেশ এসেছিল। সেজন্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল ছাড়া সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের ব্যানারে প্রচারণা করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কিন্তু কালার করা যাবে না বা পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না বলে তখন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সরকার যখন যে রকম নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই পালন করছি। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচার করবে, আবার নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রচার করতে পারবে না। সেজন্য আমরা একটা কনফিউশনের মধ্যে আছি। এটা ক্লিয়ারিফিকেশনের জন্য তো সময় দিতে হবে আমাদের।’

সহকারী রিটার্নিং অফিসার পিংকি সাহা বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর সমর্থকদের জন্য। এখন এই আচরণবিধির জন্যতো আমি সরকারি দপ্তরকে জরিমানা করতে পারবো না। এক রকমের সিদ্ধান্ত প্রথমে এসেছিল, এখন ইসি আরেক রকমের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। এখন আপনাকে আপনার মা দিলো একরকম ইন্সট্রাকশন, তিনদিন পরে বাবা বললো না এটা করা যাবে না সেক্ষেত্রে এটার ক্লিয়ারিফিকেশন তো দুজনকে বসিয়ে নিয়ে করতে হবে। যে আমি কি করব আর কি করব না- ওই সময়টুকুতো দিতে হবে।’

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। অপচনশীল দ্রব্য (যেমন- রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাইবে না। কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহে, এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিক্সা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিট্যাক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাইতে পারবেন না। ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ, এবং প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়া গণভোটের অধ্যাদেশের ২১ নম্বর পয়েন্ট বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ধারা ২১ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে কেবল অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি কোনোভাবেই ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানাতে পারবেন না। সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণভোটের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এটি গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং আরপিও, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

গত বছরের ৫ নভেম্বর জারি করা গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, গণভোটে আরপিও এবং আচরণবিধি যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হবে। আচরণবিধির লঙ্ঘন হলে আরপিও অনুযায়ী সাজা হবে। আরপিওর ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পদমর্যাদার অপব্যবহার করলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। 

অপরদিকে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করছেন, নির্বাচনি আইন প্রতিপালনে সকলকে বাধ্য করার কথা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের। কিন্তু সেটা না করে এখন দেখা যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরাই আইন ভাঙছেন। 

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘গণভোট যদি নির্বাচনের অংশ ধরা হয় তাহলে এতে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য আপনি কাউকে চাপ প্রয়োগ বা প্রভাবিত করতে পারবেন না। যদি আপনি কাউকে চাপ প্রয়োগ বা প্রভাবিত করেন তার মানে এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। এবং এটা বুঝতে রকেট সায়েন্স লাগে না। যেকোনো বোধক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ এটা বুঝতে পারে। একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ এসেও যদি একটি জাতীয় নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চা না করতে সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করা হয় এটা দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, তার ওপর গণভোটে হ্যাঁ এর প্রচারে বিধি লঙ্ঘন করে পিভিসি ব্যানার বিলবোর্ড ব্যবহার করাকেও দায়িত্বশীলরা বলছেন এটা আচরণবিধিতে পড়ছে না। কিন্তু গণভোটের অধ্যাদেশের ২১ নম্বর পয়েন্ট স্পষ্ট বলা হয়েছে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে। তাহলে কেন নির্বাচনি প্রশাসন বলছে- হ্যাঁ ভোটতো আচরণবিধিতে পড়ছে না। মূলত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে ভোট প্রদানের বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাংঘর্ষিক নির্দেশনার কারণে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে দায়িত্বশীলরা দায়সারা কাজ করছেন।’

অমিয়/

ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে আংকারা সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক ও বাংলাদেশ। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়েও ঢাকার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কী মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া গতকাল বিকেলে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে আরও বাড়াতে চাই। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এটি বাড়ানো যায় তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন না নেওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতে কী ধরনের সহযোগিতা বাড়ানো হবে তা তুরস্কের মন্ত্রী জানাননি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বিস্তৃত সহযোগিতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এটি গ্লোবাল সাউথের একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ নিজ কাঁধে এক বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। দুর্ভাগ্যবশত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র মানবতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ প্রদর্শন করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরাও এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য নিবিড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এ সময় ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অভিন্ন ইচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির সময় নাশকতার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ঠেকাতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ভূমিকা পালন করে যাবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিসহ (পিটিএ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক চলাকালে তুরস্কের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ড. খলিল বলেন, ‘আমরা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানাই এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’

মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি, পারস্পরিক লাভজনক বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলাদেশ।

