ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি সোনারগাঁয় কাভার্ডভ্যান উল্টে চালক নিহত ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২ মাদককারবারিকে পুলিশে দিলো জনতা ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই: জুয়েনা শবনম টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি! গাংনী সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা ‘রকস্টার’ যেন মাদকের বিজ্ঞাপন নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ ৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫ অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে বেরোবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Nagad desktop

নাটকীয়তায় ভরা প্রাণবন্ত সংসদ

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
নাটকীয়তায় ভরা প্রাণবন্ত সংসদ
ছবি: সংগৃহীত

দেড় বছরের বেশি সময় বিরতির পর আবারও সচল হয়েছে দেশের আইনসভা। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সংসদ অধিবেশনের সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা, দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব, রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদের ভেতরে-বাইরে বিরোধী দলের প্রতিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউট–সব মিলিয়ে সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশন ছিল নাটকীয়তা ও উত্তেজনায় ভরা। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর এবারই প্রথম স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখে শুরু হয় নতুন এই সংসদের যাত্রা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে তারেক রহমান প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেন। এরপর বেলা ১১টা ৫ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এরপর সূচনা বক্তব্য দেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু সংগ্রাম, আন্দোলন এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সংসদের যাত্রা শুরু হলো। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদকে তিনি যুক্তি-তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। 

প্রথম বৈঠকেই কণ্ঠভোটে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের পর অধিবেশন স্বল্প সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়। এরপর সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম আবার শুরু হয়। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিকার পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী ঘোষণা করেন। এতে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মইন খান, মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং এ টি এম আজহারুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যেন কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের মঞ্চে পরিণত না হয়। অতীতে অনেক সময় সংসদে জনস্বার্থের আলোচনার চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ দাঁড়িয়ে আছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের ওপর। সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে সংসদকে কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে বলেন, এই সংসদ সেই আত্মত্যাগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শহিদদের রক্তের সঙ্গে কেউ যাতে বেইমানি না করে–এটাই এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

ভিভিআইপি লাউঞ্জের অতিথি
প্রথম অধিবেশনে ভিভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, জুবাইদার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দবানু, কন্যা জাইমা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী শামিলা রহমান সিঁথি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শহিদ গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদকেও অতিথি হিসেবে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

শোকপ্রস্তাব ও বিতর্ক
অধিবেশনের প্রথম দিন রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বহু সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। আলোচনার পর প্রয়াতদের স্মরণে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। 

অধিবেশনে তোলা শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম। শোক তালিকায় মানবতাবিরোধী অপরাধীর নাম যুক্ত করা নিয়ে সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কারণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ তাদের দণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। শেষ পর্যন্ত শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন
নতুন সংসদের সামনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে। জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এদিকে জুলাই সনদের সমঝোতা অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে একক কোনো পদ নয়, বরং পুরো ‘প্যাকেজ’ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় বিরোধীরা। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের শুরুতেই এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তেজনা
অধিবেশন ঘিরে সংসদের বাইরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা যায়। সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাষ্ট্রপতির অভিশংসন, গণভোট অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি থেকে সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করার আহ্বানও জানানো হয়।

বিকেলে অধিবেশনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সরকারদলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা এ সময় প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। 

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর আগেই বিরোধীদলীয় সদস্যরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। তারা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার’, ‘গেট আউট’সহ নানা স্লোগান দেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং সংসদের রেওয়াজ অনুসরণ করা সবার দায়িত্ব।

একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। সংসদ কক্ষে প্রায় ৫ মিনিট বিক্ষোভের পর তারা কক্ষ ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে বিকেলের দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। ওই দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় কার্যদিবস শুরু হবে।

সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি
ছবি: খবরের কাগজ

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৪ অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, এ সময় মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া এবং ফরিদপুর অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিমে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়া দেশের রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, বরিশাল, টাংগাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং মাদারীপুর অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আমান/

৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বিইআরসির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল।

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিইআরসি একটি জুডিশিয়াল অথরিটি বা আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান। তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।’

ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপ প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ সকল আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া  ‘গত এক থেকে দেড় দশক ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি করা হয়েছে, তা আপনাদের সামনেই ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে এনে সুস্থ ধারায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে।’

আমান/

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু মশার লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলন, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ। যার নাম হেমোরোজিক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে হতে পারে রক্তক্ষরণও। সুতরাং আগে থেকেই সচেতন হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপে এসেছে ডেঙ্গুর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।’

জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও জানান প্রশাসক আবদুস সালাম।

আমান/

এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এআই ক্যামেরার ট্রাফিক জরিমানার নামে প্রতারক চক্রের ছড়ানো ভুয়া এসএমএস ও লিংক সম্পর্কে নগরবাসীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

গত ২৪ মে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্রতারিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইদানিং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ব্যাপারে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসী এসএমএস পাচ্ছেন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, প্রাপ্ত এসব এসএমএস সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এআই বা ভিডিও মামলাসমূহ নিম্ন প্রক্রিয়ায় নিস্পত্তি করে থাকে:

১) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অমান্যকারী যানবাহনে মামলা দেওয়া হলে আপনার ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের/ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

২) কেবলমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ মোবাইল নাম্বার হতে প্রয়োজনে আপনার কাছে এসএমএস পাঠানো হবে।

৩) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক জরিমানাকৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং (উপায় এবং সিবিবিএল) এ পরিশোধ করা যায়।

৪) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনো কোনো পিনকোড, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি ইত্যাদি জানতে চায় না। ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য ডেল্টা-৩, মোবাইল নং-০১৩২০ ০৪২২০৭ ও ০১৩২০ ০৪২২২৭ এবং ৯৯৯ যোগাযোগ করুন।

অমিয়/

ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে আংকারা সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক ও বাংলাদেশ। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়েও ঢাকার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কী মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া গতকাল বিকেলে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে আরও বাড়াতে চাই। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এটি বাড়ানো যায় তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন না নেওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতে কী ধরনের সহযোগিতা বাড়ানো হবে তা তুরস্কের মন্ত্রী জানাননি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বিস্তৃত সহযোগিতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এটি গ্লোবাল সাউথের একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ নিজ কাঁধে এক বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। দুর্ভাগ্যবশত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র মানবতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ প্রদর্শন করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরাও এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য নিবিড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এ সময় ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অভিন্ন ইচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির সময় নাশকতার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ঠেকাতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ভূমিকা পালন করে যাবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিসহ (পিটিএ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক চলাকালে তুরস্কের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ড. খলিল বলেন, ‘আমরা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানাই এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’

মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি, পারস্পরিক লাভজনক বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলাদেশ।

ড. খলিল আরও বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, হাকান ফিদান ভাইয়ের এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী দিনে সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয় দেশ যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে জানিয়েছি এবং সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিবিরগুলোতে পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালটিও ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা চলমান থাকবে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শরণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাকান ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন রোহিঙ্গারা তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।