দেশে মাত্র ৫৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা তুলনামূলক বেশি উন্নত। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবিও জানান এ অর্থনীতিবিদ।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়াটার এইড বাংলাদেশ-এর হেড অব পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন ফাইয়াজ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় পিপিআরসির প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, অ্যান্ড ওয়াটার পোভার্টির প্রতিনিধি মো. ফজলুল হক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল-এর প্রতিনিধি মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ওয়াশ খাত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দেশে নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটলেও তা এখনো লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে।
তিনি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন টাকা। তবে এরপর থেকেই বরাদ্দ কমতে শুরু করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ১৪৯ দশমিক ৮১ বিলিয়ন টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ১০৯ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে।
নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশ খাতে এডিপি বরাদ্দের এই নিম্নমুখী প্রবণতা খুবই দুর্বল নীতিগত বার্তা দিচ্ছে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিরাপদ সুপেয় পানি ও নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে। এ খাতে বড় ধরনের বৈষম্যও রয়েছে।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ওয়াশ খাতে এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেন্ডার-সংবেদনশীল টয়লেট, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরং সেই বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যবহারের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), সিটি করপোরেশন এবং নগর ও গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
সাগুফতা/অমিয়/