ড. খলিল আরও বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, হাকান ফিদান ভাইয়ের এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী দিনে সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয় দেশ যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে জানিয়েছি এবং সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিবিরগুলোতে পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালটিও ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা চলমান থাকবে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শরণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাকান ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন রোহিঙ্গারা তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হলে তা বড় ধরনের গণ-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিমেন্টের মতো নরম, ঠাণ্ডা ও সহনশীল। কিন্তু তারা গর্জে উঠলে ৫ আগস্ট ঘটিয়ে দিতে পারেন। শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে। গ্রাহকরা জীবন দেবেন, কিন্তু লুটেরাদের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন কাকে বলে এবং কত প্রকার, তা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিন। শুধু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরাই আপনাদের তা দেখিয়ে দিতে পারবেন। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ থেকে সরে আসুন।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কারও ব্যক্তিগত বা সরকারি টাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি জনগণের অর্থ এবং কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ ঠিক রাখা আপনার দায়িত্ব। আপনার পাশে থেকে যারা তোষামোদ করছেন, তারা রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে জানেন না।’

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনাদের অনেক এমপি, কিন্তু কোথাও দেখলাম না হাম নিয়ে কথা বলতে। শুধু নতুন নতুন ইশতেহার দিচ্ছেন, বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাস্তব জীবনে কোনো ভালো কাজে তাদের দেখা যায় না।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এরশাদ ঢাকার বুকে গাজীপুরে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ্য করতে পারেননি। সেটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ায় সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরই তার পতন হয়েছে, যা করেন করেন, ইসলামির গায়ে হাত দেবেন না। ইসলামি নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে তাদের বাসায় গিয়ে চা খেতেন। পুলিশকে ম্যানেজ করে ঝটিকা মিছিল করতেন। জামায়াত এ ধরনের আন্দোলন করবে না। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ পরিহার করে সঠিক পথে ফিরে আসুন। অন্যথায় আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।’

জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জামায়াতকে হিংসা করেন। আজ আমরা যে কাজ করলাম, সেটিও আপনাদের সহ্য হচ্ছে না। জামায়াতকে সহযোগিতা করুন। জামায়াত দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ বদলে যাবে।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, যুব বিভাগের সহসভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানার আমির মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ
প্রতীকী ছবি

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে মব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে এ ধরনের ৬৯টি ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭১ জন।

গত ৩১ মে প্রকাশিত এমএসএফের মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, মব হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মব হামলায় নিহত হন ২১ জন এবং আহত হন ৪৯ জন। মার্চে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ এবং আহত ৩১ জন। ফেব্রুয়ারিতে প্রাণ হারান ১৮ জন, জানুয়ারিতে ২১ জন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নিহত হন ১০ জন।

মব সহিংসতা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিন্তু প্রাণহানি কমেনি। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে। গত ১০ মে পুলিশ সপ্তাহের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রয়োজন হলে মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

এমএসএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে মব হামলার ঘটনায় মানুষের নিরাপত্তাবোধ প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। 

মে মাসে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন চুরির অভিযোগে, ৪ জন বাগবিতণ্ডার জেরে, ২ জন ডাকাতির অভিযোগে, ২ জন ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে, ২ জন বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে এবং বাকিরা অন্যান্য অভিযোগে জনরোষের শিকার হন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মব হামলায় আহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১২ এএম
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন
ছবি: সংগৃহীত

আবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিমানবন্দরের কার্গো শেডে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এছাড়াও প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও নিরূপন করা যায়নি।

এসএন/

শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০৪ এএম
শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন
শূন্যরেখায় নারী-পুরুষ-শিশু। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ৬ শিশুসহ ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার তীব্র চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও সতর্ক পাহারার মুখে বিএসএফের এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইনের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিএসএফ সীমান্ত থেকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিলেও দুদিন ধরে ৬ শিশুসহ ওই ২৮ জন অসহায় নারী-পুরুষ সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর অবস্থায় দিন পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র রোদ, রাতের ঠাণ্ডা আর বৃষ্টি এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তাদের স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার চিত্র নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশইনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক প্রবণতা। বেশ কয়েক দিন ধরেই এই অপচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী দমনের নামে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাভাষী মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

গত কয়েক দিনে ঝিনাইদহ, যশোর, কুড়িগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একাধিকবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে আরও ৬০ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার ভোররাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) আওতাধীন বড়বাড়ি বিওপির সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষকে কাঁটাতারের গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে সরে যায়। বর্তমানে তারা শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন। ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে টহল জোরদার রয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক তিনটি সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

