তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ময়মনসিংহে শ্রমজীবী মানুষের কাজের গতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদ আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও কৃষকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাঠে বা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে বাইরে বের হলেও অনেকেই গরমে ক্লান্ত হয়ে ঘন ঘন বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের কাজের গতি কমে গেছে। অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। যারা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ডাবের পানি, তালের শাঁস ও দোকান থেকে ঠাণ্ডা পানি কিনে খাচ্ছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে বিভিন্ন এলাকায় কিছুক্ষণ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। এ সময় তাপমাত্রা কিছুক্ষণের জন্য কমলেও পরক্ষণেই রোদ ওঠে। এতে ধীরে ধীরে আবারও তাপমাত্রা বেড়ে জনজীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।
শহরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘রোদ এত বেশি যে, রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। একটু পরপর পানি খেতে হয়। আগের মতো কাজও করতে পারছি না।’
নির্মাণশ্রমিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোদে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে আসে। কিন্তু কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে স্বস্তিতে কাজ করতে পারি।’
তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, গরমের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। গরমে কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে। গরমে জমির মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় সেচের খরচও বেড়েছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘দুপুরের দিকে মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তারপরও ফসল বাঁচাতে মাঠে যেতে হচ্ছে। আজ কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার পর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তবে আবারও রোদ উঠায় গরম অনুভূত হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’