বিজিবি সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন (৩ পুরুষ, ৮ নারী) এবং পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জনকে (৫ পুরুষ, ৫ নারী) বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি দ্রুত গিয়ে তা প্রতিরোধ করে। একই দিন ভোর সাড়ে ৫টায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৯২৫ এবং ৯২৭/৭-এস-এর কাছে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্তে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবি মাইকিং করে সতর্ক করলে তারা ভারতের ভেতরেই বিচরণ করতে থাকে। 

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৮ নম্বর পিলার এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ভারতীয় ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা এই ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেন। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তবে পাশের হাঁপানীয়া বিওপির টহল দল তাদের শূন্যরেখায় আটকে দেয়। বর্তমানে তারা ৩৭ নম্বর পিলার এলাকার শূন্যরেখায় রয়েছেন। দুপুরে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলা হলেও তারা এই ১৭ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিজিবি অধিনায়ক স্পষ্ট জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকেই বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, সীমান্তে বিএসএফের সহায়তায় পুশইনের দুটি পৃথক চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, গত বুধবার বিএসএফ পুশইনের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরের রাতেই সীমান্তে প্রত্যক্ষ পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়, যা বিজিবির কারণে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ গত রাতেও জিরো লাইনে সন্দেহভাজন চলাচল দেখায় বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী মিলে সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেয়। 

জানা গেছে, এর আগে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েক দফায় অর্ধশতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়, যাদের অধিকাংশকেই বিজিবির তৎপরতার কারণে বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একইভাবে যশোরের পুটখালী সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে নারী ও শিশুদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার সময় বিজিবি তাদের আটক করে। আটকা পড়া এই মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে দিনমজুর, রাজমিস্ত্রি বা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। 

এই পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা বারবার দিল্লির কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, ভারত যদি মনে করে কোনো ব্যক্তি সেখানে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তবে তাকে জোরপূর্বক সীমান্তে পুশইন করা যাবে না। শনাক্ত হওয়া যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত পার করে দেওয়ার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফেরত পাঠানো উচিত। বাংলাদেশ সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, ভারত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সীমান্ত চুক্তি বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশুকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৫-আর পিলারের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা দ্রুত বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই পুশইনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ওই ২৮ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেন। 

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গত বৃহস্পতিবার প্রথমে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পতাকা বৈঠকে তারা পুশইনের বিষয়টি স্বীকার করে নেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই ২৮ জনকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হয়নি। জানা গেছে, বর্তমানে ওই ২৮ জন শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সবাইকে ভিজতে দেখা গেছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিজিবির রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিএসএফের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের জানানোর কথা ছিল। তারা আমাদের জানালে আমরাও আমাদের করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কিছু জানায়নি। এমন অবস্থায় সীমান্তে রাতদিন সার্বক্ষণিক নজরদারি ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইন বন্ধের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ঢাকা ভারতকে স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, প্রটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করলেই তাকে সরাসরি সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি বিধি ‘ট্রাভেল পারমিট’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি বিধি অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে বা অবস্থান করলে তাকে ফেরত পাঠানোর একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমত, ভারতে কোনো ব্যক্তি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক হলে দেশটির প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। আদালতের প্রক্রিয়া চলাকালীন বা রায়ের পর ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ বা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য অনুরোধ জানাতে হবে। এরপর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও জাতীয়তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই (ভেরিফিকেশন) করবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় ওই ব্যক্তি প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের নাগরিক, কেবল তখনই বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে একটি আনুষ্ঠানিক ‘ট্রাভেল পারমিট’ বা বিশেষ ভ্রমণ অনুমতিপত্র ইস্যু করবে। এই ট্রাভেল পারমিট ইস্যু হওয়ার পর দুই দেশের সীমান্ত প্রটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট চেকপোস্ট বা ল্যান্ড পোর্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর মানব পাচার প্রতিরোধ চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো নারী বা শিশু পাচারের শিকার হয়ে ভারতে গিয়ে থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের বিশেষ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভারতের ওপর বর্তায়।

কিন্তু বিএসএফ এসব আইনি বিধির তোয়াক্কা না করে আইনি চ্যানেলের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে রাতের অন্ধকারে বা সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জোরপূর্বক পুশইনের সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নিচ্ছে। এই একতরফা নীতির কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে আটকে থাকা ২৮ জনের কান্নায় জিরো লাইনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ৬টি শিশুর কান্না আর নারীদের আকুতি স্থানীয় সীমান্তবাসীকেও ব্যথিত করে তুলেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, বিচারহীনভাবে কোনো মানুষকে এভাবে জিরো লাইনে বন্দি করে রাখা এবং মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।